মূল অংশে যান
  • এই সাইটের তথ্য কপিরাইটভুক্ত — অনুমতি ছাড়া কপি করা নিষেধ
  • আমরা কোনো টাকার লেনদেন করি না
  • টাকা নিয়ে কোনো ব্যবসার প্রচার করি না
  • ভুল পেলে জানান — যাচাই করে ঠিক করি

কার্টন ও বক্স তৈরি

ঢেউতোলা কাগজে কার্টন ও বাক্স বানানোর কারখানা। ছোট পার্সেল কার্টন প্রতিটি ৳২৪–৪০, আর দেশে দিনে সাড়ে তিন থেকে চার লাখ পার্সেলই সবচেয়ে বড় বাজার।

  • শেষ পর্যালোচনা: ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • সংস্করণ ১
কার্টন ও বক্স তৈরি

কার্টন ও বক্স তৈরি

শুরুর পুঁজি
৳৩,০০,০০০ – ৳৩০,০০,০০০
সম্পাদকীয় অনুমান
জনবল
৪ – ৩০ জন
প্রথম বিক্রি
৪৫ – ১২০ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
খরচ উঠতে
৬ – ১২ মাস
সম্পাদকীয় অনুমান
কাজের ধরন
ওয়ার্কশপ · মাঝারি কঠিন

ব্যবসাটি সম্পর্কে

ঢেউতোলা কাগজের বোর্ড কেটে, ভাঁজ করে ও আঠা দিয়ে কার্টন বা বাক্স বানানোর কারখানা। এই ব্যবসার ক্রেতা আলাদা কেউ নয় — বেকারি, মিষ্টির দোকান, আচার ও মসলার কারখানা, জুতার কারখানা, পোশাকের কারখানা, ওষুধের দোকান, আর সবচেয়ে বড় ক্রেতা কুরিয়ার ও ই-কমার্স। ই-ক্যাবের হিসাবে সারা দেশে দিনে ৩ লাখ ৫০ হাজার থেকে ৪ লাখ পার্সেল যায়, আর তার প্রায় প্রতিটির জন্য একটা করে বাক্স লাগে। সরকার ২০২৬ সালের বর্ষপণ্য ঘোষণা করেছে পেপার ও প্যাকেজিং পণ্যকে। বাণিজ্য সচিব বলেছেন, রপ্তানি প্রণোদনা ও উৎপাদন সহায়তা দেওয়া হবে। বাংলাদেশ ফ্লেক্সিবল প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের হিসাবে প্যাকেজিং শিল্পের বাজার ছয় হাজার কোটি টাকারও বেশি আর এতে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ ৫০ হাজার কর্মসংস্থান আছে। পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধ হওয়ায় কাগজের প্যাকেজিংয়ের চাহিদাও বাড়ছে। দারাজে ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ছোট পার্সেল কার্টনের খুচরা দাম প্রতিটি ৳২৪–৪০, আর ২০ ইঞ্চির বড় থ্রি-প্লাই কার্টন ৳৫৬০। সমস্যা একটাই আর সেটা বড়: কাগজের দাম। কাঁচামালের দর বাড়লে কার্টনের দাম সঙ্গে সঙ্গে বাড়ানো যায় না, কারণ ক্রেতা বছরের দরে চুক্তি করে রাখে।

আয়-ব্যয়ের হিসাব

খাতপরিসরসূত্রসংশোধন পাঠান
মাসিক চলতি মূলধন৳২,০০,০০০ – ৳২০,০০,০০০সম্পাদকীয় অনুমান
বিক্রয় মূল্য৳২৪ – ৳৪০ / এককবাজারদর
পরিবর্তনশীল খরচ৳১২ – ৳২২ / এককসম্পাদকীয় অনুমান
মোট লাভের হার৪৫% – ৫০%সম্পাদকীয় অনুমান
প্রথম বিক্রি পর্যন্ত সময়৪৫ – ১২০ দিনসম্পাদকীয় অনুমান
খরচ উঠে আসার সময়৬ – ১২ মাসসম্পাদকীয় অনুমান
নগদ চক্র১৫ – ৬০ দিনসম্পাদকীয় অনুমান
অপচয় ও ক্ষতির হার৫% – ১০%সম্পাদকীয় অনুমান
দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা৫০০ – ৫,০০০সম্পাদকীয় অনুমান

শুরু করতে যা লাগবে

  • করুগেশন মেশিন, কাটিং ও ক্রিজিং মেশিন, স্টিচিং বা গ্লুইং মেশিন, ফ্লেক্সো প্রিন্টার, স্ট্র্যাপিং মেশিন আর ওজন মাপার যন্ত্র। মেশিনের দাম কোনো দলিলে পাওয়া যায়নি, তাই পুঁজির অঙ্ক আন্দাজ।যন্ত্রপাতি
  • ক্রাফট কাগজের রোল, মিডিয়াম পেপার, আঠা, স্টিচিং তার ও ছাপের কালি। কাগজের দর কোনো প্রকাশিত সূত্রে পাওয়া যায়নি — এটাই এই পাতার সবচেয়ে বড় ঘাটতি।শুরুর মাল
  • টিআইএন ও ভ্যাট নিবন্ধন — জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। কারখানা ও কোম্পানির কাছে বিল দিতে হয় বলে এ দুটো ছাড়া ব্যবসা চলে না; বিল থেকে উৎসে কর কাটা হয়।লাইসেন্স
  • ফায়ার লাইসেন্স — ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স। কাগজের গুদাম ও কারখানা আগুনের ঝুঁকিপূর্ণ বলে এটি লাগে; ফি ও মেয়াদ কারখানার আকারভেদে আলাদা এবং তা যাচাই করা যায়নি।লাইসেন্স
  • ট্রেড লাইসেন্স — সিটি করপোরেশন বা পৌরসভা। ফরম ৳১০, লাইসেন্স বই ৳৫০, আদর্শ কর ৳৩০, স্ট্যাম্প ৳১৫০–৩০০, লাইসেন্স ফি ব্যবসার ধরন অনুযায়ী ৳১০০–৬০,০০০; ৩–৫ কার্যদিবস।লাইসেন্স
  • কাগজকল বা কাগজের আমদানিকারক-পরিবেশক, আঠা ও কালির সরবরাহকারী। একটার বেশি কাগজের উৎস রাখা দরকার, কারণ সরবরাহ আটকে গেলে পুরো কারখানা বসে যায়।সরবরাহকারী
  • শুকনো ও প্রশস্ত ঘর, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, আর ট্রাক ঢোকার রাস্তা। কার্টন হালকা কিন্তু জায়গা নেয় অনেক, তাই গুদামই সবচেয়ে বড় জায়গা।কাজের জায়গা

কাজের ধাপ

  1. 1আগে ক্রেতা ঠিক করুন, মেশিন নয়। কোন কারখানা বা কুরিয়ার আপনার কাছ থেকে নিয়মিত কার্টন নেবে — সেটা নিশ্চিত না হয়ে মেশিন কিনবেন না।
  2. 2কোন মাপের কার্টন বেশি লাগে তা জেনে নিন। এক-দুই মাপে বেশি অর্ডার পেলে ছাঁচ ও সেটআপের খরচ অনেক কমে।
  3. 3ঘর নিন — কাগজের রোল, বোর্ড ও তৈরি কার্টন রাখার জায়গা লাগে, আর জায়গাটা শুকনো হতে হবে। ভেজা কাগজে কার্টন দুর্বল হয়ে যায়।
  4. 4সিটি করপোরেশন বা পৌরসভা থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিন, টিআইএন ও ভ্যাট নিবন্ধন করান, আর ফায়ার লাইসেন্সের শর্ত জেনে নিন — কাগজের গুদাম আগুনের ঝুঁকিপূর্ণ।
  5. 5মেশিন বসান: করুগেশন মেশিন, কাটিং ও ক্রিজিং মেশিন, স্টিচিং বা গ্লুইং মেশিন, আর ছাপ দেওয়ার জন্য ফ্লেক্সো প্রিন্টার।
  6. 6কাগজের সরবরাহকারী ঠিক করুন আর দাম বাড়লে কী হবে তা আগেই কথা বলে রাখুন। কাঁচামালের দামই এই ব্যবসার লাভ ঠিক করে দেয়।
  7. 7প্রতিটি ক্রেতার জন্য নমুনা বানিয়ে অনুমোদন নিন — মাপ, প্লাই, বোর্ডের জিএসএম আর ছাপের নকশা লিখিতভাবে চূড়ান্ত করুন।
  8. 8দাম দেওয়ার সময় চুক্তির মেয়াদ ছোট রাখুন। এক বছরের দরে চুক্তি করে ফেললে মাঝপথে কাগজের দাম বাড়লে পুরো ক্ষতি আপনার।
  9. 9কুরিয়ার ও ই-কমার্সের দিকে আলাদা করে নজর দিন — দেশে দিনে সাড়ে তিন থেকে চার লাখ পার্সেল যায়, আর এটাই সবচেয়ে বড় ও বাড়ন্ত বাজার।
  10. 10মৌসুমি চালানের জন্য আগে থেকে মাল বানিয়ে রাখুন — আম, লিচু ও ঈদের আগে হঠাৎ চাহিদা বাড়ে আর তখন কাগজেরও টান পড়ে।

মৌসুম

  1. জানুস্বাভাবিক
  2. ফেব্রুস্বাভাবিক
  3. মার্চস্বাভাবিক
  4. এপ্রিলবেশি
  5. মেবেশি
  6. জুনবেশি
  7. জুলাইস্বাভাবিক
  8. আগস্টস্বাভাবিক
  9. সেপ্টেস্বাভাবিক
  10. অক্টোবেশি
  11. নভেবেশি
  12. ডিসেবেশি
বেশিস্বাভাবিককম

কোন জেলায় ভালো

  • খুব উপযোগীচট্টগ্রাম · বন্দর, পোশাক কারখানা ও রপ্তানিকারক — রপ্তানির কার্টনের চাহিদা এখানেই বেশি।
  • খুব উপযোগীঢাকা · কুরিয়ার, ই-কমার্স, ওষুধ ও প্রসাধনীর পরিবেশক — সব ধরনের ক্রেতা এখানে; তবে ঘরভাড়া চড়া।
  • খুব উপযোগীগাজীপুর · পোশাক ও খাদ্য কারখানার ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি, তাই কার্টনের নিয়মিত ক্রেতা হাতের কাছেই।
  • খুব উপযোগীনারায়ণগঞ্জ · কারখানা ও পাইকারি বাজার দুটোই কাছে, আর ঢাকায় পৌঁছানো সহজ।
  • সম্ভববগুড়া · উত্তরবঙ্গের শিল্প ও বাণিজ্যকেন্দ্র; খাদ্য ও কৃষিপণ্যের কারখানা আছে।
  • সম্ভবচাঁপাইনবাবগঞ্জ · আমের মৌসুমে চালানের বাক্সের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যায়; বছরের বাকি সময় বাজার ছোট।
  • সম্ভবকুমিল্লা · মহাসড়কের ধারে কারখানা বাড়ছে, আর ঢাকা-চট্টগ্রাম দুদিকেই মাল পাঠানো যায়।
  • সম্ভবযশোর · কৃষিপণ্য ও ফুলের চালান, আর বেনাপোল বন্দরকেন্দ্রিক ব্যবসা।
  • সম্ভবময়মনসিংহ · খাদ্য ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত কারখানা বাড়ছে; স্থানীয় বাজারে প্রতিযোগিতা কম।
  • সম্ভবসিলেট · চা, খাদ্য ও প্রবাসী পণ্যের প্যাকেজিংয়ের চাহিদা; কারখানার সংখ্যা তুলনামূলক কম।

ঝুঁকি ও সাবধানতা

  • বেশিচলতি মূলধন: কাঁচামালের দামই এখানকার আসল ঝুঁকি। কার্টনের ক্রেতারা সাধারণত মাপ ও দর ধরে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করেন, কিন্তু কাগজের দাম বিশ্ববাজার ও আমদানির উপর নির্ভর করে ওঠানামা করে। দাম বাড়লে সেই ক্ষতি চুক্তির মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারখানাকেই বইতে হয়। ২০২৬ সালে সরকার এ খাতকে বর্ষপণ্য ঘোষণা করে নীতিসহায়তার কথা বললেও কাঁচামালের দাম নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট ব্যবস্থা এখনো ঘোষণা হয়নি।
  • বেশিবাকিতে বিক্রি: ক্রেতা প্রায় সবই কারখানা বা কোম্পানি, আর তারা বিল দেয় ৩০ থেকে ৬০ দিনে বা তারও পরে। এদিকে কাগজ কিনতে হয় নগদে বা অল্প বাকিতে। বড় অর্ডার পাওয়া মানেই তাই বড় টাকা আটকে যাওয়া — অনেক ছোট কারখানা এখানেই মুখ থুবড়ে পড়ে। কত দিনে টাকা আসে তার কোনো যাচাই করা হিসাব পাওয়া যায়নি, তাই এই পাতায় নগদ চক্রের সংখ্যা দেওয়া হয়নি।
  • মাঝারিনির্ভরশীলতা: দু-একটা বড় ক্রেতার উপর নির্ভরতা বিপজ্জনক। একটি কারখানা বা কুরিয়ার প্রতিষ্ঠান সরে গেলে মাসের অর্ধেক কাজ একসঙ্গে চলে যায়, আর মেশিন বসে থাকলেও বিদ্যুৎ বিল ও শ্রমিকের মজুরি থামে না। ক্রেতা নিজেরা কারখানা বসালে বা সস্তা আমদানি করা কার্টনে গেলেও একই অবস্থা।
  • মাঝারিঅন্যান্য: আগুন আর ভেজা — দুটোই কাগজের শত্রু। গুদামভর্তি কাগজ ও তৈরি কার্টনে আগুন লাগলে কিছুই বাঁচে না, আর বর্ষায় ঘর স্যাঁতসেঁতে হলে বোর্ড নরম হয়ে কার্টনের শক্তি কমে যায়। ক্রেতা মাল ফেরত দিলে পুরো চালানই লোকসান, কারণ ব্যবহৃত কার্টন আর অন্য কাউকে বেচা যায় না।

সূত্র

কী বদলেছে

এখনো কোনো সংশোধন প্রকাশ হয়নি।

প্রশ্নোত্তর

এখনো কেউ প্রশ্ন করেননি। আপনিই প্রথম প্রশ্ন করুন।

একই রকম আরও ব্যবসা

হালকা উৎপাদন ও ওয়ার্কশপ

কম্পিউটার এমব্রয়ডারি কারখানা

মেশিনে কাপড়ের উপর সুতার নকশা বসিয়ে অন্যের জন্য কাজ করে দেওয়া। টুপির কারখানা, বুটিক ও শাড়ির কুঠিই খদ্দের। হাতে যে কারচুপিতে ১৫ দিন লাগে, মেশিন তা ঘণ্টায় করে।

পুঁজি
৳৩ লাখ – ৳১২ লাখ
জনবল
২ – ৩০ জন
প্রথম আয়
৩০ – ৯০ দিন
বাজারদর
হালকা উৎপাদন ও ওয়ার্কশপ

রাবার ও প্লাস্টিক স্যান্ডেল তৈরি

পুরোনো জুতা ও ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক গলিয়ে সস্তা স্যান্ডেল বানানো। দেশে ৩০০–৪০০ কারখানা, বছরে কোটি জোড়ার বেশি উৎপাদন, আর খুচরা দাম জোড়াপ্রতি ৳১০০–৫০০।

পুঁজি
৳২.৫ লাখ – ৳২৫ লাখ
জনবল
৩ – ২৫ জন
প্রথম আয়
৬০ – ১৮০ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
হালকা উৎপাদন ও ওয়ার্কশপ

মোজা ও গেঞ্জি কারখানা

ঝুট কাপড়ে গেঞ্জি, মোজা ও সোয়েটার বানানোর কারখানা। পাবনায় প্রায় এক হাজার কারখানা, বছরে ১৮–২০ কোটি পিস; তবে ভারতে স্থলপথ বন্ধ হওয়ায় ৬৫ শতাংশ শ্রমিক কর্মহীন।

পুঁজি
৳২ লাখ – ৳২৫ লাখ
জনবল
৫ – ১০০ জন
প্রথম আয়
৩০ – ৯০ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
হালকা উৎপাদন ও ওয়ার্কশপ

বই প্রকাশনা ও প্রিন্টিং

পাণ্ডুলিপি থেকে বই ছাপিয়ে বাজারে ছাড়া। সাদা লেখার কাগজ দিস্তাপ্রতি ৳৩৪–৪০, আর ছাপাখানা রাখতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ঘোষণা বাধ্যতামূলক।

পুঁজি
৳২ লাখ – ৳৫০ লাখ
জনবল
২ – ২০ জন
প্রথম আয়
৬০ – ২৪০ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান