বাঁশের ঝুড়িতে মহিষের দইয়ের কেজি ৩০০ টাকা; বাবা-দাদার ব্যবসা চলছে প্রায় প্রতিদিনের অর্ডারে
মৌলভীবাজারের বড়লেখায় হাকালুকি হাওরের পাড়ের এক পরিবার বাবা-দাদার আমল থেকে মহিষ ও গরুর দুধের দই বানিয়ে বিক্রি করে। দই না চললে ওই দুধেই ছানা করে মিষ্টির দোকানে দেওয়া হয়।
মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার বর্নি ইউনিয়নের নিহারী-ফড়িঙ্গা গ্রামের একটি পরিবার হাকালুকি হাওরের পাড়ে বাবা-দাদার আমল থেকে দইয়ের ব্যবসা করছে। পরিবারের একজন (বয়স ৫৪) বলেন, এটা খাঁটি দুধের দই, অন্য কিছু মেশানো হয় না। দই পাতা হয় বাঁশ-বেতের ছোট ঝুড়ি ‘ধুছনি’তে; তার ছিদ্র ময়দার প্রলেপে বন্ধ করে মহিষের দুধ ঢালা হয়। ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী গরুর দুধের দইও হয়। দুই ও পাঁচ কেজির ধুছনিতে দই বসানো হয় এবং প্রতি কেজির দাম ৩০০ টাকা। প্রায় প্রতিদিনই কিছু না কিছু অর্ডার থাকে; কাউকে ঠিকানায় পৌঁছে দিতে হয়, কেউ বাড়ি থেকে নিয়ে যান। দুধ আসে স্থানীয় গরু-মহিষের মালিকদের কাছ থেকে। দইয়ের চাহিদা না থাকলে ওই দুধ থেকে ছানা বানিয়ে নির্দিষ্ট মিষ্টির দোকানে দেওয়া হয়। বিয়ে বা অনুষ্ঠানে এক মণ বা তার বেশি দইয়ের অর্ডার এলে বাইরে থেকে দুধ আনতে হয়; হাওরপাড়ের আবাদি বাজারে সকালে দুধের হাট বসে, সেখান থেকে কেনা হয়। বড়লেখা ছাড়াও জুড়ী, সিলেট ও গোলাপগঞ্জ থেকে ক্রেতারা এসে নেন। ঝুড়ি বানান পাশের গ্রামের এক নারী, প্রতিটির দাম ৪০ টাকা; এই কাজেই তাঁর ১১ সদস্যের পরিবার চলে। তবে প্রচারণা না থাকায় দইয়ের পরিচিতি সীমিত, স্থানীয়রা সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার কথা বলছেন।
যা শেখার আছে
- ১.দই না চললে একই দুধ থেকে ছানা বানিয়ে মিষ্টির দোকানে দিলে দুধ নষ্ট হয় না।
- ২.বড় অনুষ্ঠানের অর্ডারে দুধ কম পড়ে; আগে থেকে দুধের হাটের মতো বাড়তি উৎস চেনা থাকা দরকার।
- ৩.আলাদা পাত্র ও খাঁটি স্বাদ পণ্যের পরিচয় তৈরি করে, কিন্তু প্রচার না থাকলে ক্রেতার সংখ্যা সীমিত থাকে।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
