২ হাজার টাকার অর্ডার থেকে শুরু: রাজশাহীর মাছ ধরার টোপের কারখানা, ১৪ ধরনের টোপ, রপ্তানি ইউরোপেও
রাজশাহীর এক যুবক ২০১৮ সালে এক শৌখিন মাছ শিকারির পাঠানো ২ হাজার টাকায় টোপ বানিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে ব্যবসা শুরু করেন। এখন বাড়ির আঙিনার কারখানা থেকে ১৪ ধরনের টোপ দেশে বিক্রি ও কয়েকটি দেশে রপ্তানি হয়।
রাজশাহীর এক যুবক চার বছর বয়স থেকে মাছ ধরেন। নিউজিল্যান্ডে তথ্যপ্রযুক্তিতে স্নাতকোত্তর করে সেখানে কাজ শুরু করেছিলেন, কিন্তু ২০১৭ সালে বৃদ্ধ বাবা-মায়ের দেখাশোনায় দেশে ফেরেন। দেশে এসে দেখেন, অপরিকল্পিত মাছ ধরা আর মাছ ধরার কাজে পিঁপড়ার ডিম ও ক্ষতিকর রাসায়নিকের ব্যবহারে প্রকৃতির ক্ষতি হচ্ছে। তিনি খুঁজে বের করেন, পিঁপড়ার ডিমে মাছকে টানা উপাদান অন্য প্রাকৃতিক জিনিসেও আছে, আর তা দিয়ে পরিবেশবান্ধব টোপ বানানো শুরু করেন। ইউটিউব চ্যানেলে নিজের পদ্ধতি দেখাতে থাকেন। ২০১৮ সালে এক শৌখিন মাছ শিকারি তাঁকে ২ হাজার টাকা পাঠিয়ে টোপ বানিয়ে দিতে বলেন; সেখান থেকেই ব্যবসার শুরু। চাহিদা বাড়লে শখকে পুরোদস্তুর ব্যবসায় রূপ দেন। ২০১৯ সালে সরকারের অনুমোদন পান দেশের প্রথম মাছ ধরার টোপ প্রস্তুতকারক হিসেবে এবং ১০০ কেজি টোপ দিয়ে রপ্তানি শুরু করেন। এখন বাড়ির আঙিনায় ঠাকুরমারা এলাকার কারখানায় অন্তত ১৪ ধরনের টোপ তৈরি হয়; বিক্রি হয় দেশের বিভিন্ন জেলায়, আর রপ্তানি হয় ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, মালয়েশিয়া ও ইউরোপে, বিশেষ করে যুক্তরাজ্যে। প্রতিবেদন অনুযায়ী এ বছর রপ্তানি কয়েক টনে পৌঁছাতে পারে। কারখানা ছোট ঝুপড়ি থেকে আধুনিক ইউনিটে রূপ নিয়েছে। তিনি ভারত ও নিউজিল্যান্ডে নিজস্ব আউটলেট খোলার উদ্যোগ নিয়েছেন।
যা শেখার আছে
- ১.শখ ও অভিজ্ঞতা থেকে একটি অমিল পূরণের পণ্য (এখানে পরিবেশবান্ধব টোপ) ব্যবসার ভিত্তি হতে পারে।
- ২.ইউটিউবে নিজের কাজ দেখালে দেশ-বিদেশের ক্রেতা পাওয়া সহজ হয়; এখানে প্রথম অর্ডার আসে এক ক্রেতার ২ হাজার টাকা দিয়ে।
- ৩.সরকারি অনুমোদন নিয়ে নিলে রপ্তানির পথ খোলে; ছোট চালান (১০০ কেজি) দিয়ে শুরু করা যায়।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
