কানের দুল বেচে এক গরু, এখন মাসে লাখ টাকা — বন্যায় গেল ২৮–৩০ লাখ
প্রায় দুই দশক আগে ৫০,০০০ টাকায় বেচা কানের দুল দিয়ে একটি ফ্রিজিয়ান গরু। এখন ৬০টি গরু-বাছুর, দিনে ২০০ লিটার দুধ, খরচ বাদে মাসে প্রায় ১ লাখ টাকা — তবু বন্যায় ১৫টি পশু মরার পর সহায়তা মিলেছে ১,০০০ টাকা।
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের একলাশপুর গ্রামের এই নারী প্রায় দুই দশক আগে নিজের এক জোড়া সোনার কানের দুল স্বামীকে দেন; ৫০,০০০ টাকায় সেটি বেচে কেনা হয় একটিমাত্র ফ্রিজিয়ান গরু, যা গোয়ালঘর না থাকায় রান্নাঘরের পাশেই রাখতে হতো। দুধের টাকা খরচ না করে জমিয়ে তিনি পাল বাড়িয়েছেন, সংখ্যা ১০টি হওয়ার পর প্রায় ৫০ শতাংশ জমিতে গোয়ালঘর তুলেছেন। এখন খামারে ৬০টি গরু-বাছুর, দিনে প্রায় ২০০ লিটার দুধ হোটেল আর মিষ্টির দোকানে পাইকারি যায়, আর চারজন কর্মীর মজুরিসহ সব খরচ বাদে মাসে থাকে প্রায় ১ লাখ টাকা। করোনার সময় হোটেল-মিষ্টির দোকান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দিনের ৩০০ লিটার দুধের শত শত মণ বিনা পয়সায় বিলিয়ে দিতে হয়েছে, গরুও নামমাত্র দামে বেচতে হয়েছে। সাম্প্রতিক বন্যায় গোয়ালঘরে কোমরসমান পানি উঠে ১৫টি গরু-বাছুর মারা যায়, যেগুলোর বাজারদর ২৮ থেকে ৩০ লাখ টাকা। তাঁর ভাষায়, "বন্যায় ৩০ লাখ টাকার গরু হারিয়েছি, উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর থেকে সহায়তা পেয়েছি মাত্র এক হাজার টাকা" — অথচ এনজিওর কিস্তি ঠিক সময়েই দিতে হয়েছে, আর মাসখানেক আগে আগুনে পুড়ে গেছে প্রায় ৩ লাখ টাকার খড়ের গাদা।
যা শেখার আছে
- ১.দুধের ক্রেতা শুধু হোটেল আর মিষ্টির দোকান হলে ওরা বন্ধ হলেই দুধ যাওয়ার জায়গা থাকে না, অথচ গরুকে খাওয়াতেই হয়
- ২.দুর্যোগের সরকারি সহায়তার ওপর হিসাব করবেন না — ২৮–৩০ লাখ টাকার ক্ষতিতে মিলেছে ১,০০০ টাকা, আর ঋণের কিস্তি থামেনি
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে এবং পরিচয় গোপন রেখে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। আপনিই প্রথম লিখুন।
