লাখে মাসে ১,৪০০ টাকা লাভের শর্তে আড়াই কোটি, তারপর সম্পাদক উধাও
বাগেরহাটে ২০১৫ সালে গড়া একটি সমবায় সমিতি লাখে মাসে ১,৪০০ টাকা লাভের শর্তে প্রায় আড়াই কোটি টাকা তোলে; ২০২২ সালের এপ্রিলে সাধারণ সম্পাদক উধাও হয়ে যান, ঋণ হিসেবে বাইরে পড়ে ছিল প্রায় ৭০ লাখ টাকা।
২০১৫ সালে বাগেরহাট সদরের সিঅ্যান্ডবি বাজার এলাকায় কয়েকজন মিলে একটি সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি গড়ে তোলেন এবং বাজারের একটি ভবনে অফিস নিয়ে দৈনিক, মাসিক ও এককালীন বিনিয়োগ নেওয়া শুরু করেন। প্রতি মাসে লাখে ১,৪০০ টাকা লাভের শর্তে স্থানীয়দের কাছ থেকে সংগ্রহ হয় প্রায় আড়াই কোটি টাকা, যার প্রায় ৭০ লাখ টাকা গ্রাহকদের ঋণ হিসেবে বাইরে দেওয়া ছিল। একজন বিনিয়োগকারীর ভাষায়, "প্রতি মাসে ১ লাখ টাকায় ১ হাজার ৪০০ টাকা লাভ দেওয়ার শর্তে সমিতিতে ১৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছিলাম।" ২০২২ সালের ১৯ এপ্রিল থেকে সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে নিখোঁজ হয়ে যান; স্থানীয়দের ধারণা তিনি দেশের বাইরে চলে গেছেন। ক্ষুব্ধ গ্রাহক ও জনপ্রতিনিধিরা সমিতির অফিস আর এর দুটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠানে তালা লাগিয়ে দেন, একজন ভবনমালিকের ১০ লাখ আর তাঁর দুই বন্ধুর ৮ লাখ টাকাও আটকে যায়। সমিতির সভাপতি দাবি করেন, এনজিওতে চাকরির কারণে তিনি সমিতির দেখভাল করতেন না, শুধু কাগজপত্রে সই করতেন — কিন্তু গ্রাহকের চাপ সামলাতে হয় তাঁকেই।
যা শেখার আছে
- ১.সমিতির নামে উঁচু নির্ধারিত মুনাফায় আমানত নেওয়া আসলে অনিয়ন্ত্রিত ব্যাংকিং — তহবিল এক ব্যক্তির হাতে থাকলে ঝুঁকিটা সর্বোচ্চ
- ২.কাগজে সভাপতি হয়ে শুধু সই করা মানেও দায় থেকে মুক্তি নয় — ব্যবস্থাপনায় না থাকলেও গ্রাহকের সামনে দাঁড়াতে হয় তাঁকেই
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে এবং পরিচয় গোপন রেখে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। আপনিই প্রথম লিখুন।
