মূল অংশে যান
  • এই সাইটের তথ্য কপিরাইটভুক্ত — অনুমতি ছাড়া কপি করা নিষেধ
  • আমরা কোনো টাকার লেনদেন করি না
  • টাকা নিয়ে কোনো ব্যবসার প্রচার করি না
  • ভুল পেলে জানান — যাচাই করে ঠিক করি

খেজুরের রস ও গুড়

শীতে খেজুরগাছ কেটে রস নামিয়ে জ্বাল দিয়ে গুড় বানানো। ২০২৫-২৬ মৌসুমে দানা গুড় ৳৩৫০–৪০০ কেজি আর পাটালি ৳৪৫০–৬০০ কেজি, কিন্তু কাজটা চলে বছরে মাত্র তিন-চার মাস আর গাছ কাটার গাছি দিন দিন কমছে।

  • শেষ পর্যালোচনা: ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • সংস্করণ ১
খেজুরের রস ও গুড়

খেজুরের রস ও গুড়

শুরুর পুঁজি
৳১০,০০০ – ৳৬০,০০০
সম্পাদকীয় অনুমান
জনবল
১ – ৪ জন
প্রথম বিক্রি
২০ – ৩৫ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
খরচ উঠতে
২ – ৪ মাস
সম্পাদকীয় অনুমান
কাজের ধরন
খামার · কঠিন

ব্যবসাটি সম্পর্কে

শীতে খেজুরগাছের মাথা চেঁছে নলি বসিয়ে রস নামানো, আর সেই রস জ্বাল দিয়ে দানা গুড় বা পাটালি বানানো। কাজটা সম্পূর্ণ মৌসুমি। কার্তিক-অগ্রহায়ণে গাছ পরিষ্কার করা শুরু হয়; গাছি প্রথমে ডালপালা ছেঁটে দেন, শুকানোর পর আবার ছেঁটে দেন, তারপর ১০ থেকে ১৫ দিন পরে নলি লাগান — এরপর রস নামা শুরু। রস সংগ্রহ চলে প্রায় চার মাস। যশোরে মোট খেজুরগাছ ২৩ লাখ ৩০ হাজার ৬৯৫টি, কিন্তু চলতি মৌসুমে রস আহরণের উপযোগী ছিল মাত্র ৩ লাখ ৭ হাজার ১৩০টি — অর্থাৎ প্রতি সাতটি গাছের একটিও কাটা হয় না। কারণটা গাছ নয়, লোক। এক গাছি বলেছেন আগে ১৫০টি গাছ কাটতেন, এখন কাটেন ৩৫ থেকে ৪০টি; তরুণরা এই কাজে আসছেন না। যিনি কাটেন, তাঁর আয় মন্দ নয় — একজন অভিজ্ঞ গাছি শীতের তিন মাসে রস ও গুড় বেচে প্রায় দেড় লাখ টাকা পেয়েছেন, আর মৌসুমে দিনে আয় ৮০০ থেকে ১,০০০ টাকা। দুই কলস রস জ্বাল দিলে এক কেজি গুড় হয়, আর একজন গাছি দিনে ৮ থেকে ১০ কেজি গুড় নামাতে পারেন। কাঁচা রস নিয়ে একটা কথা খোলাখুলি বলা দরকার। বাদুড়ের লালা বা মূত্রে দূষিত কাঁচা রস খেয়ে নিপাহ ভাইরাস ছড়ায়। ২০০১ সাল থেকে ২০২৬ পর্যন্ত দেশে ৩৪৮ জন আক্রান্ত হয়েছেন আর মৃত্যুহার ৭২ শতাংশ; রোগী পাওয়া গেছে ৬৪ জেলার মধ্যে ৩৫টিতে, আর প্রায় সব রোগী ডিসেম্বর থেকে এপ্রিলের মধ্যে — ঠিক রসের মৌসুমে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতেও রাজশাহী বিভাগে একজন কাঁচা রস খেয়ে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, রস জ্বাল দিয়ে খেতে হবে।

আয়-ব্যয়ের হিসাব

খাতপরিসরসূত্রসংশোধন পাঠান
মাসিক চলতি মূলধন৳৫,০০০ – ৳৬৩,০০০সম্পাদকীয় অনুমান
বিক্রয় মূল্য৳৩৫০ – ৳৬০০ / কেজিবাজারদর
পরিবর্তনশীল খরচ৳১০০ – ৳১৮০ / কেজিসম্পাদকীয় অনুমান
মোট লাভের হার৪৯% – ৮৩%সম্পাদকীয় অনুমান
প্রথম বিক্রি পর্যন্ত সময়২০ – ৩৫ দিনসম্পাদকীয় অনুমান
খরচ উঠে আসার সময়২ – ৪ মাসসম্পাদকীয় অনুমান
নগদ চক্র৩ – ৬০ দিনসম্পাদকীয় অনুমান
অপচয় ও ক্ষতির হার৫% – ২০%সম্পাদকীয় অনুমান
দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা৮ – ১০অভিজ্ঞ-যাচাইকৃত

শুরু করতে যা লাগবে

  • ধারালো দা, কোমরে বাঁধার দড়ি, মাটির হাঁড়ি বা কলস, নলি, রস ছাঁকার কাপড়, জ্বাল দেওয়ার বড় তাফাল ও চুলা, আর গুড় ঢালার ছাঁচ। দাম এখানে যাচাই করা যায়নি।যন্ত্রপাতি
  • জ্বালানি কাঠ বা খেজুরের পাতা। দুই কলস রস থেকে এক কেজি গুড় হয়, অর্থাৎ বেশির ভাগটাই বাষ্প হয়ে ওড়ে — জ্বালানিই এই কাজের দ্বিতীয় বড় খরচ। বর্তমান দাম যাচাই করা যায়নি।শুরুর মাল
  • ট্রেড লাইসেন্স — সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদ। ফরম ৳১০, লাইসেন্স বই ৳৫০, আদর্শ কর ৳৩০, স্ট্যাম্প ৳১৫০–৩০০, লাইসেন্স ফি ৳১০০–৬০,০০০, ৩–৫ কর্মদিবসে দেয়। গাছ কেটে রস নামাতে আলাদা কোনো লাইসেন্স লাগে না; লাইসেন্স লাগে গুড় বেচাকেনার ব্যবসা হিসেবে।লাইসেন্স
  • গাছি হওয়ার দক্ষতা — দড়ি বেঁধে গাছে ওঠা, মাথার ঠিক জায়গায় চেঁছে নলি বসানো, আর কতটা কাটলে গাছ বাঁচবে তা বোঝা। এটাই এই ব্যবসার আসল সীমা: একজন গাছি আগে ১৫০টি গাছ কাটতেন, এখন কাটেন ৩৫–৪০টি, আর নতুন গাছি তৈরি হচ্ছে না।দক্ষতা
  • নিপাহ ভাইরাস সম্পর্কে জানা ও ক্রেতাকে জানানো। হাঁড়ির মুখ জাল বা বাঁশের চাটাই দিয়ে ঢাকা, আর রস ফুটিয়ে খাওয়ার কথা বলা — বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ সদ্য সংগ্রহ করা রস ফুটিয়ে নেওয়া।দক্ষতা
  • রস দেওয়ার উপযোগী গাছ। যশোরে মোট ২৩ লাখ ৩০ হাজার ৬৯৫টি খেজুরগাছ থাকলেও চলতি মৌসুমে রস আহরণের উপযোগী ছিল ৩ লাখ ৭ হাজার ১৩০টি; গাছ থাকা আর গাছ কাটা এক কথা নয়।সরবরাহকারী
  • জ্বাল দেওয়ার জায়গা — গাছের কাছেই খোলা চুলা, কারণ রস নামিয়ে দেরি করা যায় না। সঙ্গে গুড় ঠান্ডা করে রাখার শুকনো ঘর।কাজের জায়গা

কাজের ধাপ

  1. 1গাছ ঠিক করুন — নিজের, নাকি ভাড়া নেওয়া। গ্রামে বেশির ভাগ গাছ অন্যের জমিতে থাকে, তাই মৌসুমের আগেই মালিকের সঙ্গে কথা পাকা করে নিতে হয়।
  2. 2কার্তিক-অগ্রহায়ণে গাছ পরিষ্কার শুরু করুন — মাথার ডালপালা ছেঁটে দিন, শুকাতে দিন, তারপর আবার ছাঁটুন।
  3. 3শেষ ছাঁটাইয়ের ১০ থেকে ১৫ দিন পর নলি লাগান। তাড়াহুড়ো করে আগে নলি বসালে রস কম আসে আর গাছ দুর্বল হয়ে যায়।
  4. 4বিকেলে হাঁড়ি বেঁধে আসুন আর শেষরাতে বা ভোরে নামিয়ে আনুন। সূর্য উঠলে রস গেঁজে টক হয়ে যায়, তখন গুড়ও ভালো হয় না।
  5. 5হাঁড়ির মুখে জাল বা বাঁশের চাটাই দিয়ে ঢাকুন যাতে বাদুড় মুখ দিতে না পারে। এটা সাজসজ্জা নয় — নিপাহ ভাইরাস ঠিক এই পথেই আসে।
  6. 6নামানোর পরপরই জ্বাল দিন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে সদ্য সংগ্রহ করা রস ফুটিয়ে নিতে হবে; আর জ্বাল দিতে দেরি হলে রস টকে যায়।
  7. 7দুই কলস রসে এক কেজি গুড় ধরে হিসাব করুন। এই অনুপাত মাথায় না থাকলে কাঠ, সময় আর গাছভাড়ার হিসাব মেলে না।
  8. 8দানা গুড় বানাবেন নাকি পাটালি, ঠিক করুন। ২০২৫-২৬ মৌসুমে দানা গুড় গেছে ৳৩৫০–৪০০ কেজি আর পাটালি ৳৪৫০–৬০০ — পাটালিতে সময় ও যত্ন বেশি লাগে, দামও বেশি।
  9. 9কাঁচা রস বেচলে ক্রেতাকে সরাসরি জানিয়ে দিন যে ফুটিয়ে খাওয়াই নিরাপদ, আর নিপাহর খবর বের হলে ওই বিক্রি কয়েক দিনের জন্য বন্ধ রাখার প্রস্তুতি রাখুন।
  10. 10গুড় ঠান্ডা করে বাতাস-নিরোধক পাত্রে রাখুন। গুড়ে জল থেকে গেলে কয়েক সপ্তাহে ছাতা পড়ে আর পুরো চালান ফেরত আসে।
  11. 11হাটের দিন ধরে বিক্রি সাজান আর সম্ভব হলে সরাসরি শহরে পাঠান। মৌসুমে একজন অভিজ্ঞ গাছি তিন মাসে প্রায় দেড় লাখ টাকা তুলেছেন — তার বড় অংশ আসে ভালো দামে বেচতে পারার উপর।
  12. 12মৌসুম শেষে গাছকে বিশ্রাম দিন আর পরের বছরের জন্য কোন গাছ কাটবেন তা লিখে রাখুন। প্রতিবছর একই গাছ সমানভাবে কাটলে গাছ মরে যায়, আর নতুন গাছ বড় হতে বছরের পর বছর লাগে।

মৌসুম

  1. জানুবেশি
  2. ফেব্রুবেশি
  3. মার্চস্বাভাবিক
  4. এপ্রিলকম
  5. মেকম
  6. জুনকম
  7. জুলাইকম
  8. আগস্টকম
  9. সেপ্টেকম
  10. অক্টোস্বাভাবিক
  11. নভেবেশি
  12. ডিসেবেশি
বেশিস্বাভাবিককম

কোন জেলায় ভালো

  • খুব উপযোগীচুয়াডাঙ্গা · দক্ষিণ-পশ্চিমের শুকনো মাটিতে খেজুরগাছ ভালো হয় আর শীত বেশি পড়ে বলে রসও ভালো আসে।
  • খুব উপযোগীফরিদপুর · খেজুর গুড়ের পুরনো এলাকা। একই সঙ্গে সতর্কতা: আইইডিসিআরের হিসাবে নিপাহ রোগীর সংখ্যায় ফরিদপুরই দেশে সবচেয়ে উপরে — ৭১ জন। এখানে কাঁচা রস বিক্রির ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি, গুড় বানানোই নিরাপদ পথ।
  • খুব উপযোগীযশোর · দেশের খেজুর গুড়ের কেন্দ্র — জেলায় গাছ ২৩ লাখ ৩০ হাজার ৬৯৫টি, চলতি মৌসুমে কাটার উপযোগী ৩ লাখ ৭ হাজার ১৩০টি, আর মৌসুমে প্রায় ১২০ কোটি টাকার রস ও গুড় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।
  • খুব উপযোগীঝিনাইদহ · যশোরের গা ঘেঁষা গুড়ের বলয়ে পড়ে; গাছ ও গাছি দুটোই আছে, আর যশোরের পাইকারি হাটে মাল তোলা সহজ।
  • সম্ভবকুষ্টিয়া · শীত বেশি আর গাছ আছে; গুড়ের স্থানীয় হাট ছোট হলেও যশোর ও ঢাকার পাইকারদের সঙ্গে যোগাযোগ আছে।
  • সম্ভবমাগুরা · গাছ আছে, গুড়ও হয়, তবে নিজস্ব বড় হাট কম বলে মাল যশোর বা ঢাকায় পাঠাতে হয়।
  • সম্ভবমেহেরপুর · সীমান্তঘেঁষা শুকনো এলাকা, গাছ আছে, তবে গাছির সংখ্যা কম বলে অনেক গাছ অকাটা থেকে যায়।
  • সম্ভবনাটোর · উত্তর-পশ্চিমের গুড়ের এলাকা; আখের গুড়ের কারখানার পাশাপাশি খেজুর গুড়ও হয়, ফলে পাইকারি ক্রেতা হাতের কাছে।
  • সম্ভবরাজবাড়ী · গাছ ও গাছি আছে, তবে নিপাহ রোগীর সংখ্যায় রাজবাড়ী দেশে দ্বিতীয় — ৩০ জন; কাঁচা রসের খুচরা বিক্রি এখানে ঝুঁকিপূর্ণ।
  • সম্ভবরাজশাহী · শুকনো আবহাওয়ায় গাছ ভালো, তবে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে এই বিভাগেই কাঁচা রস খেয়ে নিপাহ ভাইরাসে একজনের মৃত্যু হয়েছে — প্রশাসনের সতর্কবার্তা এখানে দ্রুত আসে।

ঝুঁকি ও সাবধানতা

  • বেশিনির্ভরশীলতা: গাছি না থাকলে গাছ থেকেও কিছু হয় না। যশোরে ২৩ লাখ ৩০ হাজার ৬৯৫টি খেজুরগাছের মধ্যে চলতি মৌসুমে কাটা হয়েছে মাত্র ৩ লাখ ৭ হাজার ১৩০টি। একজন গাছি বলেছেন আগে ১৫০টি গাছ কাটতেন, এখন ৩৫–৪০টি। কাজটা বিপজ্জনক, শেখার ব্যবস্থা নেই, আর তরুণরা আসছেন না — ফলে যার গাছ আছে তাকেও মৌসুমের আগে গাছির পেছনে ছুটতে হয়।
  • বেশিচাহিদা: নিপাহ ভাইরাসের একটি খবরেই কাঁচা রসের বিক্রি বন্ধ হয়ে যায়। ২০০১ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত দেশে ৩৪৮ জন আক্রান্ত, মৃত্যুহার ৭২ শতাংশ, রোগী মিলেছে ৬৪ জেলার ৩৫টিতে, আর রোগীরা আসেন ডিসেম্বর থেকে এপ্রিলের মধ্যে — রসের মৌসুমেই। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে রাজশাহী বিভাগে একজন কাঁচা রস খেয়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তির দিনই মারা যান। যে বছর এমন খবর আসে, সে বছর কাঁচা রসের খুচরা বাজার বসেই না — গুড়ের বাজার টিকে থাকে, কারণ গুড় জ্বাল দেওয়া।
  • বেশিনষ্ট হওয়া: রসের আয়ু কয়েক ঘণ্টা। ভোরে নামানো রস সূর্য ওঠার পর গেঁজে টক হয়ে যায়, আর টক রসে ভালো গুড় হয় না। তাই রস নামানো, বয়ে আনা আর জ্বাল দেওয়া — তিনটাই এক সকালে শেষ করতে হয়। চুলা দূরে হলে বা জ্বালানি না থাকলে ওই দিনের রস নষ্ট।
  • বেশিঅন্যান্য: কাজটা শারীরিকভাবে বিপজ্জনক। শেষরাতের অন্ধকারে দড়ি বেঁধে গাছে ওঠা, ধারালো দা দিয়ে মাথা চাঁছা, আর ভেজা গাছ — পড়ে গেলে চিকিৎসার খরচ ও রোজগার দুটোই একসঙ্গে যায়। গাছিদের কোনো বীমা নেই, আর প্রতিবেদনে ঝুঁকিপূর্ণ কাজের কথাকেই তরুণদের না আসার অন্যতম কারণ বলা হয়েছে।
  • বেশিচলতি মূলধন: বছরের আয় তিন-চার মাসে তুলতে হয়। রস সংগ্রহ চলে প্রায় চার মাস, আর বাকি আট মাস এই কাজ থেকে এক পয়সাও আসে না। মৌসুমের আগে গাছ ভাড়া, হাঁড়ি ও জ্বালানির টাকা দিতে হয় আয় শুরু হওয়ার আগেই — আর সেই সময়টাতেই হাতে টাকা সবচেয়ে কম থাকে।
  • মাঝারিচাহিদা: গুড়ের দাম মৌসুমের মধ্যেই ওঠানামা করে। মৌসুমের শুরুতে রস কম, দাম চড়া; মাঝামাঝি সবাই একসঙ্গে গুড় নামালে হাটে দাম পড়ে যায়। যাঁরা গুড় ঠিকমতো শুকিয়ে বাতাস-নিরোধক পাত্রে রাখতে পারেন, তাঁরাই কেবল দাম ওঠা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারেন।

সূত্র

কী বদলেছে

এখনো কোনো সংশোধন প্রকাশ হয়নি।

প্রশ্নোত্তর

এখনো কেউ প্রশ্ন করেননি। আপনিই প্রথম প্রশ্ন করুন।

এই ব্যবসার গল্প

মিশ্র অভিজ্ঞতাবাসসের প্রতিবেদনে পটুয়াখালীর বাউফলের একজন গাছি

৩০–৩৫টি গাছ থেকে নেমে ১৬টি, দিনে রস ১৫–২০ লিটার থেকে ৪–৬ লিটার

আগে ৩০–৩৫টি খেজুরগাছ কেটে দিনে ১৫–২০ লিটার রস পেতেন, এখন ১৬টি গাছে ৪–৬ লিটার। রসের দাম লিটারে ৫০–৬০ টাকা থেকে বেড়ে ১০০–১২০ টাকা হলেও পরিমাণ কমার ক্ষতি তাতে পোষায়নি।

কারণ
সরবরাহকারীর সমস্যা, চাহিদা কম

একই রকম আরও ব্যবসা

কৃষি ও খামার

নেপিয়ার ঘাস ও গো-খাদ্য চাষ

গরুর খামারের জন্য কাঁচা ঘাস চাষ। একবার লাগালে ৪–৫ বছর ফলন, বছরে ৪–৬ বার কাটা যায়, আর এক বিঘায় উদ্বৃত্ত ঘাস বেচে বছরে ৳৩০,০০০–৩৫,০০০ বাড়তি আয় হচ্ছে।

পুঁজি
৳১০ হাজার – ৳৫০ হাজার
জনবল
১ – ৩ জন
প্রথম আয়
৫০ – ৭০ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
কৃষি ও খামার

ভুট্টা চাষ

ফিড মিল প্রতি কেজি কিনে নেয়, তাই ক্রেতা আগেই ঠিক। এক বিঘায় খরচ ৳১২,০০০–১৪,০০০, ফলন ৩০–৩৬ মণ, আর কাঁচা মণ ৳৭৫০–৮০০ হলেও শুকিয়ে বেচলে ৳১,০৪০–১,০৬০।

পুঁজি
৳১২ হাজার – ৳৪২ হাজার
জনবল
১ – ৪ জন
প্রথম আয়
১২০ – ১৬০ দিন
অভিজ্ঞ-যাচাইকৃত
কৃষি ও খামার

গম চাষ

অগ্রহায়ণে বুনে চৈত্রে কাটা এক মৌসুমের ফসল। ২০২৫ সালে সরকার কৃষকের কাছ থেকে গম কিনেছে কেজি ৳৩৬ দরে, আর এক বিঘার খরচ ছিল ৳৬,০০০–৭,০০০।

পুঁজি
৳৬ হাজার – ৳৩৫ হাজার
জনবল
১ – ৪ জন
প্রথম আয়
১০৮ – ১৮০ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
কৃষি ও খামার

বাঁশ চাষ

ঝাড় করে বাঁশ লাগিয়ে বছর বছর বাঁশ কেটে বিক্রি। চারা লাগানোর ৩–৪ বছরের আগে একটি বাঁশও কাটা যায় না; এরপর গ্রামে প্রতিটি বাঁশ ৳১০০–২৫০, হাটে পাইকারি ৳১২৫–৩৫০।

পুঁজি
৳১৫ হাজার – ৳৩ লাখ
জনবল
১ – ৪ জন
প্রথম আয়
১,০৯৫ – ২,৯২০ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান