নির্বাচনের ১৫ দিনে পর্যটনে শতকোটি টাকার লোকসান, হোটেল বুকিং ১০ শতাংশের নিচে
জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে কক্সবাজার প্রায় পর্যটকশূন্য হয়ে পড়ে; অধিকাংশ হোটেলে বুকিং ১০ শতাংশের নিচে নেমে যায় আর ১৫ দিনে ক্ষতি দাঁড়ায় শতকোটি টাকা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে কক্সবাজার প্রায় পর্যটকশূন্য হয়ে পড়ে — ভোট উপলক্ষে মানুষ নিজ এলাকায় থেকে যান, আর ১১ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত অটো, ট্যাক্সিক্যাব, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচলে নিষেধাজ্ঞা ছিল। এই হিসাব কোনো একক ট্যুর অপারেটরের খাতার নয়; এটি এসেছে ট্যুর অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি, হোটেল-গেস্ট হাউস মালিক সমিতি আর সৈকতপাড়ের কয়েকজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর বয়ান থেকে। অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জানান, তারকা হোটেলে ১০–১৫ শতাংশ কক্ষ বুকিং থাকলেও তার বেশির ভাগই বিদেশি নাগরিক আর দেশি পর্যটক প্রায় নেই; তাঁর ভাষায়, "মৌসুম শেষ হওয়ার আগেই নির্বাচনি আবহে পর্যটন জোনে নীরবতা নেমে এসেছে।" অধিকাংশ হোটেলে বুকিং নেমে যায় ১০ শতাংশের নিচে, ১৪ ফেব্রুয়ারির মতো বছরের ব্যস্ততম দিনেও পর্যটক মেলেনি, আর হোটেল-গেস্ট হাউস মালিক সমিতির হিসাবে ১৫ দিনে ক্ষতি দাঁড়ায় শতকোটি টাকা। সৈকতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও একই ধাক্কা খান — এক আচার বিক্রেতার দৈনিক ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকার আয় নেমে ৪০০ টাকাতেও পৌঁছায়নি, এক চটপটি বিক্রেতার ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকার আয়ে নিজের খরচই উঠছিল না, আর এক ঝিনুক ব্যবসায়ী দোকান বন্ধ রেখে ঘরে বসে থাকেন।
যা শেখার আছে
- ১.ট্যুর অপারেটরের আয় ক্যালেন্ডারের কয়েকটা পিক তারিখে জমা — নির্বাচন বা পরিবহন নিষেধাজ্ঞা সেই তারিখ কেড়ে নিলে পুষিয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকে না
- ২.পর্যটননির্ভর সব ব্যবসার ঝুঁকি একই দিকে হেলে থাকে — হোটেল, পরিবহন, গাইড আর সৈকতের ছোট বিক্রেতা একসঙ্গেই মার খান
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে এবং পরিচয় গোপন রেখে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। আপনিই প্রথম লিখুন।
