১৩টি গরু থেকে ১০ বছরে ৪৫ গরু ও ৫২ মহিষ; শুধু মহিষ বেচলেই সোয়া কোটি টাকা
দিনাজপুরের কাহারোলে এক চাকরিজীবী চাকরি ছেড়ে ২০১৬ সালে ১৩টি গরু দিয়ে খামার শুরু করেন, এখন সেখানে মহিষ ও গরু মোটাতাজা হয়। তিন মাস পরপর তিনি ব্যবসায়ীদের কাছে পশু বেচেন।
দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের এক উদ্যোক্তা ২০০৭ সালে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর শেষ করে ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি শুরু করেন। প্রতিষ্ঠানটি প্রান্তিক মানুষের আত্মকর্মসংস্থানে কাজ করত; নানা জেলায় ঘুরে তিনি সফল খামারিদের কাজ দেখেছেন ও আধুনিক প্রাণিসম্পদ ব্যবস্থাপনা শিখেছেন। চাকরিতে মন বসছিল না, তাই ২০১৬ সালে ৫০ শতক জমিতে মাত্র ১৩টি দেশি গরু নিয়ে খামার শুরু করেন। খামারের আয়ে পরে আরও ৫৭ শতক জমি কিনেছেন, এখন ১০৭ শতকের খামারে ২৪০ ফুট লম্বা ও ৯০ ফুট চওড়া তিনটি লাগোয়া শেড, দুটি নতুন শেড ও একটি গুদামঘর হয়েছে। খামারে এখন ৪৫টি দেশি-বিদেশি গরু ও ভারতীয় সংকর জাতের ৫২টি মহিষ। মাসিক বেতন ও দৈনিক হাজিরায় ১০ থেকে ১৫ জন নিয়মিত কাজ করেন। প্রতিটি পশুকে দৈনিক ১২ থেকে ২২ কেজি খাবার দেওয়া হয়: খড়, ভুসি, খইল, নেপিয়ার ঘাস, প্রাকৃতিক ঘাস ও সাইলেজ। গুদামে সব সময় দুই থেকে আড়াই মাসের খাবার মজুত থাকে, প্রায় আট বিঘায় তিনি নিজেই নেপিয়ার ঘাস চাষ করেন। কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও রাজশাহীর সিটি হাটসহ উত্তরাঞ্চল থেকে তুলনামূলক কম দামে পশু কিনে মোটাতাজা করে তিন মাস পরপর স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে বেচেন। তাঁর হিসাবে একটি মহিষের সর্বনিম্ন দাম ৭০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা, শুধু মহিষ বেচলেই অন্তত সোয়া কোটি টাকা পাওয়া যাবে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, এটি উপজেলার একমাত্র মহিষের খামার এবং শুরু থেকে খাদ্য ব্যবস্থাপনা, টিকা ও পরিচর্যায় তাঁকে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
যা শেখার আছে
- ১.খামার ছোট করে শুরু করে আয় থেকে জমি, শেড ও গুদামে বিনিয়োগ করলে ঝুঁকি কম থাকে।
- ২.কয়েক মাসের খাবার গুদামে মজুত রাখা এবং নিজের জমিতে ঘাস চাষ করা খাদ্যের জোগান ও খরচ স্থির রাখে।
- ৩.দূরের হাট থেকে কম দামে কিনে তিন মাসের চক্রে বেচলে মূলধন দ্রুত ঘোরে; এর জন্য ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক জরুরি।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
