১৩ টাকার পোলাও থেকে পাঁচতলা ভবন: নওগাঁর বিরিয়ানির দোকানে এখন দিনে ৬০০–৭০০ জন খান
নওগাঁ শহরের এক বিরিয়ানি ও পোলাওয়ের দোকান শুরু হয়েছিল ডাল-রুটি-চা দিয়ে। ১৯৮০ সালে ২ কেজি চালের পোলাও রান্না করে সাড়া পাওয়ার পর ধাপে ধাপে বড় হয়ে এখন সেখানে ২২ জন কর্মচারী কাজ করেন।
নওগাঁ শহরের ধর্মতলা রোডের আটাপট্টিতে একটি দোকান ১৯৭৪ সালে শুরু হয়েছিল ডাল, রুটি আর চা দিয়ে। বাবা রুটি বানাতেন, কিশোর ছেলে পরিবেশন করতেন। ১৯৮০ সালে একজন ব্যবসায়ীর অনুষ্ঠানের জন্য মোরগ-পোলাওয়ের অর্ডার আসে। ছেলে ২ কেজি চালের পোলাও আর ১০টি মুরগি রান্না করেন, কিন্তু অর্ডারের খাবার কেউ নিতে আসেননি। সন্ধ্যায় এক তরুণ দোকানে এসে সেই পোলাও-রোস্ট খেয়ে খুশি হন, দাম ছিল ১৩ টাকা। তিনি বন্ধুদের নিয়ে আবার আসেন, রাত পর্যন্ত প্রায় ৪০ জন খান। পরদিন ৩ কেজি চালের পোলাও আর ১২টি মুরগি রান্না হয়, সেদিনও সব বিক্রি হয়ে যায়। তখন দোকান ছিল টিনশেড বেড়ার ঘর, বসতে পারতেন ছয়জন; পরে বসার জায়গা হয় ১২ জনের। বাবা ধীরে ধীরে সরে গেলে ছেলে নিজেই রান্না করেন, সহায়ক হিসেবে একজনকে রাখেন। এখন তাঁদের নিজস্ব পাঁচতলা ভবন, দোতলায় রেস্টুরেন্ট (একসঙ্গে ৫৬–৬০ জন বসতে পারেন), তিনতলায় কমিউনিটি সেন্টার। খাসির বিরিয়ানি প্রতি প্লেট ২০০ টাকা, মোরগ পোলাও ও কাচ্চি ১৮০ টাকা। প্রতিদিন দুপুর ও রাত মিলিয়ে ৬০০–৭০০ জন খান, ৮০ কেজি চাল রান্না হয়, কর্মচারী ২২ জন। মাংস কেনা হয় স্থানীয় বাজার থেকে; বিরিয়ানিতে সরিষার তেল ব্যবহার তাঁদের স্বাদের বিশেষত্ব। ২০১৮ সালে জেলা প্রশাসন থেকে জেলার সেরা হোটেলের পুরস্কারও পেয়েছেন।
যা শেখার আছে
- ১.ছোট করে শুরু করুন, বিক্রি দেখে পরিমাণ বাড়ান: এখানে ২ কেজি চাল থেকে ৩ কেজি, তারপর ধাপে ধাপে বড় দোকান।
- ২.একটি স্বতন্ত্র স্বাদ (যেমন সরিষার তেল) আর কম আইটেমে মনোযোগ ক্রেতার মুখে মুখে সুনাম বানায়।
- ৩.দোকান বড় হলে মালিকানা পরিবারে রেখে ভাইদের মধ্যে কাজ ভাগ করে নিলে চালানো সহজ হয়।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
