৩,৬০০ টাকায় দুটি ছাগল থেকে ১২০ গরুর খামার; দুধ থেকে দই-মিষ্টিতে বছরে ৮২ লাখের বেশি আয়
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীর এক সাবেক ব্যাংককর্মী ২০১৭ সালে দুটি ছাগল দিয়ে শুরু করে সাত বছরে ১২০ গরুর খামার ও দুধ থেকে মিষ্টি-দইয়ের কারখানা গড়েছেন। খামার থেকে বছরে তাঁর লাভ ১ কোটি ৮ লাখ ৯৭ হাজার টাকা।
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীর এক যুবক মার্কেটিংয়ে স্নাতকোত্তর শেষ করে বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি নিয়েছিলেন, কিন্তু ২০১৫ সালে ছেড়ে গ্রামে চলে আসেন। ২০১৭ সালে মায়ের ১,৬০০ ও নিজের ২,০০০ টাকা, মোট ৩,৬০০ টাকায় দুটি ছাগল কিনে শুরু করেন। ছাগল দিয়ে বড় উন্নতি হবে না বুঝে ২০১৮ সালের ১৮ এপ্রিল ছাগল বিক্রির কিছু টাকা ও ঋণ নিয়ে চারটি উন্নত জাতের গাভি কেনেন। এখন তাঁর খামারে ১২০টি গরু: ৬৫টি গাভি, ৩২টি বকনা বাছুর ও ২৩টি এঁড়ে বাছুর। ৪৫টি গাভি দুই বেলায় ৬০০–৬২০ লিটার দুধ দেয়। সকালের ৩০০–৩১০ লিটার চারটি মিষ্টির দোকানে ৬৫ টাকা লিটারে বেচে দিনে গড়ে ২০ হাজার টাকা আসে, যা কর্মচারীর বেতন, খাবার ও চিকিৎসায় যায়। বিকেলের ৩০০–৩২০ লিটার দিয়ে চলে তাঁর মিষ্টির কারখানা, যেখানে ক্ষীর কাটারি, প্যারা সন্দেশ, কেক ও দুই রকম দই বানানো হয়। তিনটি দোকান ও অনলাইন থেকে দিনে গড়ে ৪৫ হাজার টাকা আয়; বছরে আয় ১ কোটি ৬২ লাখ, খরচ ৭৯ লাখ ২০ হাজার, খরচ বাদে ৮২ লাখ ৮০ হাজার টাকা। বছরে প্রায় ২৫ লাখ টাকার বাছুর বিক্রিও হয়। ১২ একরে ঘাস চাষ হয়, ১১ জন কর্মচারী স্থায়ীভাবে কাজ করেন।
যা শেখার আছে
- ১.ছোট শুরুর পর পশুর ধরন বদলানো যায়: ছাগলে বড় উন্নতি হবে না বুঝে তিনি গাভিতে গেছেন।
- ২.সকালের দুধ সরাসরি মিষ্টির দোকানে, বিকেলের দুধ নিজের কারখানায়, এভাবে ভাগ করলে দুধ বিক্রি আর প্রক্রিয়াজাত দুটো থেকেই আয় হয়।
- ৩.বাছুর বিক্রি আলাদা আয়ের উৎস; প্রতি বছর ১০টি বাছুর রেখে বাকিগুলো বিক্রি করে তিনি খামারও বাড়ান।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
