১৪ শাখার বার্গার চেইনের ভাটা: কম খরচের নকল কার্টের সঙ্গে পারা যাচ্ছে না
এক দশক আগে ঢাকায় বার্গারের ঝড় তোলা একটি চেইন ১৪টি শাখা ও শ্রীলঙ্কায় আউটলেট খুললেও নকল দোকান, হারানো ছাত্র-এলাকা আর বদলে যাওয়া রুচিতে ঢাকায় পিছিয়ে পড়েছে; চট্টগ্রামে অবশ্য ভালো চলছে।
এক দশকের কিছু আগে ঢাকার একটি শপিং মলের ফুড কোর্টের ছোট একটি বার্গার স্টলের সামনে লম্বা লাইন পড়ত; বাংলাদেশি স্বাদের ঝাল বার্গারে একটি প্রজন্ম মুগ্ধ হয়েছিল। স্টলটি বড় হয়ে দেশে প্রায় ১৪টি শাখা খোলে, ২০১৭ সালে শ্রীলঙ্কার রাজধানীতেও একটি। কিন্তু দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ২০২৫ সালে লিখেছে, সেই সোনালি দিন আর নেই — এখন আর আউটলেটে এক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় না।
সহপ্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক কয়েকটি কারণ বলেন। প্রথমত, কোনো পদ জনপ্রিয় হলেই নকল দোকান গজায়; রেসিপির কোনো আইনি সুরক্ষা নেই। তাঁর ভাষায়, ন্যূনতম খরচে চলা রাস্তার কার্ট একই রকম বার্গার অনেক কম দামে বেচে — তাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা সম্ভব নয়; আবার বড় পুঁজির নকল রেস্তোরাঁও এসেছে। দ্বিতীয়ত, শাখাগুলো ছিল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাছে; কিছু প্রতিষ্ঠান সরে যাওয়ায় ছাত্রদের ভিড় হারায়। তৃতীয়ত, এখন খাবারের চেয়ে সাজসজ্জা ও বসার পরিবেশ বেশি টানে।
অনলাইন ডেলিভারিতে ৪০ মিনিট পর বার্গারের স্বাদ ঠিক থাকে না বলেও তিনি মানেন। তবে ২০২১ সালে খোলা চট্টগ্রামের শাখায় এখনো ছাত্ররাই বেশি আসে, গ্রাহকও বেশি অনুগত। ঢাকায় তাদের গ্রাহক এখন মূলত পরিবার ও করপোরেট কর্মী।
যা শেখার আছে
- ১.রেসিপি নকল ঠেকানো যায় না; শুধু একটি পদের ওপর ভরসা না করে ব্র্যান্ড, সেবা আর জায়গাকে শক্ত করুন।
- ২.যে গ্রাহকগোষ্ঠীর (যেমন ছাত্র) জন্য জায়গা বেছেছেন, তারা সরে গেলে দোকানের জায়গাও নতুন করে ভাবতে হবে।
- ৩.এক শহরে ভাটা পড়লেও অন্য শহরে একই পণ্য ভালো চলতে পারে — শাখাভিত্তিক হিসাব আলাদা রাখুন।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে এবং পরিচয় গোপন রেখে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। আপনিই প্রথম লিখুন।
