ভাড়া বাসায় মাছের চিপস: মাসে ৭০০ কেজি বিক্রি, খরচ বাদে লাখ টাকার বেশি মুনাফা
কক্সবাজারের এক নারী দুটি ব্যবসা বন্ধ হওয়ার পর সামুদ্রিক মাছের চিপস বানানো শুরু করেন। এখন তিন রুমের ভাড়া বাসায় মাসে ৭০০ কেজি চিপস বিক্রি করে খরচ বাদে লাখ টাকার বেশি মুনাফা পান।
কক্সবাজারের এক নারী ২০২০ সালে অনলাইনে রূপচর্চার সামগ্রী বিক্রি শুরু করে দুই মাসে ৫০ হাজার টাকা মুনাফা করেছিলেন। এরপর বাসার কাছের ডুমুর ফল দিয়ে আচার বানান, কিন্তু গাছটি কেটে ফেলায় কাঁচামালের অভাবে সেটি বন্ধ হয়ে যায়। পরপর দুটি ব্যবসা বন্ধ হলে তিনি ইন্টারনেট ও ইউটিউবে নতুন ধারণা খোঁজেন এবং কয়েক দফা ব্যর্থ হয়ে সামুদ্রিক মাছের গুঁড়া বানানো শুরু করেন। সংরক্ষণের বড় সমস্যার কারণে মাছ ধরার নির্দিষ্ট মৌসুম ছাড়া তিনি এই পণ্য বানান না। ২০২৪ সালে ব্যবসা বড় করতে নিজের বাসায় টুনা ও পোয়া মাছ দিয়ে চিপস বানানোর চেষ্টা করেন, কয়েকবারের চেষ্টায় সফল হন এবং ফিসো ফিস চিপস নামে ব্র্যান্ড গড়েন। এখন তিন রুমের ভাড়া বাসায় তাঁর কারখানা ও অফিস। প্রতি মাসে ৭০০ কেজি চিপস বিক্রি হয়, সব খরচ বাদে মুনাফা থাকে লাখ টাকার বেশি। তাঁর প্রতিষ্ঠানে সাতটি পরিবারের সদস্য কাজ করেন, আর তিনি ৩০ জন নারীকে চিপস বানানো শেখিয়েছেন। বিপণন ও ব্যবস্থাপনা তাঁর বড় চ্যালেঞ্জ ছিল; অক্টোবরে ব্র্যাক ব্যাংকের তিন দিনের প্রশিক্ষণ নিয়ে সেই দিক উন্নত করছেন। আগে দেশের চাহিদা মেটানো, পরে রপ্তানির কথা ভাবছেন তিনি।
যা শেখার আছে
- ১.একটি পণ্যের কাঁচামাল একটি গাছ বা এক উৎসের ওপর নির্ভর করলে ব্যবসা হঠাৎ বন্ধ হতে পারে; কাঁচামালের জোগান আগে ঠিক করুন।
- ২.সংরক্ষণ কঠিন পণ্য মৌসুম ধরে বানান; এই উদ্যোক্তা মাছের গুঁড়া শুধু মাছ ধরার মৌসুমে বানান।
- ৩.শুধু পণ্য বানালেই হয় না, বিপণন ও ব্যবস্থাপনা শেখা দরকার; প্রশিক্ষণ তাঁর আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
