কৃষি যন্ত্রপাতির দোকান
পাওয়ার টিলার, শ্যালো ইঞ্জিন ও স্প্রে মেশিনের যন্ত্রাংশের দোকান। ২০২৪ সালের জুন থেকে ভর্তুকি বন্ধ থাকায় মেশিন বিক্রি ৮০–৯০% কমেছে, কিন্তু মাঠের যন্ত্র চলছে — তাই আয় আসে যন্ত্রাংশ থেকে।
- শেষ পর্যালোচনা: ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
- সংস্করণ ১

কৃষি যন্ত্রপাতির দোকান
- শুরুর পুঁজি
- ৳৩,০০,০০০ – ৳১৫,০০,০০০ সম্পাদকীয় অনুমান
- জনবল
- ১ – ৪ জন
- প্রথম বিক্রি
- ৩০ – ৭৫ দিন সম্পাদকীয় অনুমান
- খরচ উঠতে
- ৯ – ১৫ মাস সম্পাদকীয় অনুমান
- কাজের ধরন
- দোকান · মাঝারি কঠিন
ব্যবসাটি সম্পর্কে
পাওয়ার টিলার, শ্যালো ইঞ্জিন, থ্রেসার, স্প্রে মেশিন আর সেচপাম্পের যন্ত্রাংশ বিক্রির দোকান। এই ব্যবসার আসল টাকা মেশিন বিক্রিতে নয়, যন্ত্রাংশে। একটা পাওয়ার টিলার একবার বিক্রি হয়, কিন্তু তার ব্লেড, বেল্ট, পিস্টন, রিং, নজেল, বিয়ারিং আর গ্যাসকেট প্রতি মৌসুমে বদলাতে হয় — সেই খদ্দের বছরে চার-পাঁচবার ফিরে আসে। মেশিনের বাজার এখন খারাপ। ২০২০ সালে নেওয়া তিন হাজার কোটি টাকার কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পে সমতলে ৫০ শতাংশ আর হাওরে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ভর্তুকি দেওয়া হতো। দুর্নীতির অভিযোগে ২০২৪ সালের জুন থেকে সেই ভর্তুকি স্থগিত আছে, আর তাতে দেশে কৃষি যন্ত্রপাতির বিক্রি ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। মেটাল আগে বছরে ৫০০–৭০০টি কম্বাইন হারভেস্টার বিক্রি করত, এখন করে ১০০–১৫০টি। ভর্তুকি ছাড়া ৩২ লাখ টাকার মেশিন কেউ কিনতে পারে না, তাই কোম্পানি ৫–৭ লাখ টাকা নিয়ে বাকিটা বাকিতে ছাড়ছে। কিন্তু মাঠে ইতিমধ্যে ৪০ হাজার যন্ত্র গেছে, আর ধানের জমি তৈরির প্রায় ৯৫ শতাংশই এখন ট্রাক্টরে হয়। সেই যন্ত্রগুলো চলছে আর নষ্ট হচ্ছে। যন্ত্রাংশের দোকান চলে ঠিক এই কারণেই।
আয়-ব্যয়ের হিসাব
| খাত | পরিসর | সূত্র | সংশোধন পাঠান |
|---|---|---|---|
| মাসিক চলতি মূলধন | ৳২,০০,০০০ – ৳৯,০০,০০০ | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| বিক্রয় মূল্য | ৳১,২৬৫ – ৳৫,২৯০ / একক | বাজারদর | |
| পরিবর্তনশীল খরচ | ৳১,০১০ – ৳৪,৫০০ / একক | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| মোট লাভের হার | ১৫% – ২০% | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| প্রথম বিক্রি পর্যন্ত সময় | ৩০ – ৭৫ দিন | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| খরচ উঠে আসার সময় | ৯ – ১৫ মাস | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| নগদ চক্র | ০ – ৯০ দিন | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| অপচয় ও ক্ষতির হার | ৩% – ৭% | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা | ৩ – ১৫ | সম্পাদকীয় অনুমান |
শুরু করতে যা লাগবে
- রেঞ্চ ও সকেট সেট, ভাইস, স্লাইড ক্যালিপার, বিয়ারিং পুলার, গ্রিজ গান, আর ছোট মেরামতের জন্য বৈদ্যুতিক ড্রিল ও গ্রাইন্ডার।যন্ত্রপাতি
- পাওয়ার টিলারের ব্লেড ও বেল্ট, ইঞ্জিনের পিস্টন-রিং-লাইনার, বিয়ারিং ও গ্যাসকেট, ফুয়েল ফিল্টার ও ইনজেক্টর, শ্যালো পাম্পের ইমপেলার ও সিল, স্প্রেয়ারের নজেল-ওয়াশার-পাম্প, ইঞ্জিন অয়েল ও গ্রিজ, আর কিছু সম্পূর্ণ স্প্রে মেশিন।শুরুর মাল
- ট্রেড লাইসেন্স — পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন বা ইউনিয়ন পরিষদ। ফরম ৳১০, লাইসেন্স বই ৳৫০, আদর্শ কর ৳৩০, নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ৳১৫০–৩০০, ব্যবসার ধরন অনুযায়ী লাইসেন্স ফি ৳১০০–৬০,০০০, সঙ্গে ভ্যাট ও সাইনবোর্ড ফি। কাগজ ঠিক থাকলে ৩–৫ কার্যদিবসে হয়।লাইসেন্স
- ইঞ্জিন দেখে বা শব্দ শুনে কোন পার্ট গেছে তা বলতে পারা, আর মডেল নম্বর না জানা থাকলেও পুরোনো পার্ট মিলিয়ে ঠিক জিনিস বের করে দেওয়া। এটাই এই দোকানের আসল দক্ষতা।দক্ষতা
- ঢাকার ধোলাইখাল, বগুড়ার যন্ত্রপাতি বাজার, চট্টগ্রামের আমদানিকারক, আর এসিআই, মেটাল, আলীম ইন্ডাস্ট্রিজ, আবেদিন ও বাংলা মার্কের ডিলার নেটওয়ার্ক।সরবরাহকারী
- উপজেলা বাজার বা মহাসড়কের পাশে ২০০–৫০০ বর্গফুটের দোকান, সঙ্গে দেয়ালজুড়ে র্যাক আর ভারী পার্ট রাখার মেঝের জায়গা। সামনে একটা মেশিন দাঁড় করানোর জায়গা থাকলে মেরামতের কাজও করা যায়।কাজের জায়গা
কাজের ধাপ
- 1ধান, ভুট্টা বা সবজির বড় আবাদ এলাকার উপজেলা বাজারে দোকান দেখুন। যন্ত্র নষ্ট হলে কৃষক দূরে যেতে পারে না, তাই কাছাকাছি থাকাটাই মূল সুবিধা।
- 2পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিন এবং সাইনবোর্ড ফি দিন।
- 3নিজের এলাকায় ঠিক কোন কোন মেশিন চলে তার তালিকা করুন — কোন ব্র্যান্ডের পাওয়ার টিলার, কোন হর্সপাওয়ারের শ্যালো, কোন কোম্পানির থ্রেসার। এই তালিকা ছাড়া মাল তোলা মানে টাকা নষ্ট।
- 4ঢাকার ধোলাইখাল, বগুড়ার যন্ত্রপাতি বাজার বা চট্টগ্রামের আমদানিকারকের কাছ থেকে দর নিন। এসিআই, মেটাল, আলীম ইন্ডাস্ট্রিজ, আবেদিন ও বাংলা মার্ক — এদের ডিলারশিপের শর্তও জেনে নিন।
- 5প্রথম চালানে দ্রুত ক্ষয় হওয়া জিনিস ভরুন — টিলারের ব্লেড, বেল্ট, পিস্টন ও রিং, বিয়ারিং, গ্যাসকেট, নজেল, ফিল্টার ও ইঞ্জিন অয়েল। মেশিন কিনে বসে থাকবেন না।
- 6এলাকার মেকানিকদের সঙ্গে সম্পর্ক করুন। কৃষক মেকানিককে ডাকে, আর মেকানিকই বলে দেয় কোন দোকান থেকে পার্ট আনতে হবে।
- 7দোকানেই ছোটখাটো মেরামত বা পার্ট বসানোর ব্যবস্থা রাখুন। শুধু পার্ট বেচার চেয়ে বসিয়ে দিলে খদ্দের ফিরে আসে আর মজুরিও পাওয়া যায়।
- 8বোরো সেচের মৌসুম শুরুর অন্তত এক মাস আগে, অর্থাৎ ডিসেম্বরের মধ্যে, শ্যালো ইঞ্জিন ও পাম্পের পার্ট তাকে তুলে রাখুন। মৌসুম শুরু হলে পাইকারি বাজারেও মাল থাকে না।
- 9ভর্তুকি বন্ধ থাকায় নতুন মেশিনের চালান তুলবেন না। যতক্ষণ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ভর্তুকি আবার চালু না করে, ততক্ষণ পুরো পুঁজি যন্ত্রাংশে রাখুন।
- 10ফসল ওঠার পর, অর্থাৎ বৈশাখ ও অগ্রহায়ণের শেষে, বাকির টাকা আদায় করুন। কৃষক ধান বেচার পরেই দিতে পারে, তার আগে তাগাদা দিয়ে লাভ নেই।
মৌসুম
- জানুবেশি
- ফেব্রুস্বাভাবিক
- মার্চস্বাভাবিক
- এপ্রিলবেশি
- মেবেশি
- জুনকম
- জুলাইস্বাভাবিক
- আগস্টস্বাভাবিক
- সেপ্টেকম
- অক্টোস্বাভাবিক
- নভেবেশি
- ডিসেবেশি
কোন জেলায় ভালো
- খুব উপযোগীবগুড়া · উত্তরবঙ্গের কৃষি যন্ত্রপাতির বাজার ও লেদ-ফাউন্ড্রি শিল্প এখানেই; যন্ত্রাংশ স্থানীয়ভাবেও বানানো হয়।
- খুব উপযোগীদিনাজপুর · ধান ও ভুট্টার বড় আবাদ এলাকা, পাওয়ার টিলার ও থ্রেসারের সংখ্যা বেশি।
- খুব উপযোগীকিশোরগঞ্জ · হাওর এলাকা, বোরো মৌসুমে যন্ত্র দিয়ে ধান কাটা ও মাড়াই বেশি হয়।
- খুব উপযোগীরংপুর · ভুট্টা ও আলুর বড় এলাকা, যান্ত্রিক চাষ ব্যাপক।
- খুব উপযোগীসুনামগঞ্জ · হাওরে বোরো ধান কাটতে কম্বাইন হারভেস্টার সবচেয়ে বেশি চলে, তাই মেরামত ও যন্ত্রাংশের চাহিদা তীব্র।
- সম্ভবকুমিল্লা · তিন ফসলি জমি, মহাসড়ক ধরে সরবরাহ সহজ।
- সম্ভবফরিদপুর · পেঁয়াজ ও পাটের এলাকা, স্প্রে মেশিন ও পাওয়ার টিলারের ব্যবহার বেশি।
- সম্ভবযশোর · সবজি ও ধানের আবাদ, স্প্রে মেশিন ও পাম্পের চাহিদা নিয়মিত।
- সম্ভবময়মনসিংহ · ধান ও মাছের এলাকা, সেচপাম্পের যন্ত্রাংশের চাহিদা বেশি।
- সম্ভবনওগাঁ · ধানের বড় জেলা, সেচের শ্যালো ইঞ্জিনের সংখ্যা বেশি।
ঝুঁকি ও সাবধানতা
- বেশিচাহিদা: নতুন মেশিনের বাজার প্রায় বসে গেছে। দুর্নীতির অভিযোগে ২০২৪ সালের জুন থেকে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পের ভর্তুকি স্থগিত, আর তাতে কৃষি যন্ত্রপাতির বিক্রি ৮০–৯০ শতাংশ কমেছে। মেটালের কম্বাইন হারভেস্টার বিক্রি বছরে ৫০০–৭০০ থেকে নেমে ১০০–১৫০-এ এসেছে, এসিআইয়ের বিক্রি কমেছে প্রায় ৯০ শতাংশ আর তারা নতুন আমদানিই বন্ধ রেখেছে। যে দোকান মেশিন বিক্রির উপর ভরসা করে পুঁজি ঢেলেছে, তার মাল বছরের পর বছর পড়ে থাকবে।
- বেশিচলতি মূলধন: যন্ত্রাংশের দোকানে একই জিনিসের অনেক রকম মডেল রাখতে হয়, কারণ কোন ইঞ্জিনের কোন পার্ট চাওয়া হবে তা আগে জানা যায় না। ফলে পুঁজির বড় অংশ তাকেই ঘুমিয়ে থাকে। যে পার্টটি খদ্দের চাইল আর আপনার কাছে নেই, সেই খদ্দের পরেরবার আর আসে না — তাই কম মাল রাখাও বিপদ।
- মাঝারিবাকিতে বিক্রি: মৌসুমের ভেতরে মেশিন থেমে গেলে কৃষক বা চালকের হাতে টাকা থাকে না, তাই বাকিতে পার্ট নিতে হয় আর ধান বিক্রির পর শোধ দেয়। ফসল মার খেলে বা ধানের দাম পড়ে গেলে সেই বকেয়া পরের মৌসুম পর্যন্ত গড়ায়, আর কখনো একেবারেই ওঠে না।
- মাঝারিনির্ভরশীলতা: যন্ত্রাংশের বড় অংশ চীন ও ভারত থেকে আমদানি করা। ডলারের দর বাড়লে বা এলসি খুলতে দেরি হলে পাইকারি দাম এক লাফে বাড়ে। আর মাঠে যেসব মেশিন চলছে তার অনেকগুলোর মডেল আমদানি বন্ধ হয়ে গেলে সেই পার্ট আর পাওয়াই যায় না।
- কমআইনি বাধ্যবাধকতা: যন্ত্রাংশ বিক্রিতে ট্রেড লাইসেন্সের বাইরে আলাদা লাইসেন্স লাগে না। তবে ডিজেল, ইঞ্জিন অয়েল বা দাহ্য জিনিস দোকানে রাখলে ফায়ার সার্ভিসের নিয়ম প্রযোজ্য হয়, আর এটা অনেক দোকানদার খেয়াল করেন না।
সূত্র
সিটি কর্পোরেশন থেকে ট্রেড লাইসেন্স প্রাপ্তির ধাপ সমূহ
সংগ্রহ: ১৬ সেপ, ২০২৬যে হিসাবের সূত্র: শুরুর পুঁজি · বাংলাদেশ
কী বদলেছে
এখনো কোনো সংশোধন প্রকাশ হয়নি।
প্রশ্নোত্তর
এখনো কেউ প্রশ্ন করেননি। আপনিই প্রথম প্রশ্ন করুন।
একই রকম আরও ব্যবসা
খুচরা ও পাইকারি ব্যবসাইলেকট্রিক সামগ্রীর দোকান
তার, সুইচ, সকেট, হোল্ডার, বাতি ও ফ্যানের খুচরা দোকান। বিএসটিআইয়ের ৩১৫টি বাধ্যতামূলক পণ্যের তালিকায় ৫০টিই বৈদ্যুতিক — সনদহীন তার বেচলে জরিমানা আর দোকান সিলগালা হয়।
- পুঁজি
- ৳২.৫ লাখ – ৳১৫ লাখ
- জনবল
- ১ – ৫ জন
- প্রথম আয়
- ১৫ – ৬০ দিন
খুচরা ও পাইকারি ব্যবসাচাল পাইকারি ব্যবসা
মোকাম থেকে বস্তা ধরে চাল এনে খুচরা দোকানে বিক্রি। ঢাকায় পাইকারি মোটা চাল ৳৪৩–৪৫, খুচরা ৳৫০–৫৫ — কিন্তু পাইকারের হাতে থাকে কেজিতে ৫০ পয়সা থেকে ১ টাকা।
- পুঁজি
- ৳২.৫ লাখ – ৳১৫ লাখ
- জনবল
- ২ – ৮ জন
- প্রথম আয়
- ১৫ – ৪৫ দিন
খুচরা ও পাইকারি ব্যবসাপুরোনো বইয়ের দোকান
ব্যবহৃত বই কিনে আবার বিক্রি করা। ঢাকার পুরানা পল্টনের বাজারে পুরোনো বই বিকিয়েছে বইপ্রতি প্রায় ৳২০–৩০ দরে (মে ২০২৪)। নীলক্ষেতে দোকান ভাড়া ছিল মাসে ৳১২,০০০ থেকে ৳৫০,০০০, অগ্রিম ৳২ থেকে ৳৮ লাখ।
- পুঁজি
- ৳২.৫ লাখ – ৳৯.৫ লাখ
- জনবল
- ১ – ৪ জন
- প্রথম আয়
- ৩ – ৪৫ দিন
খুচরা ও পাইকারি ব্যবসাকসমেটিকস দোকান
ক্রিম, শ্যাম্পু, ফেসওয়াশ ও সাজসজ্জার পণ্য বিক্রির দোকান। বিএসটিআই-এর বাধ্যতামূলক তালিকায় অন্তত ১৮টি প্রসাধনী — সনদ ছাড়া বা কাগজবিহীন আমদানি করা মাল তুললে দায় দোকানদারের।
- পুঁজি
- ৳২ লাখ – ৳১৫ লাখ
- জনবল
- ১ – ৫ জন
- প্রথম আয়
- ১৫ – ৪৫ দিন
