৫ কেজি ফল থেকে ৫০ হাজার কফিচারা: গারো পাহাড়ের ঢালে ১০০ কৃষকের কফি, কেজি ২ হাজার টাকায় রোস্টেড
শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে এক কৃষিবিদ চাকরি ছেড়ে ২০২১ সালে কফির চারা তৈরি শুরু করেন এবং চার বছরে ৫০ হাজার চারা কৃষকদের বিনা মূল্যে দেন। এক কৃষক ৮০০ চারা থেকে ৫০০ কেজি ফল বেচে ৭৫ হাজার টাকা পেয়েছেন।
শেরপুরের নালিতাবাড়ী ও ঝিনাইগাতী এবং ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটের সীমান্তবর্তী ২২টি গ্রামে এখন কফি চাষ হচ্ছে। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, শতাধিক কৃষক প্রায় ৫০ হাজার কফিগাছ লাগিয়েছেন। এর মূল উদ্যোক্তা নালিতাবাড়ীর এক কৃষিবিদ, যিনি কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে পার্বত্য চট্টগ্রামের রুমায় কফি চাষ দেখে অনুপ্রাণিত হন। ২০২১ সালে পাঁচ কেজি কফি ফল সংগ্রহ করে তিনি নিজেই চারা তৈরি শুরু করেন, পরে চাকরি ছেড়ে পুরোপুরি কফিতে মন দেন। এখন তাঁর ১২ একর নিজস্ব জমিতে সারা বছর চারা তৈরি হয়। সাত মাস পলিব্যাগে রাখার পর চারা ৬–৭ ইঞ্চি হয়, একটি চারা তৈরিতে খরচ ২০ টাকা, আর লাগানোর তিন বছরের মধ্যে ফল ধরে। গত চার বছরে তিনি ৫০ হাজার চারা আগ্রহী চাষিদের বিনা মূল্যে দিয়েছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠান কৃষকদের কাছ থেকে ফল সংগ্রহ করে। এক কৃষক প্রায় দুই একর মাল্টাবাগানের ফাঁকে ২০২২ সালে ৮০০ কফিচারা লাগান; এ বছর ফল ধরেছে এবং ৫০০ কেজি ফল বেচে ৭৫ হাজার টাকা পেয়েছেন। ছয় কেজি তাজা ফল থেকে এক কেজি শাঁসযুক্ত বিন মেলে, আর তা থেকে ৮৫০ গ্রাম রোস্টেড বিন হয়। প্যাকেটজাত এক কেজি রোস্টেড কফি ২ হাজার টাকায় ময়মনসিংহ, দিনাজপুর, বগুড়া, কক্সবাজার, শ্রীমঙ্গল ও ঢাকার কফিশপে বিক্রি হচ্ছে।
যা শেখার আছে
- ১.কফি গাছে ফল আসতে লাগানোর পর প্রায় তিন বছর লাগে, তাই আগে থেকে এই অপেক্ষার খরচ ধরে রাখুন।
- ২.মাল্টাবাগানের ফাঁকা জায়গায় কফি লাগিয়ে একই জমি থেকে বাড়তি আয় করা গেছে।
- ৩.ফল বেচার চেয়ে প্রক্রিয়াজাত ও রোস্ট করা কফিতে প্রতি কেজিতে দাম অনেক বেশি, কিন্তু ফল থেকে বিন পর্যন্ত ওজন কমে যায় (৬ কেজি ফলে ১ কেজি বিন)।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
