করোনার ছুটিতে ব্রয়লার কেজি ৪৪–৫৫ টাকা, এক সপ্তাহেই লোকসান ৬–৭ লাখ
২০২০ সালের মার্চে সাধারণ ছুটিতে ক্রেতা কমে গেলে টাঙ্গাইলের সখীপুরের এক তরুণ খামারিকে ৯০ টাকার বেশি খরচের ব্রয়লার ৪৪–৫৫ টাকা কেজিতে বেচতে হয়।
২০২০ সালের মার্চে করোনাভাইরাস ঠেকাতে সাধারণ ছুটি শুরু হলে পোলট্রি খাত বড় ধাক্কা খায়। টাঙ্গাইলের সখীপুরের কালিদাস গ্রামের এক তরুণ ব্রয়লার খামারি প্রথম আলোকে জানান, এক সপ্তাহ ধরে তিনি কেজিপ্রতি ৪৪ থেকে ৫৫ টাকায় মুরগি বিক্রি করছেন। তাঁর কথায়, ‘মুরগি কেউ নিতেই চায় না। যার কাছ থেকে যা পাই, সেই দামে বিক্রি করি।’ খামারিদের হিসাবে তখন ব্রয়লারের কেজিপ্রতি উৎপাদন খরচ ৯০ টাকার কিছু বেশি। তিনি বলেন, এক সপ্তাহেই তাঁর ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। অথচ ঢাকার বাজারে তখনো ব্রয়লার কেজি ১২০–১২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল; পরিবহন বন্ধ থাকায় খামারের দাম আর বাজারের দামের মধ্যে বড় ফারাক তৈরি হয়। মুরগির দাম পড়ায় এক দিন বয়সী বাচ্চার চাহিদাও ধসে যায়; হ্যাচারি মালিকেরা প্রতিটি ২ টাকায় বাচ্চা দিতে চাইলেও নেওয়ার মতো খামারি পাওয়া যাচ্ছিল না। খামারিদের ব্যাখ্যা, দাম বাড়লে সঙ্গে সঙ্গে উৎপাদন বাড়ানো যায় না, আবার দাম পড়লে তাৎক্ষণিক কমানোও যায় না, কারণ খামারে থাকা মুরগিকে খাওয়াতেই হয় এবং ওজন বাড়তে থাকে। ফলে এমন ধাক্কায় লোকসান প্রায় অবধারিত।
যা শেখার আছে
- ১.ব্রয়লার দ্রুত বিক্রি করতে হয়; হঠাৎ বাজার বন্ধ হলে প্রতিদিনের খাবারের খরচ লোকসান বাড়াতেই থাকে, তাই অন্তত কয়েক সপ্তাহ চালানোর মতো নগদ টাকা রাখুন।
- ২.একজন পাইকারের ওপর নির্ভর না করে কয়েকটি বিক্রির পথ রাখুন, যাতে পরিবহন বা বাজার বন্ধ হলেও কিছু বিক্রি চালু থাকে।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে এবং পরিচয় গোপন রেখে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। আপনিই প্রথম লিখুন।
