মূল অংশে যান
  • এই সাইটের তথ্য কপিরাইটভুক্ত — অনুমতি ছাড়া কপি করা নিষেধ
  • আমরা কোনো টাকার লেনদেন করি না
  • টাকা নিয়ে কোনো ব্যবসার প্রচার করি না
  • ভুল পেলে জানান — যাচাই করে ঠিক করি

ট্যুর অপারেটর

ভ্রমণের দল নিয়ে যাওয়ার ব্যবসা। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের নিবন্ধন ছাড়া এটি আইনসম্মত নয়, আর ২০২৪ সালের বিধিমালা অনুযায়ী আবেদনেই লাগে ৳৩,০০,০০০ অফেরতযোগ্য ফি, ৳১০,০০,০০০ ব্যাংক সলভেন্সি ও ৳৫০,০০০ জামানত।

  • শেষ পর্যালোচনা: ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • সংস্করণ ১
ট্যুর অপারেটর

ট্যুর অপারেটর

শুরুর পুঁজি
৳৩,৫০,০০০ – ৳১৫,০০,০০০
বিতর্কিত
জনবল
২ – ১২ জন
প্রথম বিক্রি
৯০ – ৩৬৫ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
খরচ উঠতে
৬ – ২৪ মাস
সম্পাদকীয় অনুমান
কাজের ধরন
দোকান · কঠিন

ব্যবসাটি সম্পর্কে

দল বেঁধে ভ্রমণের আয়োজন করা — বাস বা ট্রেনের টিকিট, হোটেলের ঘর, খাওয়া, গাইড আর নির্দিষ্ট দিনের সূচি একসঙ্গে বেঁধে একটা দামে বিক্রি করা। বাংলাদেশে এটা এখন নিবন্ধনের আওতায়। বাংলাদেশ ট্যুর অপারেটর ও ট্যুর গাইড (নিবন্ধন ও পরিচালনা) আইন, ২০২১ অনুযায়ী ট্যুর অপারেটর বা ট্যুর গাইড হিসেবে কাজ করতে হলে নিবন্ধন নিতে হয়, আর নিবন্ধন দেয় বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড। আইনের অধীনে বাংলাদেশ ট্যুর অপারেটর (নিবন্ধন ও পরিচালনা) বিধিমালা, ২০২৪ প্রকাশিত হয় ২৮ মার্চ ২০২৪-এ। বিধিমালা অনুযায়ী নিবন্ধনের আবেদনের সঙ্গে দিতে হয় ৳৩,০০,০০০ অফেরতযোগ্য ফি, ১০ লাখ টাকার ব্যাংক সলভেন্সি সার্টিফিকেট আর ৳৫০,০০০ নিরাপত্তা জামানত। ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে জামানতের অঙ্ক বলা হয়েছে ৩ লাখ টাকা — দুই সূত্রে অমিল আছে, আর মূল গেজেট থেকে মিলিয়ে নেওয়া দরকার। যেটা কেউ অস্বীকার করছে না তা হলো ১০ লাখ টাকার ব্যাংক স্থিতি দেখাতে হবে। ট্যুর অপারেটরদের সংগঠন টোয়াব শুরু থেকেই বলছে এই অঙ্ক অবাস্তব, অন্য মন্ত্রণালয়ের লাইসেন্সে এত কড়া শর্ত নেই, আর তারা বিধিমালা সংশোধন ও ট্যুর অপারেটর সেবার ওপর ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছে। ফলে এই ব্যবসার আসল হিসাবটা প্রথম টাকার নয় — প্রথম কাগজের। যে ছোট উদ্যোক্তা বছরে দুই-তিনশো মানুষ নিয়ে কক্সবাজার বা বান্দরবান যান, তাঁর হাতে সাড়ে তেরো লাখ টাকার বন্দোবস্ত না থাকলে তিনি আইনত এই কাজ করতে পারেন না।

আয়-ব্যয়ের হিসাব

খাতপরিসরসূত্রসংশোধন পাঠান
মাসিক চলতি মূলধন৳১,০০,০০০ – ৳৫,০০,০০০সম্পাদকীয় অনুমান
বিক্রয় মূল্য৳৫,৫০০ – ৳১২,০০০ / এককসম্পাদকীয় অনুমান
পরিবর্তনশীল খরচ৳৩,৫০০ – ৳১০,০০০ / এককসম্পাদকীয় অনুমান
মোট লাভের হার১৭% – ৩৬%সম্পাদকীয় অনুমান
প্রথম বিক্রি পর্যন্ত সময়৯০ – ৩৬৫ দিনসম্পাদকীয় অনুমান
খরচ উঠে আসার সময়৬ – ২৪ মাসসম্পাদকীয় অনুমান
নগদ চক্র৭ – ৬০ দিনসম্পাদকীয় অনুমান
অপচয় ও ক্ষতির হার৫% – ১৫%সম্পাদকীয় অনুমান
দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা১ – ৬সম্পাদকীয় অনুমান

শুরু করতে যা লাগবে

  • বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের নিবন্ধন — বাংলাদেশ ট্যুর অপারেটর ও ট্যুর গাইড (নিবন্ধন ও পরিচালনা) আইন, ২০২১ এবং বাংলাদেশ ট্যুর অপারেটর (নিবন্ধন ও পরিচালনা) বিধিমালা, ২০২৪ (প্রকাশিত ২৮-০৩-২০২৪)। আবেদনের সঙ্গে ৳৩,০০,০০০ অফেরতযোগ্য ফি, ১০ লাখ টাকার ব্যাংক সলভেন্সি সার্টিফিকেট ও ৳৫০,০০০ নিরাপত্তা জামানত। জামানতের অঙ্ক নিয়ে সূত্রে অমিল আছে — ডেইলি স্টার বলছে ৩ লাখ টাকা। নিবন্ধনের মেয়াদ ও নবায়ন ফি এখানে যাচাই করা যায়নি; মূল গেজেট থেকে মিলিয়ে নিতে হবে।লাইসেন্স
  • ট্যুর গাইডের আলাদা নিবন্ধন — আইনে ট্যুর গাইড হিসেবে কাজ করতে হলেও নিবন্ধন নিতে হয়। গাইড নিবন্ধনের ফি ও শর্ত এখানে যাচাই করা যায়নি; বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের নিবন্ধন পোর্টাল থেকে জেনে নিতে হবে।লাইসেন্স
  • ট্রেড লাইসেন্স — সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদ। আবেদন ফরম ৳৫০, লাইসেন্স ফি ব্যবসার ধরন অনুযায়ী ৳২০০–২৬,০০০, ইউনিয়ন পরিষদে ৳২৩০–১,৫০০। মেয়াদ এক অর্থবছর, প্রতি বছর নবায়ন। ৩ কর্মদিবসে ইস্যু। সঙ্গে টিআইএন ও ভ্যাট নিবন্ধন লাগে — টোয়াব ট্যুর অপারেটর সেবার ওপর ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছে, অর্থাৎ ভ্যাট প্রযোজ্য।লাইসেন্স
  • দল সামলানো ও ঝুঁকি সামলানো — যাত্রী অসুস্থ হলে, গাড়ি নষ্ট হলে বা আবহাওয়ার কারণে নৌপথ বন্ধ হলে সঙ্গে সঙ্গে বিকল্প বের করা। প্যাকেজের দাম ঠিকভাবে হিসাব করতে পারাও এই দক্ষতার অংশ।দক্ষতা
  • হোটেল, রিসোর্ট ও পরিবহনের সঙ্গে আগে থেকে দর ও ঘর বুক করা। শীতের মৌসুমে কক্সবাজার, সাজেক ও বান্দরবানে ঘর কয়েক মাস আগে বুক না করলে মেলে না, আর অগ্রিম দিতে হয় নগদে।সরবরাহকারী
  • একটি অফিস, যেখানে ক্রেতা এসে বসতে পারেন আর কাগজপত্র রাখা যায়। নিবন্ধনের আবেদনে ঠিকানা লাগে, আর কর্পোরেট ও শিক্ষাসফরের কাজ পেতে দৃশ্যমান অফিস ছাড়া বিশ্বাস তৈরি হয় না।কাজের জায়গা

কাজের ধাপ

  1. 1ঠিক করুন আপনি ট্যুর অপারেটর হবেন নাকি ট্যুর গাইড। আইনে দুটো আলাদা নিবন্ধন, আর অপারেটরের আর্থিক শর্ত অনেক ভারী।
  2. 2হিসাব করে দেখুন টাকাটা আছে কি না — ৳৩,০০,০০০ অফেরতযোগ্য ফি, ৳৫০,০০০ জামানত আর ব্যাংকে ১০ লাখ টাকা দেখানোর ক্ষমতা। এই তিনটা না মিললে পরের ধাপে যাওয়ার মানে নেই।
  3. 3কোম্পানি বা অংশীদারি ফার্ম নিবন্ধন করুন এবং ট্রেড লাইসেন্স নিন — ফরম ৳৫০, লাইসেন্স ফি ব্যবসার ধরন অনুযায়ী ৳২০০–২৬,০০০, ৩ কর্মদিবসে ইস্যু।
  4. 4ব্যাংকে টাকা রেখে সলভেন্সি সার্টিফিকেট তুলুন। সার্টিফিকেটের তারিখ ও অঙ্ক দুটোই দেখা হয়, তাই আবেদনের ঠিক আগে তোলা ভালো।
  5. 5বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের নিবন্ধন পোর্টালে আবেদন করুন। আবেদনের আগে বিধিমালার মূল গেজেটটি নিজে পড়ে নিন — জামানতের অঙ্ক নিয়ে সংবাদপত্রে দুই রকম তথ্য আছে, আর চালানে ভুল অঙ্ক দিলে আবেদন আটকে যায়।
  6. 6গন্তব্য বেছে নিন এবং ওই গন্তব্যের হোটেল ও পরিবহনের সঙ্গে আগে থেকে দর ঠিক করে রাখুন। শীতের মৌসুমে কক্সবাজার বা সাজেকে গিয়ে ঘর খুঁজলে পাওয়া যায় না, আর পেলেও দর তিন গুণ।
  7. 7প্রতিটি প্যাকেজের খরচ লিখে বের করুন — পরিবহন, ঘর, খাওয়া, গাইড, প্রবেশ ফি আর অনিশ্চয়তার জন্য বাড়তি। দল ছোট হলে মাথাপিছু খরচ বাড়ে, তাই সর্বনিম্ন কতজন হলে ট্যুরটা চলবে সেই সংখ্যাটা আগে ঠিক করুন।
  8. 8বাতিলের নিয়ম লিখিতভাবে দিন — কত দিন আগে বাতিল করলে কত টাকা ফেরত। হোটেলের অগ্রিম ফেরত আসে না, আর সেই ক্ষতি কার ঘাড়ে যাবে তা আগে না লিখলে প্রতিবার আপনার ঘাড়েই যায়।
  9. 9সংরক্ষিত পর্যটন এলাকা ও বিশেষ পর্যটন অঞ্চলে ঢোকার আলাদা অনুমতি লাগে কি না তা স্থানীয় প্রশাসনের কাছ থেকে জেনে নিন — পার্বত্য জেলাগুলোতে দল নিয়ে যাওয়ার আগে অনুমতির নিয়ম বদলায়।
  10. 10ট্যুর গাইড নিয়োগের সময় দেখুন তিনি নিবন্ধিত কি না। আইনে ট্যুর গাইডের নিবন্ধনও আলাদাভাবে বাধ্যতামূলক, আর অনিবন্ধিত গাইড দিয়ে কাজ করালে দায় অপারেটরের ঘাড়ে পড়ে।
  11. 11যাত্রীর টাকা আলাদা হিসাবে রাখুন। ট্যুরের আগে আসা বায়না অন্য ট্যুরের হোটেল বিল মেটাতে ব্যবহার করলে এক মৌসুমেই হিসাব ভেঙে পড়ে, আর বাতিল বেশি হলে ফেরত দেওয়ার টাকা থাকে না।
  12. 12টোয়াবের মতো সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকুন — বিধিমালা ও ভ্যাট নিয়ে দাবি-দাওয়ার খবর সেখান থেকেই আগে আসে, আর শর্ত বদলালে আপনার পরিকল্পনাও বদলাতে হবে।

মৌসুম

  1. জানুবেশি
  2. ফেব্রুবেশি
  3. মার্চস্বাভাবিক
  4. এপ্রিলস্বাভাবিক
  5. মেকম
  6. জুনকম
  7. জুলাইকম
  8. আগস্টকম
  9. সেপ্টেস্বাভাবিক
  10. অক্টোস্বাভাবিক
  11. নভেবেশি
  12. ডিসেবেশি
বেশিস্বাভাবিককম

কোন জেলায় ভালো

  • খুব উপযোগীবান্দরবান · নীলগিরি, বগালেক ও থানচির ট্রেকিং প্যাকেজের কেন্দ্র; পাহাড়ি পথে দল নিয়ে যেতে স্থানীয় গাইড ও অনুমতির কাজ অপারেটরকেই করতে হয়।
  • খুব উপযোগীকক্সবাজার · দেশের সবচেয়ে বড় পর্যটন গন্তব্য — হোটেলের সংখ্যা ও দলবদ্ধ ভ্রমণের চাহিদা দুটোই এখানে সবচেয়ে বেশি, আর শীতের মৌসুমে ঘর আগে থেকে বুক না করলে মেলে না।
  • খুব উপযোগীঢাকা · ক্রেতা এখানেই — চাকরিজীবী পরিবার, কর্পোরেট অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান; বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের নিবন্ধনের কাজও ঢাকা থেকে হয়।
  • খুব উপযোগীখাগড়াছড়ি · সাজেকে ওঠার পথ এই জেলা দিয়ে; মৌসুমে কটেজ ও জিপের চাহিদা এত বেশি যে আগাম বুকিং ছাড়া প্যাকেজ বিক্রি করা যায় না।
  • খুব উপযোগীমৌলভীবাজার · শ্রীমঙ্গলের চা বাগান ও লাউয়াছড়া — রিসোর্টের সংখ্যা বেশি বলে দলভিত্তিক প্যাকেজ সাজানো সহজ।
  • খুব উপযোগীরাঙ্গামাটি · কাপ্তাই হ্রদ ও সাজেকমুখী ভ্রমণের প্রধান পথ; নৌকা ও জিপ ভাড়ার অগ্রিম এখানেই সবচেয়ে বড় খরচ।
  • খুব উপযোগীসিলেট · জাফলং, রাতারগুল ও চা বাগানের এক-দুই দিনের প্যাকেজ সারা বছর চলে, আর প্রবাসী পরিবারের ভ্রমণেও চাহিদা আছে।
  • সম্ভববাগেরহাট · সুন্দরবনের ভ্রমণ এখান থেকে ছাড়ে; বন বিভাগের অনুমতি ও নৌযানের ব্যবস্থা অপারেটরকেই করতে হয় বলে ছোট উদ্যোক্তার পক্ষে কঠিন।
  • সম্ভবখুলনা · সুন্দরবনমুখী ভ্রমণের বাণিজ্যিক কেন্দ্র এবং দক্ষিণ-পশ্চিমের যাত্রী সংগ্রহের জায়গা।
  • সম্ভবসুনামগঞ্জ · টাঙ্গুয়ার হাওরের নৌকাভ্রমণ বর্ষায় জমে, অর্থাৎ যখন অন্য গন্তব্য বন্ধ — মৌসুমের ফাঁক ভরাতে কাজে লাগে।

ঝুঁকি ও সাবধানতা

  • বেশিআইনি বাধ্যবাধকতা: নিবন্ধনের খরচই এই ব্যবসার সবচেয়ে বড় বাধা। ৳৩,০০,০০০ ফি অফেরতযোগ্য — আবেদন না-মঞ্জুর হলেও ফেরত আসে না। তার সঙ্গে ৳৫০,০০০ জামানত আর ১০ লাখ টাকার ব্যাংক স্থিতি দেখানোর শর্ত। টোয়াব শুরু থেকেই বলছে এই অঙ্ক অবাস্তব এবং অন্য মন্ত্রণালয়ের লাইসেন্সে এত কড়া শর্ত নেই। যিনি বছরে দুইশো মানুষ নিয়ে ঘোরেন, তাঁর পক্ষে এই শর্ত পূরণ করা কার্যত অসম্ভব — ফলে ছোট অপারেটররা অনিবন্ধিত থেকে যান, আর অনিবন্ধিত থাকা মানে আইনের বাইরে থাকা।
  • বেশিনির্ভরশীলতা: আয়ের পুরোটা আবহাওয়া ও পরিস্থিতির ওপর। বর্ষায় সাগর উত্তাল হলে সেন্ট মার্টিনের জাহাজ বন্ধ, পাহাড়ে ধস হলে সাজেক-থানচির রাস্তা বন্ধ, আর পার্বত্য এলাকায় ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা এলে বুক করা পুরো মৌসুম বাতিল। বাতিল হলে যাত্রীর টাকা ফেরত দিতে হয়, কিন্তু হোটেলের অগ্রিম ফেরত আসে না।
  • বেশিচলতি মূলধন: টাকা সব সময় আগে বেরিয়ে যায়। হোটেল ও বাসের অগ্রিম যায় ট্যুরের অনেক আগে, যাত্রীর পুরো টাকা আসে যাত্রার দিনে, আর কর্পোরেট বা শিক্ষাসফরের বিল আসে ট্যুর শেষ হওয়ার ৩০–৬০ দিন পর। এর ওপর ১০ লাখ টাকা ব্যাংকে আটকে রাখতে হয় আর ৳৫০,০০০ জামানত বোর্ডে পড়ে থাকে — অর্থাৎ কাজে লাগানোর মতো টাকা সব সময়ই কম।
  • বেশিচাহিদা: বছরের আয় চার-পাঁচ মাসে ঠেসে থাকে। নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি ভরা মৌসুম, আর জুন থেকে সেপ্টেম্বর প্রায় শূন্য — কিন্তু অফিস ভাড়া, কর্মীর বেতন আর লাইসেন্স খরচ বারো মাসই চলে। খারাপ মৌসুম পরপর দুটো এলে ছোট অপারেটর উঠে দাঁড়াতে পারেন না।
  • মাঝারিঅন্যান্য: যাত্রীর নিরাপত্তার দায়। সমুদ্রে ডুবে যাওয়া, পাহাড়ে পড়ে যাওয়া বা গাড়ি দুর্ঘটনা — কিছু হলে প্রথমে দায় আসে অপারেটরের ঘাড়ে, আর নিবন্ধিত না হলে অবস্থা আরও খারাপ। বিমার ব্যবস্থা ও লিখিত দায়সীমা ছাড়া এই কাজ করা মানে পুরো ব্যবসা এক দুর্ঘটনার দূরত্বে রাখা।

সূত্র

কী বদলেছে

এখনো কোনো সংশোধন প্রকাশ হয়নি।

প্রশ্নোত্তর

এখনো কেউ প্রশ্ন করেননি। আপনিই প্রথম প্রশ্ন করুন।

এই ব্যবসার গল্প

যা শিখেছিপ্রতিদিনের কাগজের প্রতিবেদনে কক্সবাজারের ট্যুর অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও সৈকতপাড়ের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা

নির্বাচনের ১৫ দিনে পর্যটনে শতকোটি টাকার লোকসান, হোটেল বুকিং ১০ শতাংশের নিচে

জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে কক্সবাজার প্রায় পর্যটকশূন্য হয়ে পড়ে; অধিকাংশ হোটেলে বুকিং ১০ শতাংশের নিচে নেমে যায় আর ১৫ দিনে ক্ষতি দাঁড়ায় শতকোটি টাকা।

কারণ
চাহিদা কম, অন্যান্য

একই রকম আরও ব্যবসা

ডিজিটাল ও বি২বি সেবা

ট্রাক ও পিকআপ ভাড়া

ট্রাক বা পিকআপ দিয়ে পণ্য পরিবহনের ব্যবসা। ডিজেল সরকারি দরে ৳১১৫ লিটার, কিন্তু ট্রাকভাড়ার কোনো সরকারি তালিকা নেই — দর-কষাকষিই ভরসা।

পুঁজি
৳৫ লাখ – ৳৩০ লাখ
জনবল
২ – ৪ জন
প্রথম আয়
১৫ – ৪৫ দিন
বাজারদর
ডিজিটাল ও বি২বি সেবা

ই-কমার্স ফুলফিলমেন্ট ও ডেলিভারি

অনলাইন বিক্রেতার পণ্য গুদামে রেখে, প্যাকেট করে, ক্রেতার হাতে পৌঁছে দিয়ে নগদ টাকা তুলে আনার কাজ। পার্সেলপ্রতি কুরিয়ারের দর ৳৫৫–১৯০, আর বিক্রেতাকে টাকা বুঝিয়ে দিতে হয় সর্বোচ্চ ১০ দিনে।

পুঁজি
৳২ লাখ – ৳২৫ লাখ
জনবল
৩ – ১৫ জন
প্রথম আয়
১০ – ৯০ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
ডিজিটাল ও বি২বি সেবা

মেডিকেল ট্যুরিজম সহায়তা

বিদেশে চিকিৎসা করাতে যাওয়া রোগীর অ্যাপয়েন্টমেন্ট, ভিসা, টিকিট ও থাকার ব্যবস্থা করে দেওয়া। আলাদা লাইসেন্স নেই, তবে ট্রাভেল এজেন্সির নিবন্ধন সনদ লাগে — মেয়াদ ৩ বছর।

পুঁজি
৳১.৫ লাখ – ৳১২ লাখ
জনবল
১ – ৬ জন
প্রথম আয়
৩০ – ১২০ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
ডিজিটাল ও বি২বি সেবা

পার্সেল ডেলিভারি এজেন্সি

অনলাইন বিক্রেতার মাল ক্রেতার কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবসা। দেশে দিনে ৩.৫–৪ লাখ পার্সেল যায়; বাজারদর ঢাকায় ৳৫৫–৭০, ঢাকার বাইরে ৳১৩৫–১৫০।

পুঁজি
৳১.৫ লাখ – ৳৬ লাখ
জনবল
২ – ১০ জন
প্রথম আয়
৭ – ৩০ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান