৫৫ হাজার টাকায় ১০০ হাঁস দিয়ে শুরু, এখন ৫০০ হাঁসে মাসে ৪০–৫০ হাজার টাকা আয়
শেরপুরের নকলার এক নারী পোশাক কারখানার চাকরি ছেড়ে ইউএনডিপির প্রশিক্ষণ নিয়ে হাঁসের খামার শুরু করেন। এখন প্রায় ৫০০ হাঁস থেকে দিনে ৯০–১০০ ডিম পান, আরও তিন নারীর কাজও জুটেছে।
শেরপুরের নকলা উপজেলার ধনাকুশা গ্রামে এক নারী ভাইয়ের বাড়ির আঙিনায় ছোট একটি হাঁসের খামার চালান। তাঁর বয়স ৩৭। ২০১৩ সালে সংসার ভেঙে গেলে তিনি দুই সন্তান নিয়ে বাবার বাড়িতে ফেরেন, তারপর ঢাকার আশুলিয়ায় একটি পোশাক কারখানায় কোয়ালিটি বিভাগে সাত বছর কাজ করেন। অসুস্থতার কারণে চাকরি ছেড়ে ২০২০ সালে গ্রামে ফিরে আসেন। তখন ইউএনডিপির প্রকল্পের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে জীবনদক্ষতা ও বাণিজ্যিক হাঁস পালনের প্রশিক্ষণের কথা জানতে পারেন এবং দুই দফায় ৯ দিনের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ নেন। চাকরির সঞ্চয় থেকে ৫০ হাজার টাকা আর ইউএনডিপির সহায়তার ৫ হাজার টাকায় তিনি ১০০টি ডিম পাড়া হাঁস কেনেন। ডিম বিক্রির লাভ আবার খামারে বিনিয়োগ করে করে খামার বড় করেছেন। খাবার দেওয়া, পানি বদলানো, সন্ধ্যায় হাঁস ঘরে তোলা, সব কাজ তিনি একাই সামলান। এখন খামারে প্রায় ৫০০ হাঁস, প্রতিদিন ৯০ থেকে ১০০টি ডিম মেলে। খাবার, ওষুধ ও অন্য খরচ বাদ দিয়ে মাসে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা আয় হয়। খামারে আরও তিন নারীর কর্মসংস্থান হয়েছে। বড় ছেলে এখন একটি কাজে যুক্ত, মেয়ে মাদ্রাসায় পড়ে। তিনি খামারটি আরও বড় করে প্রতিবন্ধী ও অবহেলিত নারীদের কাজ দিতে চান।
যা শেখার আছে
- ১.হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ নিয়ে শুরু করলে ভুলের ঝুঁকি কমে; এখানে দুই দফায় ৯ দিনের প্রশিক্ষণ কাজে লেগেছে।
- ২.ছোট পুঁজিতে ১০০ হাঁস দিয়ে শুরু করে ডিমের লাভ আবার খামারে ঢাললে ধাপে ধাপে বড় হওয়া যায়।
- ৩.ভাইয়ের বাড়ির আঙিনায় খামার করায় জমি কেনা বা ভাড়ার খরচ লাগেনি, খাবার-ওষুধের খরচ বাদ দিয়েও আয় মেলে।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
