১১০ বছরের বেকারিতে ১৮ জন কর্মী; দৈনিক বিস্কুট বিক্রি ২৫ থেকে ৬০ কেজি, লাভ কমেছে
বরিশাল নগরের চকবাজারের একটি শতবর্ষী বেকারি ছোট দোকান ও পুরোনো কারখানা নিয়েই টিকে আছে। বিক্রি বেড়েছে, কিন্তু সব জিনিসের দাম বাড়ায় লাভ কমেছে, তবু মালিক মান কমাননি।
১৯১২ থেকে ১৯১৫ সালের মধ্যে বরিশাল নগরের দক্ষিণ চকবাজারে ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ জমি ইজারা নিয়ে হাজি ফকির চাঁন বেকারি শুরু হয়। ব্রিটিশ ও ফ্রেঞ্চ সেনাদের পাউরুটি সরবরাহ করতে গিয়ে সেনাদের উৎসাহেই তিনি নিজে কারখানা বসান। দোকান প্রায় ৮০ ফুট লম্বা ও ১৮ ফুট চওড়া; আগে টিনের ঘর ছিল, এখন দোতলা পাকা ভবন, এর বেশি বদল হয়নি। এখানে মিষ্টি, নোনতা ও টোস্ট—তিন ধরনের মোট ১৫ রকম বিস্কুট, তিন ধরনের কেক, চানাচুর, পেস্ট্রি ও বনরুটি তৈরি হয়। আগে দৈনিক ২৫ কেজি বিস্কুট বিক্রি হতো, এখন বিক্রি হয় প্রায় ৬০ কেজি; চানাচুর ৩০ কেজি থেকে বেড়ে প্রায় ৪৫ কেজি। বনরুটির বিক্রি অবশ্য আগের চেয়ে কমেছে। এখন মোট ১৮ জন কাজ করেন। ব্যবস্থাপক বলেন, বিক্রি কমেনি, চাহিদা বরং বেড়েছে, কিন্তু সব জিনিসের দাম চড়া হওয়ায় খরচ বেড়ে লাভ কমেছে। তবু মান কমানো হয়নি: বিস্কুটে খাঁটি ঘি ব্যবহার হয়, চাহিদার হিসাব করে প্রতিদিনের পণ্য বানানো হয়, বাসি পণ্য বিক্রি হয় না। পাউরুটি বানানোর এক ঘণ্টার মধ্যেই বিক্রি হয়ে যায়। মালিক এখন ঢাকায় থাকেন, মাসে দুবার বরিশালে এসে ব্যবসা দেখেন। তিনি বলেন, তাঁদের কাছে ব্যবসার চেয়ে পূর্বপুরুষের সুনামই মুখ্য।
যা শেখার আছে
- ১.দাম বাড়লে বিক্রি টিকে থাকলেও লাভ কমে যেতে পারে; কাঁচামাল ও খরচের হিসাব নিয়মিত দেখুন।
- ২.প্রতিদিনের পণ্য চাহিদা অনুমান করে বানালে বাসি মাল কমে এবং ক্রেতার আস্থা থাকে।
- ৩.আলাদা সাজসজ্জা বা বিজ্ঞাপন ছাড়াও মান ও পরিচিত স্বাদ বজায় রেখে বহু বছর ক্রেতা ধরে রাখা সম্ভব।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
