আমবাগানের ফাঁকে তুলা: বিঘায় ১২–১৫ মণ, খরচ বাদে লাভ ৩৫–৪০ হাজার টাকা
চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে বরেন্দ্র অঞ্চলের এক কৃষক আমগাছের ফাঁকে তুলা চাষ করে বিঘায় ১২–১৫ মণ ফলন পাচ্ছেন, যার দাম ৫০–৬০ হাজার টাকা। খরচ বাদে বিঘাপ্রতি ৩৫–৪০ হাজার টাকা লাভ থাকায় এলাকায় তুলার জমি বাড়ছে।
বাসসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার আখিলা গ্রামের ৫৪ বছরের এক কৃষক আমবাগানের গাছের ফাঁকে তুলা চাষ করে লাভবান হয়েছেন। তিনি বিঘাপ্রতি ১২ থেকে ১৫ মণ তুলা পান, যার দাম ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা। সব খরচ বাদ দিয়ে বিঘায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা লাভ থাকে। তিনি জানান, আগের বছরের চেয়ে এ বছর কৃষকেরা বেশি জমিতে তুলা লাগিয়েছেন। একই উপজেলার কাজলা গ্রামের আরেক চাষি প্রায় ১৪ বছর ধরে তুলা চাষ করছেন; তাঁর কথায়, তুলায় খরচ কম, লাভ বেশি। তুলা উন্নয়ন বোর্ডের মাঠ কর্মকর্তা বলেছেন, বরেন্দ্রের যে উঁচু জমিতে সেচের অভাবে অন্য ফসল হয় না, সেখানে তুলা ভালো হয়। বিক্রির জন্য চাষিদের বাজারে যেতে হয় না, ক্রেতারাই বাড়ির দরজায় আসেন। বোর্ড এই অঞ্চলে ১৫ উপজেলায় ১৮টি ইউনিটের মাধ্যমে উচ্চফলনশীল বীজ, সার ও সেচ সহায়তা দিচ্ছে, ১০৫টি প্রদর্শনী প্লট করে চাষিদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে। আম্রপালি বাগানে সাথি ফসল হিসেবে এবং চরের অনুর্বর জমিতেও তুলা ছড়াচ্ছে; তুলার পাশে ভুট্টা, মিষ্টিকুমড়া, তিল, মুগ, শসা, করলার মতো রিলে ফসলও হচ্ছে। তুলার বীজ থেকে ভোজ্যতেল ও খৈল হয়, আর শুকনো গাছ জ্বালানি হিসেবে কাজে লাগে।
যা শেখার আছে
- ১.যে জমিতে সেচের অভাবে অন্য ফসল হয় না বা আমবাগানের ফাঁকা জায়গা পড়ে থাকে, সেখানে তুলা বাড়তি আয় আনতে পারে।
- ২.তুলা উন্নয়ন বোর্ডের স্থানীয় ইউনিট থেকে বীজ, সার ও প্রশিক্ষণ নিন; বিক্রির পথও তারা চেনে।
- ৩.তুলার পাশে রিলে ফসল লাগিয়ে একই জমি থেকে আয় বাড়ানো যায়।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে এবং পরিচয় গোপন রেখে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। আপনিই প্রথম লিখুন।
