৮ হাজার টাকায় ৪০ গাছ ইজারা, ১৩ গাছ নিজের; ৫০টির বেশি গাছের রস ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি
দুবাই থেকে ফেরা কুমিল্লার এক যুবক পরিত্যক্ত খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ শুরু করেছেন। তিন মাসের মৌসুমে তাঁর কয়েক লাখ টাকা আয় হয়, আর রস আগাম অর্ডার ছাড়া পাওয়া কঠিন।
কুমিল্লার বুড়িচংয়ের জঙ্গলপুরে ক্ষেতের আইলে সারি সারি খেজুর গাছ পরিত্যক্ত পড়ে ছিল। দুবাই থেকে ফিরে এক যুবক দেখেন, তাঁর বাবা এক সময় গাছ ছিলে রস সরবরাহ করতেন। তিনিও সেই কাজে সহায়তা করতেন, তাই সেই গাছগুলো থেকে রস সংগ্রহের উদ্যোগ নেন। নিজের ছিল ১৩টি গাছ, সঙ্গে আরও ৪০টি গাছ প্রতিবছরের জন্য ৮ হাজার টাকায় ইজারা নেন। একজন সহযোগীকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেন। দিনে গড়ে প্রতি গাছ থেকে পাঁচ লিটার রস পান, বিক্রি করেন কেজিপ্রতি ৮০ টাকায়। খাটুনি বেশি বলে গাছগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করে পালা করে রস নামান; একদিন ২৬টি, পরদিন ২৭টি। কাজটি হয় অগ্রহায়ণ, পৌষ ও মাঘ মাসে, আর তিন মাসে তাঁর কয়েক লাখ টাকা আয় হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী আট হাজার টাকা পুঁজিতে দিনে ১০ হাজার টাকার বেশি আয় হচ্ছে। দিনে নামানো সব রসই বিক্রি হয়ে যায়; বেশি রস চাইলে আগাম অর্ডার দিতে হয়। শুরুতে অনেকে তাঁকে পাগল বলত, কাস্টমার পাওয়া নিয়ে সন্দেহ করত। এখন কেউ তা বলে না। স্থানীয় কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা বলেন, গাছির অভাবে রস হারিয়ে যেতে বসেছে।
যা শেখার আছে
- ১.পরিত্যক্ত গাছ ইজারা নিলে খুব কম পুঁজিতে শুরু করা যায়; এখানে ৪০ গাছের ইজারা ছিল বছরে ৮ হাজার টাকা।
- ২.রসের মৌসুম মাত্র তিন মাস, তাই ওই সময়ের মধ্যেই বেশির ভাগ আয় তুলতে হয় এবং গাছিদের কাজ ভাগ করে চালাতে হয়।
- ৩.চাহিদা থাকলে আগাম অর্ডারে বিক্রির নিশ্চয়তা আসে; প্রথমে সন্দেহ থাকলেও ধৈর্য ধরলে ক্রেতা তৈরি হয়।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
