আগের বছরের দামে ভরসা করে ৬ বিঘায় কলা, এক রাতের ঝড়ে ক্ষতি আড়াই লাখ
নওগাঁর বদলগাছীর এক কলাচাষি আগের বছর ভালো দাম পেয়ে ৬ বিঘায় কলাবাগান করেন; বিক্রির এক-দুই সপ্তাহ আগে কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে অর্ধেকের বেশি গাছ ভেঙে আড়াই লাখ টাকার ক্ষতি হয়।
আমার দেশের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৫ মার্চ রাতে নওগাঁর ১১টি উপজেলায় প্রায় ৩০ মিনিটের আগাম কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টি হয়; ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৫০ কিলোমিটার বেগে বাতাস বয়েছিল। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে ২২৫ হেক্টরের কলাসহ ৭৩১.৫ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এর মধ্যে প্রায় ১৬৭ কোটি টাকার কলা পুরোপুরি নষ্ট হয়। বদলগাছী উপজেলার বালুভরা ইউনিয়নের কুশারমুড়ি গ্রামের এক কলাচাষি জানান, আগের বছর ভালো দাম পাওয়ায় এবার তিনি প্রায় ৬ বিঘা জমিতে কলার বাগান করেছিলেন। এক রাতের ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে তাঁর বাগানের অর্ধেকের বেশি গাছ ভেঙে পড়ে। বেশির ভাগ কলা বাজারে তোলার উপযোগী হয়ে উঠছিল, এক-দুই সপ্তাহের মধ্যেই বিক্রির পরিকল্পনা ছিল। তাঁর ভাষায়, "এক রাতের ঝড়ে আমার আড়াই লাখ টাকার ক্ষতি হলো।" জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বলেন, ঝড়ে আক্রান্ত কলা, ভুট্টা ও পেঁপের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া আর সম্ভব নয়; বৈরী আবহাওয়ায় কৃষকদের পরিপক্ব ফল ও ফসল দ্রুত তোলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। প্রতিবেদনে ক্ষতিপূরণ বা বিমার কোনো উল্লেখ নেই।
যা শেখার আছে
- ১.এক বছরের ভালো দাম দেখে একবারে বেশি জমিতে কলা লাগালে ঝুঁকিও সমান হারে বাড়ে; সম্প্রসারণ ধাপে ধাপে করুন।
- ২.কালবৈশাখীর মৌসুমে (মার্চ–এপ্রিল) কলা পাকার সময় পড়লে গাছে খুঁটি বা ঠেকনা দিন এবং পরিপক্ব কাঁদি দেরি না করে কেটে ফেলুন।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে এবং পরিচয় গোপন রেখে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। আপনিই প্রথম লিখুন।
