ফেলে দেওয়া কার্টন থেকে পাটকলের কোন, সপ্তাহে ১৫–২০ হাজার কোন ও ৫০ জন কর্মী
যশোরের এক স্বল্পশিক্ষিত উদ্যোক্তা বস্তা সেলাইয়ের কাজ থেকে কার্টনের ফড়িয়া, তারপর কার্টনের উৎপাদক হয়েছেন। এখন ফেলে দেওয়া কার্টনের মণ্ড দিয়ে পাটকলের সুতার কোন বানিয়ে বিক্রি করেন।
যশোরের ঝুমঝুমপুরে বিসিকের ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প নগরীতে একটি ছোট কারখানা চালান ৫৩ বছর বয়সী এক উদ্যোক্তা। তিনি মাত্র তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছেন। আশির দশকের শুরুতে ১০ বছর বয়সে মাসে ১৫ টাকা বেতনে বস্তা সেলাইয়ের কাজ শুরু করেন। কাজ হারানোর পর মায়ের সঞ্চয় থেকে পাওয়া ১৩৫ টাকা নিয়ে ভাঙারি কাগজ ও কার্টনের ফড়িয়ার কাজে নামেন। ১৯৯৫ সালের দিকে ঘর ভাড়া নিয়ে কার্টন সংগ্রহ করে একটি বলপেন কোম্পানিকে সরবরাহ করতেন। ২০০৯ সালে বিসিকের প্লট ভাড়া নিয়ে প্যাকেজিংয়ের শিট বানানো শুরু করেন, পাঁচ বছর আগে প্লটটি কিনে নেন। ২০২১ সালের মাঝামাঝি অগ্রণী ব্যাংকের যশোর বিসিক শাখা থেকে ৫০ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে ফেলে দেওয়া কার্টনের মণ্ড দিয়ে পাট সুতার কোন তৈরির ব্যবসা শুরু করেন। কারখানায় প্রতিদিন দুই টন পুরোনো কার্টন লাগে, যা স্থানীয় ফড়িয়ারা সরবরাহ করেন; তিনি কেজিপ্রতি ১০ টাকায় কেনেন। সপ্তাহে ১৫–২০ হাজার কোন তৈরি হয়, কাজ করেন প্রায় ৫০ জন। কোন বিক্রি হয় খুলনার ফুলতলার একটি ও অভয়নগরের একটি পাটকলে, প্রতিটির গড় দাম ৩ টাকা। খরচ বাদে প্রতি কোনে মুনাফা মাত্র ৩০ থেকে ৫০ পয়সা। তিনি আরও বড় হতে বিসিকে নতুন প্লট নিতে চান।
যা শেখার আছে
- ১.ফেলে দেওয়া কার্টনের মতো সস্তা কাঁচামালকে পণ্যে বদলালে ফড়িয়া থেকে উৎপাদক হওয়া যায়, তবে পুঁজি লাগে; এখানে ৫০ লাখ টাকার ঋণ লেগেছে।
- ২.প্রতি কোনে লাভ মাত্র ৩০–৫০ পয়সা, তাই সপ্তাহে হাজার হাজার কোনের নিয়মিত বিক্রিই ব্যবসা টিকিয়ে রাখে।
- ৩.দুটি পাটকলের মতো অল্প কয়েকজন ক্রেতার ওপর নির্ভরতা ঝুঁকি, আর কার্টন আসে ফড়িয়াদের হাত ধরে, তাই সরবরাহ ও ক্রেতা দুই দিকই নজরে রাখতে হয়।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
