ফেসবুকে ধান কাটার যন্ত্রের ভিডিও দিয়ে শুরু, এখন মাসে ৭০–৮০ লাখ টাকার কৃষিযন্ত্র বিক্রি
রংপুরের এক তরুণ ২১ বছর বয়সে ফেসবুকে ভিডিও দিয়ে চীনা হ্যান্ড রিপার বিক্রি শুরু করেন। কয়েক বছরে তিনজনের ভাড়া অফিস থেকে ৫৫ কর্মীর প্রতিষ্ঠান গড়ে ৪০ হাজারের বেশি কৃষকের কাছে যন্ত্র বিক্রি করেছেন।
রংপুরের এক তরুণ ২১ বছর বয়সে কৃষিযন্ত্র বিক্রির ব্যবসা শুরু করেন। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৪ সালে তিনি পলিটেকনিকে ডিপ্লোমায় ভর্তি হলেও টাকার অভাবে ২০১৭ সালে ফাইনাল পরীক্ষা দিতে পারেননি। এক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে পরিচয় হওয়া এক আমদানিকারকের চীন থেকে আনা ধান কাটার হ্যান্ড রিপার তিনি ফেসবুকে ভিডিওসহ প্রচার করেন। ধান কাটার মৌসুম হওয়ায় সাড়া মেলে; প্রথম অর্ডার আসে সিলেট থেকে, লাভ হয় দেড় হাজার টাকা। কয়েক মাসে প্রায় ৮০টি যন্ত্র বিক্রি হয়। এরপর মজুত ফুরিয়ে গেলে তিনি বিনিয়োগকারী ও আমদানিকারক খোঁজেন; এখন ১৬ জন আমদানিকারক ও বিনিয়োগকারী তাঁর সঙ্গে আছেন। ২০১৮ সালে ওয়েবসাইট চালু করে এক মাসে প্রায় ৫০০টি পাওয়ার টিলার বিক্রি করেন। সেই বছর স্ত্রীকে ব্যবসায় যুক্ত করেন; রংপুর শহরে এক রুমের ভাড়া অফিসে স্বামী-স্ত্রী ও আরেকজন কর্মী মিলে তিনজনে শুরু। এখন কর্মী ৫৫ জন, ১০ শতক জমিতে গুদাম ও বিক্রয়কেন্দ্র আছে। ২০২২ সালে সরাসরি সার্ভিসিং চালু হয়, দরকারে ভিডিও কলেও সেবা দেওয়া হয়। এখন প্রতি মাসে ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকার কৃষিযন্ত্র বিক্রি হয়, ক্রেতা ৪০ হাজারের বেশি কৃষক, পণ্য ৩৫০ ধরনের। চুক্তিভিত্তিক ভুট্টা ও আলু চাষসহ সব মিলিয়ে বছরে ব্যবসা প্রায় ১০ কোটি টাকার।
যা শেখার আছে
- ১.বড় দোকান ছাড়াই শুরু করা যায়: মৌসুমের চাহিদার সঙ্গে মিলিয়ে একটি পণ্যের ভিডিও দিয়ে আগে সাড়া যাচাই করুন।
- ২.মজুত ফুরিয়ে গেলে বিক্রি থেমে যায়; তাই আমদানিকারক ও বিনিয়োগকারীর নেটওয়ার্ক আগেভাগে গড়ুন।
- ৩.বিক্রির পর সার্ভিসিং ও ভিডিও কলে সহায়তা দিলে ক্রেতার আস্থা বাড়ে এবং ব্যবসা বড় হয়।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
