১০×১৫ ফুটের ভাড়া দোকানে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ শুরু; ৮ বছরে ৩০ জনের এজেন্সি ও শিশুদের কোডিং কর্মসূচি
খাগড়াছড়িতে এক উদ্যোক্তা ২০১৫ সালে ছোট ভাড়া দোকানে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ শুরু করেন। কম ভোল্টেজ, ইন্টারনেট না থাকা আর কম সচেতনতার মধ্যেও এখন সেখানে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, ডিজিটাল এজেন্সি ও শিশুদের প্রোগ্রামিং কর্মসূচি চলছে।
খাগড়াছড়ির এক উদ্যোক্তা ঢাকায় ভালো চাকরির সুযোগ থাকা সত্ত্বেও ২০১৪ সালের গোড়ার দিকে ছোট ভাইকে নিয়ে নিজের জেলায় ফেরেন। শুরুতে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা আর ইউনানি-আয়ুর্বেদিক ওষুধের পাইকারি ব্যবসা করতেন। ২০১৫ সালে ১০ বাই ১৫ ফুটের একটি দোকান ভাড়া নিয়ে চেম্বার ও ওষুধ ব্যবসা চালান, পাশাপাশি ভাড়া বাসায় কলেজ শিক্ষার্থীদের স্বল্পমূল্যে ইংরেজি পড়ান। পরে পাশে আরও একটি ছোট দোকান ভাড়া নিয়ে কয়েকজনকে কম্পিউটারের প্রাথমিক বিষয় শেখান এবং আনুষ্ঠানিকভাবে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু করেন। শুরুটা সহজ ছিল না: দিনের বেলা কম ভোল্টেজে কম্পিউটার চলত না, ফ্যানও ঠিকমতো চলত না, ব্রডব্র্যান্ড ছিল না—গ্রামীণফোন আর টেলিটকের মডেমই ভরসা। ফ্রিল্যান্সিং বা ওয়েব ডেভেলপমেন্ট সম্পর্কে মানুষের ধারণাও ছিল না, তাই নিজের খরচে স্কুল-কলেজে বিনা মূল্যে সেমিনার করেছেন। ২০১৮ সালে শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে কাজের জন্য ডিজিটাল এজেন্সি চালু করেন; এখন সেখানে প্রায় ৩০ জনের দল, তাদের ২০ জনই তাঁর শিক্ষার্থী। ২০২২ সালের শেষে ৫ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের প্রোগ্রামিং ও ইংরেজির কর্মসূচিতে প্রায় ৬০ জন যুক্ত হয়েছে। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে তাঁর প্রতিষ্ঠান জেলার শ্রেষ্ঠ হিসেবে স্বীকৃতি পায়।
যা শেখার আছে
- ১.কম ভোল্টেজ ও ইন্টারনেটের অভাবের মতো অবকাঠামো সমস্যা আগে থেকে ধরে বিকল্প (মডেম, ব্যবস্থা) রাখুন।
- ২.মানুষ যে কোর্স চেনে না, তার জন্য আগে বিনা মূল্যে সেমিনার করে সচেতনতা তৈরি করতে হয়।
- ৩.প্রশিক্ষণের সঙ্গে এজেন্সি চালু করলে শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে কাজ পায় এবং প্রতিষ্ঠানের আয়ের নতুন পথ খোলে।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
