৩ লাখ টাকা ঋণে ১০ হাজার বাক্সের কাঁকড়া খামার, মাসে লাভ ৩০–৩৫ হাজার টাকা
সাতক্ষীরার শ্যামনগরের এক নারী ২০২০ সালে ঋণ নিয়ে ভাড়া নেওয়া জলাশয়ে নরম খোলসের কাঁকড়া চাষ শুরু করেন। পরিবারের পাঁচজন পালা করে কাজ করে শ্রমিক খরচ বাঁচিয়েছেন এবং লাভের টাকায় চিংড়ির ঘের ও আধা-পাকা বাড়ি করেছেন।
সাতক্ষীরার শ্যামনগরের বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের এক নারী আগে সংসার চালাতেন ভ্যানচালক স্বামীর আয়ে, খুবই কষ্টে। ২০২০ সালে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে তিন লাখ টাকা ঋণ নিয়ে তিনি ১০ হাজার বাক্সের নরম খোলসের কাঁকড়া চাষের খামার (কাঁকড়া পয়েন্ট) গড়ে তোলেন, বাড়ি থেকে এক কিলোমিটার দূরে দুই বিঘার ভাড়া নেওয়া জলাশয়ে। স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়িসহ পাঁচজন পালা করে ২৪ ঘণ্টা খামারে সময় দেন; খরচ বাঁচাতে কোনো শ্রমিক নেননি। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী মাসে ৩০০ থেকে ৪০০ কেজি কাঁকড়া উৎপাদন হয় এবং মাসে ৩০-৩৫ হাজার টাকা লাভ থাকে। এখন খামারে তাঁর বিনিয়োগ ১০ লাখ টাকা। ৪৫ থেকে ৫০ গ্রাম ওজনের কাঁকড়া কিনে এনে আলাদা বাক্সে রাখা হয়, বাড়তি পা ছেঁটে ফেলা হয়, খোলস ছাড়লে নরম কাঁকড়া মিঠাপানির পাত্রে তুলে রাখা হয়। আকারভেদে দাম ৩৫০–৪০০ টাকা থেকে কেজিপ্রতি ১ হাজার ৩০০ টাকা; বড় প্রতিষ্ঠান কিনে রপ্তানি করে। লাভের টাকায় তাঁরা ১৭ বিঘার চিংড়ি ঘের করেছেন, ভাঙা ঘরের জায়গায় দুই কক্ষের আধা-পাকা বাড়ি উঠেছে, মেয়েকে স্কুলে পড়াচ্ছেন। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কাঁকড়ার পোনা এখনো প্রায় শতভাগ প্রকৃতি থেকে ধরা, হ্যাচারিতে পোনা উৎপাদন পরীক্ষামূলক পর্যায়ে।
যা শেখার আছে
- ১.পরিবারের সদস্যরা পালা করে কাজ করলে শ্রমিকের খরচ বাঁচে, বিশেষত যে কাজে প্রতি তিন ঘণ্টা পরপর নজর রাখতে হয়।
- ২.ক্ষুদ্রঋণে ছোট করে শুরু করে লাভের টাকায় ধাপে ধাপে বিনিয়োগ বাড়ানো গেছে।
- ৩.পোনার প্রায় পুরোটাই প্রকৃতি থেকে সংগ্রহ করতে হয়, তাই যোগানের ঝুঁকি মাথায় রাখুন।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
