মেলা বন্ধ, গুদামে নষ্ট ৯০ হাজার টাকার খেলনা, পরের বছরও পড়ে রইল ৬০ হাজারের মাল
চৈত্র থেকে জ্যৈষ্ঠ — তিন মাসের মেলাই এই কাঠের খেলনার পুরো বাজার। এক বছরে গুদামে নষ্ট হয় ৯০,০০০ টাকার খেলনা, পরের মৌসুমের জন্য ধারে বানানো ৬০,০০০ টাকার মালও পড়ে থাকে।
বগুড়ার দুপচাঁচিয়ার খোলাশ গ্রাম প্রায় ষাট বছর ধরে কাঠ ও হাতের খেলনা বানায় — টমটম গাড়ি, তরতরি, ঘিন্নি, বেহালা, কাঠের গাড়ি। বিক্রির সময় বছরে তিন মাস, চৈত্র থেকে জ্যৈষ্ঠ, আর বাজার বলতে দেশজুড়ে মেলা। এই কারিগর ২২ বছর ধরে কুমিল্লা, সিলেট আর চট্টগ্রামের মেলায় খেলনা পাঠিয়েছেন। করোনায় মেলা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এক বছরে তাঁর ৯০,০০০ টাকার খেলনা গুদামেই নষ্ট হয়; ক্ষতি পুষিয়ে নিতে তিনি আবার ধার করে পরের মৌসুমের জন্য ৬০,০০০ টাকার মাল বানান, কিন্তু সেবারও বৈশাখী মেলা আর উৎসব বাতিল হয়ে যায়। তাঁর কথায়, "পুঁজি হারিয়ে পথে বসার জোগাড়।" গ্রামের প্রায় ২৫০টি কারখানায় তখন পড়ে ছিল প্রায় ২ কোটি টাকার অবিক্রীত খেলনা; একজন কারিগর আগের বছরের অবিক্রীত ৪০,০০০ টাকার গাড়ি রান্নার জ্বালানি হিসেবে পুড়িয়ে ফেলেছিলেন।
যা শেখার আছে
- ১.পুরো বছরের বিক্রি যদি তিন মাসের মেলায় হয়, মেলা বন্ধ হলে বিকল্প বাজার বলে কিছুই থাকে না
- ২.চাহিদা ফিরেছে কি না নিশ্চিত হওয়ার আগে ধার করে আবার মাল বানালে এক খারাপ বছর দুই বছরের দেনা হয়ে দাঁড়ায়
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে এবং পরিচয় গোপন রেখে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। আপনিই প্রথম লিখুন।
