বর্গা নেওয়া দুই গরুর লাভ ৪৫ হাজার টাকা থেকে শতাধিক গাভির খামার; দুধ বেচে মাসে ৮ লাখের বেশি
চট্টগ্রামের কর্ণফুলীর এক খামারি ১৯৯৩ সালে প্রতিবেশীর দুটি গরু বর্গা নিয়ে শুরু করেন। আজ তাঁর শতাধিক গাভি ও বাছুর, দৈনিক ৩৫০-৪০০ লিটার দুধ, তবে খাবারের দাম বাড়ায় লাভ আশার চেয়ে কম।
১৯৯৩ সালে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার এক ব্যক্তি, যিনি তখন গ্রামে পারিবারিক একটি ছোট মুদিদোকান চালাতেন, বড় খামারি হওয়ার স্বপ্ন দেখেন। কিন্তু হাতে পুঁজি ছিল না, তাই এক প্রতিবেশীর কাছ থেকে দুটি গরু বর্গা নিয়ে পালন শুরু করেন। গরু দুটি বিক্রি করে লাভের অংশ হিসেবে পান ৪৫ হাজার টাকা। সেই টাকায় কেনেন একটি দুধেল গাভি, আর নিজের ঘরেই শুরু হয় খামার। আয় থেকে ধাপে ধাপে গাভি বেড়েছে; ২০১৬ সালে ৭০ লাখ টাকা দিয়ে খামারের ১২ শতক জায়গা কিনেছেন। এখন ফ্রিজিয়ান, শাহিওয়াল ও জার্সি জাতের শতাধিক গাভি ও বাছুর আছে, খাবারের জন্য প্রায় সাড়ে পাঁচ একর জমিতে জার্মান ঘাসের চাষ হয়। খামার থেকে দৈনিক ৩৫০ থেকে ৪০০ লিটার দুধ মেলে, লিটারপ্রতি ৭০ টাকায় বিক্রি হয়। শুধু দুধ বেচে মাসে আট লাখ টাকার বেশি আসে, খরচ বাদে কমপক্ষে চার লাখ টাকা থাকে। তবে গবাদিপশুর খাবারের দাম বেড়ে যাওয়ায় লাভ এখন প্রত্যাশার চেয়ে কম। তিনি, তাঁর দুই ছেলে ও পাঁচজন শ্রমিক মিলে খামার চালান। খামারের আয় থেকেই ৩৫ লাখ টাকা খরচ করে ঘর করেছেন; খামার ঘিরে তাঁর সম্পদ অন্তত তিন কোটি টাকা। স্থানীয় প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বলেন, তাঁকে দেখে এলাকার অনেকে খামার করতে উৎসাহী হচ্ছেন।
যা শেখার আছে
- ১.পুঁজি না থাকলে প্রতিবেশীর পশু বর্গা নিয়ে শুরু করা যায়; লাভের অংশ দিয়ে নিজের প্রথম গাভি কেনা গেছে।
- ২.আয়ের টাকা আবার খামারে লাগিয়ে ধাপে ধাপে বড় হতে ৩০ বছরের মতো লেগেছে; দ্রুত বড় হওয়ার তাড়া নয়, ধারাবাহিকতাই ভিত্তি।
- ৩.নিজের জমিতে ঘাস চাষ করলেও দানাদার খাবারের দাম বাড়লে লাভ কমে; লাভের হিসাবে খাবারের দামের ওঠানামা ধরুন।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
