বিঘায় বছরে ২ লাখ খরচ, ১ লাখ টাকার পানও বিক্রি করা কঠিন
মোহনপুরে এক বিঘার বরজ তুলতে প্রায় ১ লাখ টাকা, বছরে পরিচর্যায় আরও ১ লাখ; অথচ ছোট পান বিরাপ্রতি ১০–২৫ টাকা, বড় পান ৫০–৬০ টাকা, আর চাষিদের হিসাবে খরচ ওঠে ৩৫ টাকায়।
রাজশাহীর মোহনপুরের মৌগাছি পান হাটে চাষিরা বলছেন, সার, কীটনাশক, খইল, সেচ, বাঁশ আর শ্রমিক — সবেরই দাম বেড়েছে, বাড়েনি শুধু পানের দাম। এখানকার এক বরজচাষি হিসাবটা সোজা করে দিলেন: এক বিঘায় বরজ তুলে লতা লাগাতে যায় প্রায় ১ লাখ টাকা, সারা বছরের পরিচর্যা, সার আর কীটনাশকে যায় আরও প্রায় ১ লাখ; সেই ২ লাখ টাকা খরচের বিপরীতে এখন ১ লাখ টাকার পান বিক্রি করাও কঠিন। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে দর-কষাকষি করে শেষ পর্যন্ত তিনি ওই দামে পান বেচেননি। এক বিঘার আরেক চাষি বিরাপ্রতি অন্তত ১৫ টাকা আশা করে ১০ টাকার প্রস্তাব পেয়েছেন; আরেকজন বলছেন ৩৫ টাকা বিরা হলে খরচ ওঠে, অথচ তিনি পাচ্ছেন তার এক-তৃতীয়াংশের মতো — তাঁর ভাষায়, "লাভ তো দূরের কথা, শুধু হাতে নগদ টাকা পাওয়ার জন্য পান বিক্রি করতে হচ্ছে।" ছোট পান বিক্রি হচ্ছে ১০–২৫ টাকা বিরায়, বড় পান ৫০–৬০ টাকায়; ১ বিরা মানে ৬৪টি পান, ৩২ বিরায় ১ পোয়া। ১০ কাঠার একজন চাষির বছরে খরচ প্রায় ৫০,০০০ টাকা, তাঁকে দাম বলা হচ্ছে ২০ টাকা বিরা। শীতে উৎপাদন কমলে দাম কিছুটা বাড়তে পারে, তবে চাষিরা বলছেন তাতে বছরের বাকি সময়ের লোকসান উঠবে না। জেলায় এবার পানের লক্ষ্যমাত্রা ৫,০২০ হেক্টর, গত বছর ছিল ৪,৫০৯ হেক্টর।
যা শেখার আছে
- ১.বরজ একটা দাঁড়ানো কাঠামো, বছরের খরচ বাঁধা — দাম কমলে খরচ কমে না, তাই খারাপ দামের বছরে পুরো ২ লাখ টাকাই সরাসরি লোকসান
- ২.বাজার যে এককে কেনাবেচা করে, সেই এককেই নিজের খরচ-ওঠার দাম জানুন — এই চাষিরা বিরাপ্রতি ঠিক কত টাকায় খরচ ওঠে বলতে পারেন বলেই খারাপ দাম ফিরিয়ে দিতে পেরেছেন
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে এবং পরিচয় গোপন রেখে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। আপনিই প্রথম লিখুন।
