২০ লাখ টাকা খরচে ড্রাগন বাগান; এখন বছরে ১৫–১৬ লাখ আয়ের আশা, এ বছর ১২ লাখ হাতে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে এক ঠিকাদার ২০২০ সালে ভাড়া নেওয়া জমিতে ৬ হাজার ড্রাগন চারা লাগান। তিন বছরের মাথায় ফল ও চারা বিক্রি করে তিনি মাসে আড়াই লাখ টাকার মতো আয় করছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের বুড্ডা গ্রামের ৪২ বছর বয়সী এক ব্যক্তি আগে চট্টগ্রামে ঠিকাদারি করতেন। সেখানে ড্রাগনের লাভজনক চাষ দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে বছর তিনেক আগে কৃষিতে আসেন। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে তিতাস নদের পারের ৩ একর পতিত জমি ১০ বছরের জন্য ৭ লাখ টাকায় ভাড়া নেন। এর ১.৮০ একরে ১ হাজার ৫০০টি খুঁটির পাশে লাল, সাদা ও গোলাপি রঙের মোট ৬ হাজার চারা লাগান; প্রতিটি চারা কিনেছেন ৫০ থেকে ২০০ টাকায়। বাগানের পেছনে মোট খরচ হয়েছে প্রায় ২০ লাখ টাকা। চারা লাগানোর এক বছর পর থেকে ফলন শুরু হয়, তবে পূর্ণ মাত্রায় ফল আসছে এ বছর থেকে। এখন প্রতি মাসে ৮০০ থেকে ১ হাজার কেজি ফল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা দরে বিক্রি করেন। এর বাইরে মাসে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকার ড্রাগন চারা বেচেন। একজন কর্মচারীসহ মাসিক খরচ ২৫ হাজার টাকা। তাঁর হিসাবে বছরে আয় হবে ১৫–১৬ লাখ টাকা, এ বছর এখন পর্যন্ত ১২ লাখ টাকা এসেছে। গাছের ফাঁকে সাথি ফসল হিসেবে তরমুজ এবং পাশে লাউ ও মিষ্টিকুমড়া লাগিয়েছেন, গরু-ছাগলও পালছেন। ড্রাগন গাছ ২৫–৩০ বছর বাঁচে বলে ততদিন ফলের আশা। গত বছর বর্ষার পানি বাগানে উঠলেও গাছের ক্ষতি হয়নি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, এটি সরাইলের একমাত্র ড্রাগন বাগান এবং শিগগির তাঁকে বিনা মূল্যে জৈব সার তৈরির কিট দেওয়া হবে।
যা শেখার আছে
- ১.ড্রাগন বাগানে শুরুতে বড় বিনিয়োগ লাগে (এখানে প্রায় ২০ লাখ) এবং পূর্ণ ফলন পেতে কয়েক বছর অপেক্ষা করতে হয়।
- ২.ফলের সঙ্গে চারা বিক্রি, সাথি ফসল ও পশুপালন যোগ করলে আয়ের উৎস বাড়ে।
- ৩.জমি ভাড়া নিলে ভাড়ার মেয়াদ (এখানে ১০ বছর) গাছের আয়ুর সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
