৭০০ হাঁস নিয়ে ২০ বছর ভ্রাম্যমাণ খামার, দিনে প্রায় ৭ হাজার টাকার ডিম, মাসে আয় লাখের কাছাকাছি
পাবনার এক খামারি ২০ বছর ধরে হাঁসের পাল নিয়ে ফসলের মাঠ ও জলাভূমিতে ঘুরে ডিম বিক্রি করেন। খাবার প্রায় বিনা মূল্যে মেলায় খরচ কম, আর খরচ বাদে মাসে তাঁর আয় লক্ষাধিক টাকার কাছাকাছি।
পাবনার ফরিদপুর উপজেলার বিলচান্দক গ্রামের এক খামারি ২০ বছর ধরে ভ্রাম্যমাণ হাঁসের খামার চালান। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি প্রায় ৭০০ হাঁস নিয়ে সারা বছর এক জেলা থেকে আরেক জেলার ফসলের মাঠ ও জলাভূমিতে ঘোরেন। দিনভর হাঁস চরে খায়, সন্ধ্যায় অস্থায়ী ঘেরে ঢোকানো হয়, সকালে মেলে প্রায় ৫০০ ডিম। খামার থেকেই প্রতিটি ডিম ১৩ থেকে ১৪ টাকায় বিক্রি হয়, অর্থাৎ দিনে প্রায় সাত হাজার টাকার ডিম। একজন শ্রমিকের মজুরি, খাবার, ওষুধসহ সব খরচের পর মাসে তাঁর আয় লাখ টাকার কাছাকাছি। একসময় চরম দারিদ্র্যে থাকা এই খামারি আয় থেকে পাকা বাড়ি, জায়গা ও জমি করেছেন। স্থানীয় প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বলেন, খাল-বিল ও মাঠে প্রাকৃতিক খাবার থাকায় খাবার প্রায় বিনা মূল্যে জোটে, ফলে পদ্ধতিটি লাভজনক। প্রতিবেদনের হিসাবে ৫০০ হাঁসের একটি ভ্রাম্যমাণ খামারে হাঁস কেনায় বিনিয়োগ প্রায় তিন লাখ টাকা (গড়ে ৬০০ টাকা করে), অন্য খাতে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা। এতে দিনে গড়ে ৩৫০টি ডিম হয়, দাম প্রায় সাড়ে চার হাজার টাকা, খরচ বাদে দিনে প্রায় তিন হাজার টাকা থাকে। দুই-তিন বছর পর ডিম কমলে হাঁস ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায় বিক্রি করা হয়। আরেক খামারি এনজিও ঋণ নিয়ে একজনের সঙ্গে অংশীদারিতে ৫০০ হাঁস দিয়ে শুরু করে ঋণ শোধ করেছেন।
যা শেখার আছে
- ১.চারণ পদ্ধতিতে খাবারের খরচ প্রায় নেই, যা সাধারণ খামারের সবচেয়ে বড় খরচ কমিয়ে দেয়।
- ২.বেশি ডিম দেয় এমন উন্নত জাতের হাঁস কিনুন এবং ডিম কমলে ৪০০–৪৫০ টাকায় বিক্রি করে পাল নবায়ন করুন।
- ৩.মূল বিনিয়োগ হাঁস কেনাতেই; বাড়তি অবকাঠামো ছাড়াই শুরু করা যায়।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
