২৭ লাখ টাকার শৌখিন কবুতর শেষে বিক্রি করতে হলো মাত্র ২২ হাজারে
নাটোরের এক তরুণের শৌখিন কবুতরের সংগ্রহের বাজারমূল্য ২০১৪ সালে দাঁড়ায় প্রায় ২৭ লাখ টাকা; নতুন শৌখিন ক্রেতা কমে গেলে বাজার ধসে সেগুলো বিক্রি হয় ২২ হাজারে।
নাটোরে বড় হওয়া এক উদ্যোক্তা ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কবুতর পালতেন, ২০০৯–১০ সাল থেকে নিয়মিত দামি জাতের কবুতর কিনতে শুরু করেন। প্রথম আলোর এক পডকাস্টে তিনি জানান, ২০১২ সালের দিকে হলুদমুখো এক জোড়া কবুতরের বাজারদর ছিল দুই লাখ টাকার বেশি, বাচ্চাও বিক্রি হতো ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকায়। এক জোড়া কিনে তার ডিম থেকে কয়েকটি বাচ্চা তুলে প্রায় দুই লাখ আট হাজার টাকায় বিক্রি করেন। ২০১৪ সালের দিকে তাঁর কবুতরের মোট বাজারমূল্য দাঁড়ায় প্রায় ২৭ লাখ টাকা। কিন্তু তাঁর ব্যাখ্যায়, কবুতর পালন একধরনের শখের ব্যবসা; নতুন শৌখিন মানুষ বাজারে না এলে দাম পড়ে যায়। হঠাৎ বাজারে বড় ধাক্কা আসে। তাঁর কথায়, ‘একসময় যে কবুতরগুলোর বাজারমূল্য প্রায় ২৭ লাখ টাকা ছিল, সেগুলো শেষ পর্যন্ত মাত্র ২২ হাজার টাকায় বিক্রি করতে হয়েছিল আমাকে।’ এরপর নাটোরে ছাগল, ভেড়া, দুম্বা ও গরুর খামার করেন, সেখানেও প্রায় দুই বছর পর পিপিআর ভাইরাসে এক রাতে প্রায় ৩২টি পশু মারা যায়। পরে তিনি অনলাইনে আম ও মধুর মতো কৃষিপণ্যের ব্যবসায় যান। তাঁর শিক্ষা: ‘আপনাকে কিনে জিততে হবে।’
যা শেখার আছে
- ১.শৌখিন কবুতরের দাম চাহিদার ওপর নয়, নতুন শখের মানুষের আগমনের ওপর দাঁড়ায়; কাগজে-কলমে সংগ্রহের দাম আর নগদ টাকা এক জিনিস নয়।
- ২.দাম চড়া থাকার সময় কিছু পাখি বিক্রি করে টাকা তুলে রাখুন, সব পুঁজি পাখিতে আটকে রাখবেন না।
- ৩.বেশি দামে কিনলে পরে লাভ করা কঠিন; কেনার দামেই লাভ-লোকসান অনেকটা ঠিক হয়ে যায়।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে এবং পরিচয় গোপন রেখে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। আপনিই প্রথম লিখুন।
