ফেরিঘাটের হোটেলে কয়েক কেজি দই দিয়ে শুরু; সেতু হতেই চাহিদা এত বাড়ল যে মিষ্টি বানানো বন্ধ
পিরোজপুরের বেকুটিয়া ফেরিঘাটে প্রায় দেড় দশক আগে হোটেল খোলা এক ব্যবসায়ী পরোটা-মিষ্টির পাশে কয়েক কেজি দই বানাতেন। বঙ্গমাতা সেতু চালুর পর দইয়ের চাহিদা এমন বেড়েছে যে তিনি মিষ্টি বানানো ছেড়ে দিয়েছেন, তবে দুধ জোগাড় করা আর দাম বাড়ানো এখন চ্যালেঞ্জ।
পিরোজপুরের বেকুটিয়া ফেরিঘাটের পূর্ব প্রান্তে প্রায় দেড় দশক আগে একটি খাবারের হোটেল খোলেন এক ব্যবসায়ী। শুরুতে পরোটা ও মিষ্টি বিক্রির পাশাপাশি কয়েক কেজি দুধের দই বানাতেন। ধীরে ধীরে দইয়ের সুনাম ছড়াতে থাকে। বিশেষ করে গত বছরের সেপ্টেম্বরে কঁচা নদীর ওপর বঙ্গমাতা সেতু চালু হওয়ার পর দই আরও জনপ্রিয় হয়, কারণ সেতু দেখতে আসা মানুষ দোকানে দই চেখে যান। স্থানীয়রা বলছেন, এখানকার দই প্রাকৃতিকভাবে, রাসায়নিক ছাড়া তৈরি, তাই স্বাদ ভালো। দইয়ের চাহিদা বাড়ায় তিনি এখন আর মিষ্টি বানান না, পুরো মনোযোগ দইয়ে। কিন্তু সমস্যাও আছে। ঈদের দিন থেকে চার-পাঁচ দিন তাঁর দুই মণ দুধের দইয়ের চাহিদা থাকে, অথচ চাহিদামতো দুধ পাওয়া যায় না, ফলে অনেক ক্রেতাকে ফিরিয়ে দিতে হবে। দুধের দাম বাড়ায় দইয়ের দামও বাড়াতে হয়েছে। এক বছর আগে প্রতি কেজি দই বিক্রি হতো ১৫০ টাকায়, এখন বিক্রি হয় ২০০ টাকায়। প্রতিবেদনে তাঁর মোট আয় বা মুনাফার হিসাব নেই, তবে স্পষ্ট যে ফেরিঘাটের ছোট হোটেল থেকে শুরু করে দই-ই এখন তাঁর মূল ব্যবসা। স্থানীয়দের কেউ কেউ মনে করেন, আরও বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করা গেলে এই দই এলাকার ঐতিহ্য হয়ে উঠতে পারে।
যা শেখার আছে
- ১.একটি পণ্য যখন আলাদা করে চলে, তখন বাকি পণ্য ছেড়ে সেটাতেই মনোযোগ দেওয়া যায়; এই দোকানি মিষ্টি বন্ধ করে দইতে জোর দিয়েছেন।
- ২.ঈদের মতো চাহিদার সময়ে দুধের জোগান আগে থেকে পাকা না থাকলে ক্রেতা ফিরিয়ে দিতে হয়; উৎসবের আগে সরবরাহকারী ঠিক করে রাখুন।
- ৩.ব্রিজ-ঘাটের মতো যাতায়াতের জায়গায় দোকান থাকলে পথচারীই ক্রেতা হয়; কাঁচামালের দাম বাড়লে দামও সময়মতো বাড়াতে হয়।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
