৩০–৩৫টি গাছ থেকে নেমে ১৬টি, দিনে রস ১৫–২০ লিটার থেকে ৪–৬ লিটার
আগে ৩০–৩৫টি খেজুরগাছ কেটে দিনে ১৫–২০ লিটার রস পেতেন, এখন ১৬টি গাছে ৪–৬ লিটার। রসের দাম লিটারে ৫০–৬০ টাকা থেকে বেড়ে ১০০–১২০ টাকা হলেও পরিমাণ কমার ক্ষতি তাতে পোষায়নি।
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার এই গাছি আগে ৩০ থেকে ৩৫টি খেজুরগাছ কেটে দিনে ১৫ থেকে ২০ লিটার রস নামাতেন। জেলায় খেজুরগাছের সংখ্যা কমে যাওয়ায় এখন তাঁর হাতে আছে ১৬টি গাছ, রস মেলে দিনে ৪ থেকে ৬ লিটার। রসের দাম এর মধ্যে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে লিটারে ১০০–১২০ টাকায় উঠেছে, আগে যা ছিল ৫০–৬০ টাকা; কিন্তু পরিমাণ যে হারে কমেছে, দাম সে হারে বাড়েনি। জেলার অন্য গাছিদের অবস্থাও একই — দশমিনার একজনের মৌসুমে পাটালি গুড় ২০০–২৫০ কেজি থেকে নেমে দাঁড়িয়েছে ৫০–৭০ কেজিতে, গলাচিপার একজন দিনে ৮–১০ কেজি নলেন গুড় থেকে নেমে ২–৩ কেজিতে এসেছেন আর ঢাকা-বরিশালের পাইকারি ফরমাশই পূরণ করতে পারছেন না। মির্জাগঞ্জের একজন ৩০-র বেশি গাছ থেকে নেমেছেন ৮টিতে, মৌসুমের আয় অর্ধেক হয়ে গেছে। জেলায় খেজুরগাছ আছে ১,২৮,০৩৫টি, গত মৌসুমে গুড় হয়েছে ৪.১ মেট্রিক টন; পাটালি গুড় কেজিপ্রতি ৩০০–৩৫০ টাকা আর নলেন গুড় ৪৫০–৫০০ টাকায় বিক্রি হয়।
যা শেখার আছে
- ১.কাঁচামালের ভিত্তি যদি দামের চেয়ে দ্রুত কমতে থাকে, তাহলে দাম দ্বিগুণ হলেও ব্যবসা টিকে থাকে না
- ২.যে সম্পদ আপনি নিজে লাগাননি বা যার মালিক আপনি নন, তার ওপর দাঁড়ানো পেশা সেই সম্পদের সঙ্গে সঙ্গেই কমে যায় — চাহিদা যতই থাক
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে এবং পরিচয় গোপন রেখে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। আপনিই প্রথম লিখুন।
