ভেজাল মধুতে ঠকে চাকরি ছাড়া, নিজের পরীক্ষাগার গড়ে মধু বিক্রিতে বছরে ১০–১২ লাখ
২০০৩ সালে ভেজাল মধু কিনে ঠকার পর চট্টগ্রামের এক ব্যক্তি চাকরি ছেড়ে মধুর উৎস ও মান যাচাই শিখে নিজস্ব পরীক্ষাগার ও বিক্রয়কেন্দ্র গড়েন; প্রতিষ্ঠানটির বছরে আয় ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা।
২০০৩ সালে বাবার অসুখে চিকিৎসকের পরামর্শে মধু দরকার হয়। চট্টগ্রামের এই ব্যক্তি বাজারে দেখেন, বেশির ভাগ মধু পুরোনো বোতলে বিক্রি হচ্ছে; অনেক খুঁজে যে বোতল কেনেন, সেটিও পরে ভেজাল প্রমাণিত হয়। তখন তিনি একটি বায়িং হাউসে চাকরি করতেন। মধুর ব্যবসা করবেন বলে সেই চাকরি ছেড়ে দেন, যদিও পরিচিতরা বলেছিলেন মধু নিয়ে ব্যবসা করে টিকে থাকা কঠিন।
২০০৫ সালে সিরাজগঞ্জের শর্ষেখেতে মৌচাষিদের সঙ্গে কয়েক দিন থেকে প্রায় ২০ কেজি মধু সংগ্রহ করেন। সুন্দরবনের মধু খুঁজতে গিয়ে দেখেন, এক মহাজন মধুতে চিনির শিরা মেশান — তখন নিজেই নৌকায় মৌয়ালদের গ্রামে যান। বিএসটিআইয়ের মানদণ্ড, বিদেশি জার্নাল ঘেঁটে পড়াশোনা করেন; রিফ্র্যাক্টোমিটার, মাইক্রোস্কোপ, পিএইচ মিটার কিনে কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগে পরাগরেণু দেখে মধুর উৎস চেনা শেখেন। বাড়িতে গড়েছেন ছোট গবেষণাকেন্দ্র, সেখানে ৭২ ধরনের মধুর নমুনা।
কাজটিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে একটি প্রতিষ্ঠান গড়েন; চট্টগ্রাম নগরে এর কার্যালয়ে শর্ষে, কালিজিরা, লিচু, সুন্দরবনের গরান-গেওয়া ফুলের মধু বিক্রি হয়। প্রথম আলোর ২০২৬ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বছরে আয় ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা। জাতীয় মৌ মেলায় ২০১৮ ও ২০১৯ সালে প্রথম পুরস্কারও পেয়েছেন।
যা শেখার আছে
- ১.মধুর বাজারে আস্থাই মূল পুঁজি — উৎস নিজে যাচাই করুন, মধ্যস্বত্বভোগীর কথায় ভরসা নয়।
- ২.মান পরীক্ষার ন্যূনতম যন্ত্র (রিফ্র্যাক্টোমিটার ইত্যাদি) আর জ্ঞান থাকলে ভেজাল ঠেকানো ও ক্রেতাকে প্রমাণ দেখানো যায়।
- ৩.ফুলভেদে আলাদা মধু (শর্ষে, লিচু, সুন্দরবন) রাখলে ভিন্ন দামের ক্রেতা ধরা যায়।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে এবং পরিচয় গোপন রেখে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। আপনিই প্রথম লিখুন।
