পতিত জমিতে কফি চাষ, কেজি ২,৫০০–৩,০০০ টাকা; ফল ও চারা বিক্রিতে মাসে আয় প্রায় ৩০ হাজার
নীলফামারীর জলঢাকার এক নারী ২০১৮ সালে বাড়ির পাশের পতিত জমিতে কফি লাগান, পরে রামবুটান, কোকো ও ড্রাগন যোগ করেন। ফলন সব বছর সমান হয়নি, তবু খরচ বাদে মাসে প্রায় ৩০ হাজার টাকা আয় হয়।
নীলফামারীর জলঢাকার এক নারী ২০১৪ সালে স্বামীকে হারানোর পর কৈমারী বাজারের স্টেশনারি দোকান চালিয়ে দুই ছেলেকে পড়াশোনা করান। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বড় ছেলের পরামর্শে তিনি বাড়ির পাশের পতিত জমি সাফ করে ২০১৮ সালে কফি চাষ শুরু করেন; কিশোরগঞ্জ উপজেলা থেকে আনেন কয়েকটি অ্যারাবিকা জাতের চারা। এরপর একে একে লাগান রামবুটান, কোকো, ড্রাগন ও প্যাশন ফ্রুট; তিন বছরের মধ্যে ফলন আসতে শুরু করে। বাড়ি, পুকুর ও বাগান মিলিয়ে তাঁর পাঁচ বিঘা জমি, এর দুই বিঘায় কফি। প্রায় পাঁচ বছর ধরে কফি বিক্রি করছেন, কেজি ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা। রামবুটান বিক্রি হয় কেজি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায়। ফলন অবশ্য সমান নয়: ১০টি রামবুটান গাছে গত বছর ৪০০ কেজি বিক্রি হলেও এ বছর তিনটি গাছে ৮০ কেজি হয়েছে, বাকি সাতটিতে ফলন হয়নি। এ বছর রঙিন মাছের পোনা বিক্রি হয়েছে ৫ হাজার টাকার। সব খরচ বাদ দিয়ে ফল ও চারা বিক্রি করে তাঁর মাসে আয় প্রায় ৩০ হাজার টাকা। বাগানে এখন ২ হাজার ৫০০ কফির চারা, ৩০০ রামবুটানের চারা ও ২০০ কোকোর চারা আছে। আয়ের টাকায় আরও ৭৫ শতক জমি কিনেছেন। ছোট ছেলে অনলাইনে ফল ও চারা বিক্রিতে সাহায্য করেন।
যা শেখার আছে
- ১.কফি, রামবুটান বা কোকোর মতো গাছ ফল দিতে তিন বছরের মতো লাগে; এই অপেক্ষার সময়ের জন্য অন্য আয়ের উৎস (যেমন দোকান) ধরে রাখুন।
- ২.একটি ফসলের ওপর নির্ভর না করে ফল, চারা ও মাছের পোনা মিলিয়ে আয় ছড়িয়ে দিন, কারণ ফলন বছরভেদে ওঠানামা করে।
- ৩.ঘরে বসে অনলাইনে ফল ও চারা বিক্রি করলে ক্রেতার পরিধি বাড়ে।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
