কানের দুল বেচা ৫০ হাজারে একটি গাভি, ২০ বছরে ৬০টি; বন্যায় ৩০ লাখ টাকার গরু মরেছে
নোয়াখালীর এক গৃহিণী সোনার দুল বিক্রির ৫০ হাজার টাকায় একটি ফ্রিজিয়ান গাভি কিনে শুরু করেন; এখন খামারে ৬০টি গরু ও চারজন শ্রমিক, মাসে খরচ বাদে আয় প্রায় লাখ টাকা। করোনা, বন্যা ও গোখাদ্যের দামে আয় কমেছে।
প্রায় দুই দশক আগে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের এক গৃহিণী নিজের সোনার দুল বিক্রি করে পাওয়া ৫০ হাজার টাকায় একটি ফ্রিজিয়ান গাভি কেনেন। বাড়িতে গোয়ালঘর ছিল না, রান্নাঘরের এক পাশে গরু রাখতেন। ঘাস দেওয়া, গোসল করানো, দুধ দোহন ও বিক্রি—সব নিজেই করতেন, আর দুধের আয় খরচ না করে জমাতেন। গরু ১০টি হলে বাড়ির পাশে প্রায় ৫০ শতাংশ জায়গায় নতুন ঘর তোলেন; স্বামী কাপড়ের ব্যবসা ছেড়ে খামারে যোগ দেন। বিশ বছরে খামারে এখন ৬০টি গরু-বাছুর, কাজ করেন চারজন শ্রমিক, আর শ্রমিকের মজুরিসহ সব খরচ বাদে মাসে আয় লাখ টাকা। দৈনিক গড়ে ২০০ লিটার দুধ জেলা শহরের রেস্তোরাঁ ও মিষ্টির দোকানে পাইকারি বিক্রি হয়; কোরবানির আগে মোটাতাজা গরুও বেচেন। করোনায় হোটেল বন্ধ থাকায় শত শত মণ দুধ বিনা পয়সায় বিলাতে হয়, কিছু গরু নামমাত্র দামে বিক্রি করতে হয়। সাম্প্রতিক বন্যায় ১৫টি গাভি-বাছুর মরে যায়, যার বাজারমূল্য ২৮–৩০ লাখ টাকা; সরকারি সহায়তা মিলেছে এক হাজার টাকা। এক মাস আগে প্রায় তিন লাখ টাকার খড়ের গাদায় আগুনে সব খড় পুড়ে গেছে। গোখাদ্যের দাম বাড়ায় আয়ও কমেছে।
যা শেখার আছে
- ১.একটি গাভি থেকে শুরু করে দুধের আয় জমিয়ে ধাপে ধাপে বাড়ানো সম্ভব, তবে বড় হলে বন্যা ও রোগের ঝুঁকিও বাড়ে।
- ২.একজন ক্রেতার ওপর নির্ভর না করে একাধিক রেস্তোরাঁ ও মিষ্টির দোকানে দুধ বেচলেও লকডাউনে বিক্রি বন্ধ হতে পারে; বিকল্প বিক্রির পথ রাখুন।
- ৩.বন্যার ঝুঁকিপ্রবণ এলাকায় উঁচু জায়গা, বিমা বা জমানো তহবিল এবং খড়-খাদ্য মজুতের নিরাপত্তার ব্যবস্থা রাখুন।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
