লিজ নেওয়া এক একরে ১০ লাখ খরচে ৪ হাজার ড্রাগনগাছ; প্রথম মৌসুমেই ১২ লাখ টাকার ফল বিক্রি
যশোরের কেশবপুরের এক স্নাতক শিক্ষার্থী পরিবারের সহায়তায় ২০২২ সালের জানুয়ারিতে এক একর লিজ জমিতে ড্রাগন বাগান গড়েন। এক বছরের মধ্যেই মূলধন উঠেছে এবং এ মৌসুমে ১৫ লাখ টাকার ফল বিক্রির আশা করছেন।
যশোরের কেশবপুরের এক স্নাতক শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী পড়াশোনার ফাঁকে ২০২২ সালের জানুয়ারিতে যশোর-চুকনগর সড়কের পাশে ১০০ শতক (এক একর) জমি লিজ নিয়ে ড্রাগন বাগান শুরু করেন। পরিবারের আর্থিক সহায়তায় এর পেছনে মোট প্রায় ১০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এক হাজার কংক্রিটের খুঁটিতে টায়ার ও রড দিয়ে লাগানো হয়েছে প্রায় ৪ হাজার গাছ, বাগানে ৩-৪ জাতের ড্রাগন আছে। ২০২২ সালের জুনে কিছু ফল মেলে, আর এবার বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি শুরু করেছেন। মৌসুমের শুরুতে কেজিপ্রতি ৬০০ টাকা পর্যন্ত দাম পেলেও এখন পাইকারি ২৫০-৩০০ টাকা। চলতি মৌসুমে এ পর্যন্ত প্রায় ১২ লাখ টাকার ফল বিক্রি হয়েছে, এক সোমবারেই তোলা হয়েছে ১ হাজার কেজি। মৌসুম শেষে তিনি প্রায় ১৫ লাখ টাকার ফল বিক্রির আশা করছেন, খরচ বাদে লাভ আশা করছেন ৩ থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে প্রথমবারেই মূলধন উঠে এসেছে। কেশবপুরের বেশির ভাগ ফলের দোকানে তাঁর ড্রাগন বিক্রি হয়, আবার যশোর, চুকনগর, খুলনা ও ঢাকাতেও যায়। বাগানে নিয়মিত পাঁচজন শ্রমিক কাজ করেন, মাসে ৯ হাজার টাকা করে মজুরি পান। উপজেলা কৃষি অফিস শুরুতে প্রশিক্ষণ দিয়েছে এবং সময়ে সময়ে পরামর্শ দিয়েছে।
যা শেখার আছে
- ১.জমি লিজ নিয়েও ড্রাগন বাগান করা যায়, তবে খুঁটি, গাছ ও শ্রমিকে শুরুতেই বড় অঙ্কের মূলধন লাগে; এখানে খরচ ছিল প্রায় ১০ লাখ টাকা।
- ২.মৌসুমের শুরুর দাম (৬০০ টাকা) আর পরের পাইকারি দাম (২৫০-৩০০ টাকা) আলাদা; আয়ের হিসাবে গড় দামই ধরুন।
- ৩.রাস্তার পাশে বাগান হলে স্থানীয় দোকান ও পথচারী ক্রেতা পাওয়া যায়; কৃষি অফিসের প্রশিক্ষণ শুরুর ভুল কমায়।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
