মায়ের গয়না বেচা ১.৫ লাখে শুরু, চার বছরে মূলধন ৩০ লাখ; মাসে আয় প্রায় ১ লাখ
মিরসরাইয়ের এক তরুণ ২০১৯ সালে মায়ের গয়না বিক্রির দেড় লাখ টাকায় ৩০ শতাংশ জায়গায় মাছ চাষ শুরু করেন। করোনায় ক্ষতির পর ঘুরে দাঁড়িয়ে বায়োফ্লকসহ খামার বাড়িয়ে এখন মাসে প্রায় এক লাখ টাকা আয় করেন।
২০১৬ সালে বাবা মারা যাওয়ার পর মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জের এক তরুণের কাঁধে মা, দুই বোন ও এক ভাইসহ পাঁচজনের সংসারের দায়িত্ব আসে। চাকরির পেছনে না ছুটে তিনি মাছ চাষ বেছে নেন, কিন্তু পুঁজি ছিল বড় বাধা। ২০১৯ সালে মায়ের দুই ভরি গয়না বিক্রি করে পাওয়া দেড় লাখ টাকায় তিনি ৩০ শতাংশ জায়গায় মাছ চাষ শুরু করেন। প্রথম বছর না ঘুরতেই করোনায় বড় ক্ষতি হয়; ধারদেনা করে কোনোমতে ব্যবসা চালান। ২০২০ সালের শেষ দিকে লাভের মুখ দেখেন। এরপর বাড়িতে বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষ ও গরুর খামার গড়ে তোলেন। প্রথম আলোর হিসাবে গত চার বছরে পাঁচ একরের মাছের খামার ও ২৬টি গরুর খামার মিলে তাঁর মূলধন এখন ৩০ লাখ টাকা, আর সব খরচ বাদে মাসে আয় প্রায় এক লাখ টাকা। প্রযুক্তির বিষয়গুলো তিনি ইউটিউব দেখে শিখেছেন। তাঁর অভিযোগ, স্থানীয় মৎস্য দপ্তরের সহযোগিতা পাননি; উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বলেছেন, কোনো যোগাযোগ-বিভ্রাট হয়ে থাকতে পারে এবং তিনি খোঁজ নেবেন। আয় থেকে তিনি দুই বোনের বিয়ে দিয়েছেন এবং মায়ের বিক্রি করা গয়নার সমপরিমাণ গয়না কিনে দিয়েছেন।
যা শেখার আছে
- ১.কম পুঁজিতে ছোট জায়গায় শুরু করে আয় থেকে ধাপে ধাপে বায়োফ্লক ও অন্য খামার যোগ করা যায়।
- ২.করোনার মতো ধাক্কায় ধার করে টিকে থাকতে হলে সেই ঋণ শোধের হিসাব আগে থেকেই রাখুন।
- ৩.প্রযুক্তি ভিডিও দেখে শেখা সম্ভব, তবু মৎস্য দপ্তরের সঙ্গে নিজে থেকে যোগাযোগ রাখুন।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
