দিনে ১,৫০০-২,০০০ টাকার জায়গায় ৬০০, বাকি সময় গ্যাসের লাইনে
মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে আগুনের পর চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহ ভেঙে পড়ে। আগে ২০-৩০ মিনিটে গ্যাস মিলত, এখন লাইনে ৪-৬ ঘণ্টা; একজন চালকের দৈনিক আয় ১,৫০০-২,০০০ টাকা থেকে নেমে দাঁড়ায় ৬০০ টাকায়।
২০২৬ সালের ২১ জুলাই মহেশখালীর কাছে ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে আগুন লাগার পর চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহ ভেঙে পড়ে — কর্ণফুলী গ্যাস দিনে ১৯ কোটি ঘনফুট পাচ্ছিল, যেখানে চাহিদা ৩৫ কোটি ঘনফুট, আর সিএনজি খাতে বরাদ্দ ছিল ৫ কোটি ঘনফুট। অটোরিকশাচালকদের কর্মঘণ্টার বড় অংশ চলে যায় ফিলিং স্টেশনের লাইনে দাঁড়িয়ে; আগে যেখানে ২০-৩০ মিনিটে গ্যাস নেওয়া হয়ে যেত, তখন লাগছিল ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা বা তারও বেশি। একজন চালক ভোর ৪টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে সকাল ১০টাতেও গ্যাস পাননি; আরেকজন আট ঘণ্টা অপেক্ষার পর যে গ্যাস পান, তাতে গাড়ি চলেছে মাত্র দুই ঘণ্টা। স্বাভাবিক সময়ে যাঁর দৈনিক আয় ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা, সেই চালকের আয় নেমে আসে ৬০০ টাকায়, আর তিনি আশঙ্কা করছিলেন পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। একজনের ভাষায়, "গ্যাস নিতে নিতেই অর্ধেক দিন চলে যায়। এরপরে রাস্তায় নেমে আর কত টাকা ভাড়া মারব?" মালিককে দিনে কত জমা দিতে হয়, প্রতিবেদনে তা বলা নেই।
যা শেখার আছে
- ১.সিএনজি অটোরিকশার আয় জ্বালানি সরবরাহের ওপর দাঁড়ানো — একটি টার্মিনালের দুর্ঘটনাই দৈনিক আয় দুই-তৃতীয়াংশ কমিয়ে দিতে পারে
- ২.এ পেশার সবচেয়ে বড় লুকানো খরচ জ্বালানির দাম নয়, লাইনে দাঁড়িয়ে হারানো কর্মঘণ্টা
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে এবং পরিচয় গোপন রেখে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। আপনিই প্রথম লিখুন।
