তুলা চাষ
তুলা উন্নয়ন বোর্ডের ঠিক করা দরে বেচতে হয় — ২০২৫-২৬ মৌসুমে বীজতুলা মণপ্রতি ৳৩,৯০০। দেশের গড় ফলনে বিঘায় প্রায় ৭.৬ মণ, মানে ছয়-সাত মাসে বিঘায় ৳৩০,০০০-এর মতো।
- শেষ পর্যালোচনা: ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
- সংস্করণ ১

তুলা চাষ
- শুরুর পুঁজি
- ৳১৬,০০০ – ৳১,০০,০০০ সম্পাদকীয় অনুমান
- জনবল
- ১ – ৬ জন
- প্রথম বিক্রি
- ১৫০ – ২৪০ দিন সম্পাদকীয় অনুমান
- খরচ উঠতে
- ৬ – ৯ মাস সম্পাদকীয় অনুমান
- কাজের ধরন
- খামার · মাঝারি কঠিন
ব্যবসাটি সম্পর্কে
তুলা চাষ আসলে তুলা উন্নয়ন বোর্ডের ব্যবস্থার ভেতরের কাজ। বোর্ড চাষিকে নিবন্ধন করে, প্রণোদনা দেয়, মাঠে পরামর্শ দেয়, আর প্রতি মৌসুমে বীজতুলার দর ঠিক করে দেয়। ২০২৫-২৬ মৌসুমে ১২ মার্চ ২০২৬ তারিখে দর ঘোষণা হয় মণপ্রতি ৳৩,৮৪০, তারপর ১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে বাড়িয়ে ৳৩,৯০০ করা হয়। এই দরে কেনে জিনিং মিল আর স্পিনিং মিল; খোলা বাজারে তুলা বেচার আর কোনো বড় জায়গা নেই, কারণ তুলা খাওয়ার জিনিস নয় — মিল ছাড়া এর ক্রেতা নেই। প্রণোদনার আওতায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষি প্রায় ৳৮,০০০ দামের উপকরণ বিনামূল্যে পান: ৬০০ গ্রাম হাইব্রিড তুলাবীজ, ২৫ কেজি ইউরিয়া, ৫০ কেজি টিএসপি, ৫০ কেজি এমওপি, ২ কেজি বোরন, ৪৫০ মিলি বালাইনাশক আর ৩০০ মিলি পিজিআর। কিন্তু সবাই পান না — ২০২৬-২৭ মৌসুমে ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর মিলিয়ে ৫০০ জন। এবার আসল হিসাব। বোর্ডের নিজের তথ্যে ২০২৪-২৫ সালে ৪৬,৭৬০ হেক্টরে ৯৯,৭৯৮ টন বীজতুলা হয়েছে — হেক্টরে ২.১৩ টন, বিঘায় প্রায় ২৮৫ কেজি বা ৭.৬ মণ। ৳৩,৯০০ দরে তা বিঘায় প্রায় ৳২৯,৮০০। ২০২৪ সালে চাষিরা বলেছেন বিঘায় খরচ ৳১৬,০০০–২০,০০০। অর্থাৎ ছয়-সাত মাস জমি আটকে রেখে বিঘায় হাতে থাকে ৳১০,০০০–১৪,০০০। একই জমিতে কপি করলে তিন মাসে ৳৮০,০০০–১,০০,০০০ বিক্রি হয়, তারপর ইরি ধানও করা যায়। তাই চাষিরা এক বছর তুলা করে পরের বছর আর করতে চান না, আর দেশ চাহিদার মাত্র ৩ ভাগ তুলা নিজে ফলায়।
আয়-ব্যয়ের হিসাব
| খাত | পরিসর | সূত্র | সংশোধন পাঠান |
|---|---|---|---|
| মাসিক চলতি মূলধন | ৳২,৩০০ – ৳৮,৬০০ | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| বিক্রয় মূল্য | ৳৯৬ – ৳১০৫ / কেজি | বিতর্কিত | |
| পরিবর্তনশীল খরচ | ৳২৭ – ৳৭০ / কেজি | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| মোট লাভের হার | ২৭% – ৭৪% | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| প্রথম বিক্রি পর্যন্ত সময় | ১৫০ – ২৪০ দিন | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| খরচ উঠে আসার সময় | ৬ – ৯ মাস | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| নগদ চক্র | ১৮০ – ২৫০ দিন | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| অপচয় ও ক্ষতির হার | ৫% – ২০% | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা | ১ – ৮ | সম্পাদকীয় অনুমান |
শুরু করতে যা লাগবে
- বীজ — বোর্ডের উফশী ওপি জাতে বিঘায় ১ কেজি, হাইব্রিডে ৫০০–৬০০ গ্রাম। বোর্ডের উদ্ভাবিত ১৯টি জাতের মধ্যে ১৮টি উফশী ও ১টি হাইব্রিড চাষ হচ্ছে, আর ২টি বেসরকারি কোম্পানির আমদানি করা হাইব্রিড। ২০২২ সালের খবরে দেশি বীজ কেজি ৳২৫, চীনা হাইব্রিড ৳২,৬০০–৩,০০০ (পুরোনো দর)।শুরুর মাল
- সার ও বালাইনাশক — প্রণোদনার প্যাকেজে যা দেওয়া হয় সেটাই একটা বিঘার মূল চাহিদার ধারণা দেয়: ২৫ কেজি ইউরিয়া, ৫০ কেজি টিএসপি, ৫০ কেজি এমওপি, ২ কেজি বোরন, ৪৫০ মিলি বালাইনাশক, ৩০০ মিলি পিজিআর। সঙ্গে কেজিপ্রতি ৫ গ্রাম গাউচু বা কনফিডর বীজ শোধনে।শুরুর মাল
- তুলা উন্নয়ন বোর্ডে চাষি হিসেবে নিবন্ধন — বোর্ডের ওয়েবসাইটে 'অনলাইনে চাষী রেজিস্ট্রেশন' পাতা আছে, আর উপজেলার বোর্ড অফিসে সরাসরি করা যায়। প্রণোদনা আর বোর্ডের ঘোষিত দরে বেচার সুযোগ এই ব্যবস্থার ভেতর দিয়েই আসে। কোনো ফি পাওয়া যায়নি।লাইসেন্স
- ট্রেড লাইসেন্স — নিজের জমির তুলা নিজে বেচলে লাগে না। অন্য চাষির তুলা কিনে মিলে সরবরাহ করতে চাইলে লাগে: ফরম ৳১০, আদর্শ কর ৳৩০, লাইসেন্স বই ৳৫০, নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্প ৳১৫০–৩০০, ৩–৫ কর্মদিবস। লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসায় প্রথমবার ৳৫,০০০ ও পরে দৈনিক ৳৫০০ জরিমানা।লাইসেন্স
- গোড়ায় মাটি তোলা, অংগজ শাখা ছাঁটা, পাতায় সার স্প্রে ও বর্ষায় নিষ্কাশন — বোর্ডের মাঠকর্মীরা এগুলো দেখিয়ে দেন, আর বোর্ড নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেয়। ২০২৪ সালে ১২,৩৭৫ জন প্রশিক্ষিত চাষি ৳১০ কোটির প্রণোদনার আওতায় ছিলেন।দক্ষতা
- উঁচু জমি যেখানে পানি ৬–৮ ঘণ্টার বেশি জমে না, বেলে দোআঁশ বা দোআঁশ মাটি, পিএইচ ৬–৭.৫। মাঝারি লবণাক্ত (৮ ডিএস/মিটার) উঁচু জমিতেও চলে। তোলা তুলা শুকনো রাখার ঢাকা জায়গা।কাজের জায়গা
কাজের ধাপ
- 1উপজেলার তুলা উন্নয়ন বোর্ডের অফিসে যান, আগে। তুলা চাষ বোর্ডের ব্যবস্থার ভেতরেই হয় — বীজ, প্রণোদনা, পরামর্শ আর বেচার দর সবই এখান থেকে। বোর্ডের ওয়েবসাইটে 'অনলাইনে চাষী রেজিস্ট্রেশন'-এর পাতাও আছে।
- 2প্রণোদনার তালিকায় নাম তোলার চেষ্টা করুন। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষি প্রায় ৳৮,০০০ দামের উপকরণ বিনামূল্যে পান — ৬০০ গ্রাম হাইব্রিড তুলাবীজ, ২৫ কেজি ইউরিয়া, ৫০ কেজি টিএসপি, ৫০ কেজি এমওপি, ২ কেজি বোরন, ৪৫০ মিলি বালাইনাশক ও ৩০০ মিলি পিজিআর। সংখ্যা সীমিত: ২০২৬-২৭ মৌসুমে ঠাকুরগাঁওয়ে ১৯০ জন, দিনাজপুরে ৩১০ জন।
- 3জমি বাছুন সাবধানে। তুলা দাঁড়ানো পানি সহ্য করে না — এমন উঁচু জমি লাগে যেখানে বন্যা বা বৃষ্টির পানি ৬–৮ ঘণ্টার বেশি জমে না। বেলে দোআঁশ বা দোআঁশ মাটি সবচেয়ে ভালো, পিএইচ ৬–৭.৫। ছায়াযুক্ত স্যাঁতসেঁতে জমি বাদ।
- 4চাষের আগে বিঘায় ১–১.৫ টন গোবর বা কম্পোস্ট ছিটিয়ে দিন, তারপর বৃষ্টির ফাঁকে জো বুঝে ৩–৪টি চাষ ও মই দিন।
- 5১৫ জুন থেকে ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে বুনুন, দেরি হলে ১৫ আগস্টের মধ্যে। হাইব্রিড আগাম বোনা ভালো। সময়মতো বুনলে তুলা তুলে ওই জমিতে বোরো, আলু, গম, ভুট্টা বা সবজি করা যায় — দেরি করলে সেই পরের ফসলটাও পিছিয়ে যায়।
- 6বীজের হিসাব: বোর্ডের উফশী ওপি জাতে বিঘায় ১ কেজি, হাইব্রিডে ৫০০–৬০০ গ্রাম। বোনার আগে ৩–৪ ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে শুকনো মাটি বা ছাই দিয়ে ঘষে নিন, আর কেজিপ্রতি ৫ গ্রাম গাউচু বা কনফিডর মিশিয়ে ছায়ায় ৪০–৫০ মিনিট শুকিয়ে বুনুন।
- 7সারি থেকে সারি ৯০ সেমি (২ হাত), গাছ থেকে গাছ ৪৫ সেমি (১ হাত), সারি উত্তর-দক্ষিণে। আধা ইঞ্চি গভীরে ২–৩টি বীজ দিয়ে হালকা মাটি চাপা দিন। ভালো ফলনের জন্য বিঘায় অন্তত ৩,০০০ গাছ থাকা দরকার।
- 8বপনের ৪০ ও ৬০ দিন পর ইউরিয়ার পার্শ্ব প্রয়োগের সময় গাছের গোড়ায় মাটি তুলে দিন, যাতে গাছ ঢলে না পড়ে আর পানি সরে যায়। ৫০–৬০ দিন বয়স থেকে ১০০ দিন পর্যন্ত ১০–১৫ দিন পরপর ৩–৪ বার পাতায় ইউরিয়া বা ডিএপি ২% ও এমওপি ১% স্প্রে করলে বোল বেশি ও বড় হয়।
- 9পানি জমতে দেবেন না। তুলা গাছ কোনো বয়সেই ২–৩ দিনের বেশি জমে থাকা পানি সহ্য করে না; জমি সবসময় ভেজা থাকলে কুঁড়ি, ফুল আর ফল ঝরে যায়। বর্ষায় নালা খোলা রাখুন।
- 10গাছের গোড়ার দিকের ১–২টি অংগজ শাখা কেটে দিন। এতে উপরের ফলধারী শাখা ভালো বাড়ে, আলো-বাতাস চলে, রোগ-পোকা কমে।
- 11নভেম্বর থেকে বোল ফাটলে কয়েক দফায় তুলা তুলুন, শুকনো অবস্থায়। ভেজা বা ময়লা মেশানো তুলার দর কাটা যায়। তোলার মজুরিই এই সময়ের বড় খরচ।
- 12বোর্ডের ঘোষিত দরে জিনিং মিলে বীজতুলা দিন। ২০২৫-২৬ মৌসুমে দর ছিল মণপ্রতি ৳৩,৯০০ (১ এপ্রিল ২০২৬, প্রথমে ১২ মার্চ ৳৩,৮৪০)। দর প্রায়ই তোলার পরে ঘোষণা হয়, তাই বোর্ডের জেলা অফিসের নোটিশ নিজে দেখে নিন।
মৌসুম
- জানুবেশি
- ফেব্রুবেশি
- মার্চস্বাভাবিক
- এপ্রিলকম
- মেকম
- জুনবেশি
- জুলাইবেশি
- আগস্টস্বাভাবিক
- সেপ্টেস্বাভাবিক
- অক্টোস্বাভাবিক
- নভেবেশি
- ডিসেবেশি
কোন জেলায় ভালো
- খুব উপযোগীবগুড়া · তুলা উন্নয়ন বোর্ডের বগুড়া জোনের সদর; ২০২৫-২৬ মৌসুমে বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও পাবনা মিলিয়ে ৮২০ জন চাষিকে প্রণোদনা।
- খুব উপযোগীদিনাজপুর · ঠাকুরগাঁও জোনের আওতায়; ২০২৬-২৭ মৌসুমে ৩১০ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষি প্রণোদনা পেয়েছেন, পার্বতীপুর ও ফুলবাড়ী ইউনিটে বিতরণ হয়েছে।
- খুব উপযোগীরংপুর · তুলা উন্নয়ন বোর্ডের রংপুর আঞ্চলিক কার্যালয়; ২০২৪ সালে রংপুর অঞ্চলে ৭,০০০ চাষি ২,৩৭৫ হেক্টরে তুলা করেছেন।
- খুব উপযোগীঠাকুরগাঁও · তুলা উন্নয়ন বোর্ডের ঠাকুরগাঁও জোন; ২০২৬-২৭ মৌসুমে ১৯০ জন চাষিকে প্রণোদনা আর ৫৭৪ হেক্টরের লক্ষ্যমাত্রা। দরের নোটিশও এখান থেকে প্রকাশিত।
- সম্ভববান্দরবান · জেলা তুলা উন্নয়ন বোর্ড অফিস আছে; জুমে পাহাড়ী তুলার চাষ।
- সম্ভবচুয়াডাঙ্গা · জেলায় তুলা উন্নয়ন বোর্ডের কার্যালয় আছে; তবে তামাক ও ভুট্টার সঙ্গে জমির লড়াই কঠিন।
- সম্ভবখাগড়াছড়ি · জেলা তুলা উন্নয়ন বোর্ড অফিস আছে; এখানে পাহাড়ী তুলা হয়, যার চাষ পদ্ধতি সমভূমির থেকে আলাদা।
- সম্ভবলালমনিরহাট · রংপুর অঞ্চলের তুলার এলাকা; ২০২৪ সালের খবরে এখানকার চাষি ফলন নিয়ে সন্তুষ্ট কিন্তু দর নিয়ে হতাশ বলে জানিয়েছেন।
- সম্ভবপাবনা · বগুড়া জোনের আওতায় প্রণোদনা কর্মসূচির জেলা।
- সম্ভবরাজশাহী · তুলা উন্নয়ন বোর্ডের রাজশাহী জোন কার্যালয় আছে; বরেন্দ্রের উঁচু জমি জলাবদ্ধতা এড়ায়।
- সম্ভবসিরাজগঞ্জ · বগুড়া জোনের আওতায়, প্রণোদনা কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত; তবে যমুনার চরে বন্যার ঝুঁকি আছে।
- কম উপযোগীরাঙ্গামাটি · পাহাড়ী তুলার এলাকা, কিন্তু জিনিং মিল দূরে বলে পরিবহন খরচে দরের বড় অংশ চলে যায়।
ঝুঁকি ও সাবধানতা
- বেশিঅন্যান্য: জলাবদ্ধতা। তুলা গাছ কোনো বয়সেই ২–৩ দিনের বেশি জমে থাকা পানি সহ্য করে না, আর বপন হয় ঠিক বর্ষার মাঝখানে, জুন-জুলাইয়ে। চারা অবস্থায় পানি জমলে গোড়াপচা ধরে; পরে ভেজা থাকলে কুঁড়ি, ফুল আর বোল ঝরে যায়। একটা ভারী বর্ষা পুরো ক্ষেত শেষ করতে পারে।
- মাঝারিচলতি মূলধন: খরচ বাড়ছে, দর বাড়ছে না। চাষিদের হিসাবে বিঘার খরচ ২০২৩ সালে ছিল ৳১১,০০০–১৪,০০০, ২০২৪ সালে ৳১৬,০০০–২০,০০০ — এক বছরে প্রায় দেড় গুণ। একই সময়ে দর বেড়েছে মণে মাত্র ৳১০০। প্রণোদনার ৳৮,০০০ এই ফাঁক কিছুটা ঢাকে, কিন্তু সবাই পান না।
- বেশিচাহিদা: একই জমিতে অন্য ফসল অনেক বেশি টাকা দেয়। কপি করলে তিন মাসে বিঘায় ৳৮০,০০০–১,০০,০০০ বিক্রি, তারপর ইরি ধানও করা যায়; তুলা ছয়-সাত মাস জমি আটকে রেখে দেশের গড় ফলনে বিঘায় ৳২৯,৮০০ দেয়। তাই চাষিরা এক বছর তুলা করে পরের বছর আর করতে চান না। ২০২১ সালের মধ্যে ১ লাখ হেক্টরে যাওয়ার লক্ষ্য ছিল; ২০২৪-২৫ সালে আবাদ ৪৬,৭৬০ হেক্টর।
- বেশিনির্ভরশীলতা: এক ক্রেতা, এক দর। তুলা খাওয়ার জিনিস নয়, মিল ছাড়া এর ক্রেতা নেই, আর দর ঠিক করে দেয় বোর্ড ও জিনার্সদের কমিটি। চাষিরা মণপ্রতি ৳৫,০০০ চেয়েছেন ন্যায্য লাভের জন্য; পেয়েছেন ২০২৩ সালে ৳৩,৮০০, ২০২৪ ও ২০২৫-২৬ মৌসুমে ৳৩,৯০০। মার্কিন কৃষি বিভাগের হিসাবে ২০২৫-২৬-এর দর আগের বছরের চেয়ে ৫ ভাগ কম। দর নিয়ে দরদামের কোনো জায়গা নেই।
- মাঝারিবাকিতে বিক্রি: দর আসে দেরিতে। ২০২৫-২৬ মৌসুমের প্রথম দর ঘোষণা হয় ১২ মার্চ ২০২৬, সংশোধিত দর ১ এপ্রিল ২০২৬ — অথচ তুলা তোলা শুরু হয় নভেম্বরে। চাষি তুলা তোলেন, মজুরি দেন, কিন্তু কত পাবেন তা নিশ্চিত জানেন না। বগুড়া জোন ফেব্রুয়ারিতে 'বেসরকারী মূল্য' হিসেবে ৳৩,৮৪০ জানিয়েছিল।
সূত্র
যে হিসাবের সূত্র: শুরুর পুঁজি, শুরুর পুঁজি · বাংলাদেশ
২০২৫-২৬ মৌসুমের উৎপাদিত প্রতিমণ বীজতুলার মূল্য ৩৯০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে (প্রকাশ ০১-০৪-২০২৬)
সংগ্রহ: ২১ সেপ, ২০২৬যে হিসাবের সূত্র: বিক্রয় মূল্য · ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর
ইউরিয়া, ডিএপি, টিএসপি ও এমওপি সারের দাম কেজিতে ৫ টাকা বাড়ান হয়েছে (প্রকাশ ১১-০৪-২০২৩)
সংগ্রহ: ২১ সেপ, ২০২৬যে হিসাবের সূত্র: শুরুর পুঁজি · বাংলাদেশ
ঠাকুরগাঁওয়ে ১৯০ তুলা চাষির প্রণোদনা, আবাদ বাড়াতে তুলা উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগ (প্রকাশ ১৪-০৭-২০২৬)
সংগ্রহ: ২১ সেপ, ২০২৬যে হিসাবের সূত্র: শুরুর পুঁজি, মাসিক চলতি মূলধন · ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর
- সংগ্রহ: ২১ সেপ, ২০২৬
যে হিসাবের সূত্র: পরিবর্তনশীল খরচ · বাংলাদেশ
- সংগ্রহ: ২১ সেপ, ২০২৬
যে হিসাবের সূত্র: বিক্রয় মূল্য · ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর
বীজতুলা কেনা-বেচা: ২০২৫-২৬ তুলাচাষ মৌসুমের বেসরকারী মূল্য ৩৮৪০/- প্রতি মণ (প্রকাশ ১৬-০২-২০২৬)
সংগ্রহ: ২১ সেপ, ২০২৬যে হিসাবের সূত্র: বিক্রয় মূল্য · বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও পাবনা
সমভূমির তুলাচাষ প্রযুক্তি — জমি নির্বাচন, বপনের সময়, বীজের হার, সার ও পরিচর্যা
সংগ্রহ: ২১ সেপ, ২০২৬যে হিসাবের সূত্র: প্রথম বিক্রি পর্যন্ত সময় · বাংলাদেশ
সিটি কর্পোরেশন থেকে ট্রেড লাইসেন্স প্রাপ্তির ধাপ সমূহ — ফি, কাগজপত্র, সময় ও জরিমানা
সংগ্রহ: ২১ সেপ, ২০২৬যে হিসাবের সূত্র: requirements · বাংলাদেশ
Farmers in Thakurgaon count losses as potato prices fall
সংগ্রহ: ২৮ ফেব, ২০২৬যে হিসাবের সূত্র: শুরুর পুঁজি · ঠাকুরগাঁও
কী বদলেছে
এখনো কোনো সংশোধন প্রকাশ হয়নি।
প্রশ্নোত্তর
এখনো কেউ প্রশ্ন করেননি। আপনিই প্রথম প্রশ্ন করুন।
একই রকম আরও ব্যবসা
কৃষি ও খামারচরের কৃষি ও বাদাম চাষ
নদীর চরে বাদাম, ভুট্টা ও মিষ্টিকুমড়ার চাষ। জমি প্রায় বিনা পয়সায়; ২৫ শতকে ৳১৬,০০০ খরচে ৳২৬,৪০০ ওঠে, একরে খরচ ৳৬৫,০০০ আর বিক্রি ৳১,৩৭,০০০।
- পুঁজি
- ৳১৬ হাজার – ৳৬৫ হাজার
- জনবল
- ১ – ৫ জন
- প্রথম আয়
- ১০০ – ১২০ দিন
কৃষি ও খামারসয়াবিন চাষ
আমনের পর খালি জমিতে ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে সয়াবিন বুনে মে মাসে তোলা। লক্ষ্মীপুরে দেশের ৭০–৮০% সয়াবিন হয়, আর ভোজ্যতেল ও ফিড কারখানাই নিশ্চিত ক্রেতা।
- পুঁজি
- ৳১৭ হাজার – ৳১ লাখ
- জনবল
- ১ – ৫ জন
- প্রথম আয়
- ১৩০ – ১৫০ দিন
কৃষি ও খামারবাঁশ চাষ
ঝাড় করে বাঁশ লাগিয়ে বছর বছর বাঁশ কেটে বিক্রি। চারা লাগানোর ৩–৪ বছরের আগে একটি বাঁশও কাটা যায় না; এরপর গ্রামে প্রতিটি বাঁশ ৳১০০–২৫০, হাটে পাইকারি ৳১২৫–৩৫০।
- পুঁজি
- ৳১৫ হাজার – ৳৩ লাখ
- জনবল
- ১ – ৪ জন
- প্রথম আয়
- ১,০৯৫ – ২,৯২০ দিন
কৃষি ও খামারঔষধি গাছ চাষ
বাসক, কালোমেঘ, তুলসী ও অর্জুনের চাষ। ক্রেতা ওষুধ কোম্পানি, তাই দাম চুক্তি বা দরপত্রে ঠিক হয় — বিঘায় কালোমেঘে ৳১৫,০০০ খরচে ২০–২২ মণ, মণ ৳২,৪০০।
- পুঁজি
- ৳১৫ হাজার – ৳১ লাখ
- জনবল
- ১ – ৫ জন
- প্রথম আয়
- ৯০ – ৩৬৫ দিন
