মাছ ধরার সরঞ্জামের দোকান
বড়শি, ছিপ, রিল, জাল ও মাছের ওষুধের দোকান। ছিপ ৳৪৫৫–১,৫৫২, রিল ৳৬৪১–৬,৭০৫। কারেন্ট জাল ও চায়না দুয়ারি নিষিদ্ধ — রাখলে জব্দ ও মোবাইল কোর্ট।
- শেষ পর্যালোচনা: ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
- সংস্করণ ১

মাছ ধরার সরঞ্জামের দোকান
- শুরুর পুঁজি
- ৳১,২০,০০০ – ৳৬,০০,০০০ সম্পাদকীয় অনুমান
- জনবল
- ১ – ৩ জন
- প্রথম বিক্রি
- ২০ – ৫০ দিন সম্পাদকীয় অনুমান
- খরচ উঠতে
- ৮ – ১৪ মাস সম্পাদকীয় অনুমান
- কাজের ধরন
- দোকান · সহজ
ব্যবসাটি সম্পর্কে
বড়শি, ছিপ, রিল, সুতা, জাল, ফাঁদ আর মাছের খাবার-ওষুধ বিক্রির দোকান। ক্রেতা দুই রকম — পুকুরে মাছ চাষ করা চাষি আর শখের বড়শি-খেলা মানুষ। চাষির কাছ থেকে আসে বড় অঙ্কের বিক্রি: পোনা ধরার জাল, খাবার দেওয়ার পাত্র, চুন-ওষুধ, হররা। শৌখিন ক্রেতা আসে ঘন ঘন, কিন্তু অল্প অল্প কেনে — এক প্যাকেট বড়শি, এক রিল সুতা। ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে দারাজে নামধারী বিক্রেতাদের তালিকায় কার্বন ফাইবারের ছিপ ছিল ৳৪৫৫–১,৫৫২, রিল ৳৬৪১ থেকে ৳৬,৭০৫, এক বাক্স বড়শি ৳১১৮–৪২৩ আর দেশি ভোদাড় জাল ৳৪৭০। কিন্তু এই দোকানের সবচেয়ে বড় কথাটা দামের নয়, আইনের। কারেন্ট জাল আর চায়না দুয়ারি জাল মৎস্য সংরক্ষণের বিধি অনুযায়ী নিষিদ্ধ। এগুলো বিক্রি করলে মোবাইল কোর্ট বসে, জাল জব্দ হয় আর পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। ২০২৬ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে ভৈরব, কুড়িগ্রাম, সিরাজগঞ্জ, নেত্রকোণা, ঠাকুরগাঁও, গাইবান্ধা, বাগেরহাট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া আর মুন্সিগঞ্জে একের পর এক অভিযান হয়েছে; মুন্সিগঞ্জে তো জাল বানানোর কারখানাতেই অভিযান চালিয়ে ৪২ হাজার রিল সুতা জব্দ করা হয়েছে। যে দোকান লাভের লোভে পেছনের তাকে কারেন্ট জাল রাখে, তার দোকান যেকোনো দিন বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
আয়-ব্যয়ের হিসাব
| খাত | পরিসর | সূত্র | সংশোধন পাঠান |
|---|---|---|---|
| মাসিক চলতি মূলধন | ৳৬০,০০০ – ৳৩,০০,০০০ | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| বিক্রয় মূল্য | ৳১১৮ – ৳৬,৭০৫ / একক | বাজারদর | |
| পরিবর্তনশীল খরচ | ৳৮৫ – ৳৫,০০০ / একক | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| মোট লাভের হার | ২৫% – ২৮% | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| প্রথম বিক্রি পর্যন্ত সময় | ২০ – ৫০ দিন | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| খরচ উঠে আসার সময় | ৮ – ১৪ মাস | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| নগদ চক্র | ০ – ৪৫ দিন | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| অপচয় ও ক্ষতির হার | ২% – ৮% | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা | ৪ – ২৫ | সম্পাদকীয় অনুমান |
শুরু করতে যা লাগবে
- ছিপ ও রিল, নানা মাপের বড়শি, নাইলন ও ব্রেইডেড সুতা, ফ্লোট ও সিংকার, কৃত্রিম টোপ, ঝাঁকি-বেড়-হাপা জাল, পোনা বহনের পাত্র, অক্সিজেন ট্যাবলেট, চুন, মাছের খাবার ও ওষুধ।শুরুর মাল
- ট্রেড লাইসেন্স — পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন বা ইউনিয়ন পরিষদ। ফরম ৳১০, লাইসেন্স বই ৳৫০, আদর্শ কর ৳৩০, নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ৳১৫০–৩০০, ব্যবসার ধরন অনুযায়ী লাইসেন্স ফি ৳১০০–৬০,০০০, সঙ্গে ভ্যাট ও সাইনবোর্ড ফি।লাইসেন্স
- নিষিদ্ধ জাল রাখা বা বিক্রি করা যাবে না — কারেন্ট জাল ও চায়না দুয়ারি মৎস্য সংরক্ষণের বিধিতে নিষিদ্ধ। উপজেলা মৎস্য দপ্তর, বিজিবি ও ভ্রাম্যমাণ আদালত নিয়মিত অভিযান চালায়, জাল জব্দ করে পুড়িয়ে ধ্বংস করে এবং জরিমানা করে। কোন জাল ও কোন ফাঁসের মাপ বৈধ তা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কাছ থেকে লিখিতভাবে জেনে নিতে হবে।লাইসেন্স
- কোন পুকুরে কোন জাল ও কোন ফাঁসের মাপ লাগবে তা বলতে পারা, রিলে সুতা পেঁচানো, বড়শি বাঁধা, আর মাছের রোগ শুনে ঠিক ওষুধ বেছে দেওয়া।দক্ষতা
- ঢাকার চকবাজার ও পুরান ঢাকার পাইকারি দোকান, নরসিংদী ও কিশোরগঞ্জের জাল বোনার ক্লাস্টার (বৈধ জাল), আর মাছের ওষুধ ও খাবারের কোম্পানির স্থানীয় ডিলার।সরবরাহকারী
- উপজেলা বাজার বা মাছের আড়তের পাশে ১০০–৩০০ বর্গফুটের দোকান। জাল ঝোলানোর জায়গা, সুতা ও বড়শির ছোট তাক আর ওষুধের জন্য শুকনো-ছায়াযুক্ত জায়গা লাগে।কাজের জায়গা
কাজের ধাপ
- 1পুকুর, ঘের বা নদী-হাওরের কাছাকাছি উপজেলা বাজারে দোকান দেখুন। মাছের আড়তের পাশে হলে চাষি আর জেলে দুই দলকেই পাওয়া যায়।
- 2পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিন এবং সাইনবোর্ড ফি দিন।
- 3উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার অফিসে গিয়ে লিখিতভাবে জেনে নিন কোন জাল বৈধ, কোন ফাঁসের মাপ চলবে, আর কোন মাসে কোন জাল ফেলা নিষিদ্ধ। এই এক ধাপ না করলে বাকি সব ঝুঁকিতে।
- 4কারেন্ট জাল ও চায়না দুয়ারি কোনো অবস্থাতেই তুলবেন না, পেছনের তাকেও না। এগুলো নিষিদ্ধ, মোবাইল কোর্টে জব্দ হয় আর পুড়িয়ে ফেলা হয়।
- 5মাল তোলার আগে ঠিক করুন কাদের জন্য দোকান — শুধু চাষির জন্য হলে জাল, খাবার ও ওষুধ; শৌখিনদের জন্য হলে ছিপ, রিল, বড়শি ও টোপ। দুটো একসঙ্গে করলে পুঁজি ছড়িয়ে যায়।
- 6মাছচাষির জন্য দরকারি জিনিস রাখুন — পোনা ধরার হাপা ও নেট, চুন, খাবার দেওয়ার ট্রে, ঝাঁকি ও বেড় জাল, অক্সিজেন ট্যাবলেট আর মাছের ওষুধ।
- 7শৌখিন বড়শি-শিকারিদের ক্লাব ও ফেসবুক গ্রুপ খুঁজে বের করুন। তাঁরা দল বেঁধে কেনেন আর প্রতিযোগিতার আগে একসঙ্গে বড় অর্ডার দেন।
- 8রিলে সুতা পেঁচিয়ে দেওয়া, ছিপ মেরামত ও বড়শি বাঁধার সেবা দিন। এতে সামান্য মজুরি আসে, কিন্তু খদ্দের আপনার দোকানেই ফেরে।
- 9মাছের ওষুধ ও খাবারের মেয়াদ প্রতি মাসে দেখে নিন, আর আগে আসা মাল আগে ছাড়ুন। মেয়াদ পার হলে পুরো টাকাই লোকসান।
- 10বর্ষার আগে চৈত্র-বৈশাখে বড় চালানটি তুলুন, আর ইলিশের প্রজনন নিষেধাজ্ঞার মাসে জাল বিক্রি বন্ধ রাখুন — ওই সময় অভিযান সবচেয়ে বেশি হয়।
মৌসুম
- জানুস্বাভাবিক
- ফেব্রুস্বাভাবিক
- মার্চবেশি
- এপ্রিলবেশি
- মেবেশি
- জুনবেশি
- জুলাইবেশি
- আগস্টবেশি
- সেপ্টেস্বাভাবিক
- অক্টোকম
- নভেস্বাভাবিক
- ডিসেস্বাভাবিক
কোন জেলায় ভালো
- খুব উপযোগীবাগেরহাট · চিংড়ি ঘের ও মাছ চাষের এলাকা, তবে এখানেই নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধে অভিযানও বেশি।
- খুব উপযোগীযশোর · চাঁচড়া হ্যাচারি এলাকা ও বিপুল ঘের, পোনা ও চাষের সরঞ্জামের চাহিদা বছরজুড়ে।
- খুব উপযোগীকিশোরগঞ্জ · হাওর এলাকা, পেশাদার জেলে ও বৈধ জাল বোনার কাজ দুটোই আছে।
- খুব উপযোগীময়মনসিংহ · দেশের সবচেয়ে বড় মাছ চাষের এলাকা, ত্রিশাল-ফুলপুর-ভালুকায় অসংখ্য পুকুর ও হ্যাচারি।
- খুব উপযোগীসুনামগঞ্জ · টাঙ্গুয়ার হাওরসহ বিশাল জলাভূমি, জাল ও বড়শির চাহিদা বেশি।
- সম্ভববগুড়া · পুকুরে মাছ চাষ ও পোনা উৎপাদনের এলাকা, উত্তরবঙ্গের বাণিজ্যকেন্দ্রও বটে।
- সম্ভবচাঁদপুর · ইলিশের এলাকা, তবে প্রজনন নিষেধাজ্ঞার মাসে বিক্রি পুরোপুরি বন্ধ রাখতে হয়।
- সম্ভবকুমিল্লা · পুকুরে মাছ চাষ বেশি আর মহাসড়ক ধরে সরবরাহ সহজ।
- সম্ভবখুলনা · ঘের ও নদী দুটোই, আর বিভাগীয় শহরে শৌখিন বড়শি-শিকারির সংখ্যাও বেশি।
ঝুঁকি ও সাবধানতা
- বেশিআইনি বাধ্যবাধকতা: কারেন্ট জাল ও চায়না দুয়ারি নিষিদ্ধ, অথচ লাভ বেশি বলে অনেক দোকান লুকিয়ে রাখে। ২০২৬ সালের জুলাই-সেপ্টেম্বরে ভৈরব, কুড়িগ্রাম, সিরাজগঞ্জ, নেত্রকোণা, ঠাকুরগাঁও, গাইবান্ধা, বাগেরহাট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও মুন্সিগঞ্জে পরপর অভিযান হয়েছে; মুন্সিগঞ্জে ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে জাল বানানোর কারখানায় অভিযান চালিয়ে ৪২ হাজার রিল সুতা ও ৫ হাজার বর্গমিটার জাল জব্দ হয়েছে। জব্দ করা জাল পুড়িয়ে ফেলা হয়, অর্থাৎ পুরো টাকাই যায়, সঙ্গে জরিমানা ও দোকান বন্ধ।
- বেশিচাহিদা: বিক্রি মৌসুমে বাঁধা। বর্ষা ও তার আগের মাসগুলোতে জাল-বড়শি চলে, আর পুকুরে পোনা ছাড়ার সময় চাষির কেনাকাটা হয়। শুকনো মৌসুমে আর ইলিশের প্রজনন নিষেধাজ্ঞার মাসে বিক্রি প্রায় বন্ধ, কিন্তু দোকানভাড়া তখনো দিতে হয়।
- মাঝারিবাকিতে বিক্রি: মাছচাষি জাল, খাবার ও ওষুধ বাকিতে নেয় আর মাছ বিক্রির পর শোধ দেয়। মাছে রোগ লাগলে, পুকুর ভেসে গেলে বা মাছের দাম পড়ে গেলে সেই বকেয়া পরের মৌসুম পর্যন্ত ঝুলে থাকে।
- মাঝারিনষ্ট হওয়া: মাছের ওষুধের মেয়াদ থাকে আর মেয়াদ পার হলে ফেরত দেওয়া যায় না। নাইলনের সুতা ও জাল রোদে রাখলে ভঙ্গুর হয়ে যায়, বড়শি ও রিলে বাতাসের আর্দ্রতায় মরিচা ধরে। ওষুধ ও খাবারে পুঁজির বড় অংশ থাকলে এই ঝুঁকি বড় হয়ে ওঠে।
- মাঝারিনির্ভরশীলতা: ভালো ছিপ, রিল ও কৃত্রিম টোপের প্রায় সবটাই আমদানি করা, আর অনলাইনে সরাসরি চীন থেকেও আসে। ডলারের দর বাড়লে দাম বাড়ে, আর একই জিনিস অনলাইনে সস্তায় পেলে শৌখিন ক্রেতা দোকানে আসে না।
সূত্র
সিটি কর্পোরেশন থেকে ট্রেড লাইসেন্স প্রাপ্তির ধাপ সমূহ
সংগ্রহ: ১৬ সেপ, ২০২৬যে হিসাবের সূত্র: শুরুর পুঁজি · বাংলাদেশ
কী বদলেছে
এখনো কোনো সংশোধন প্রকাশ হয়নি।
প্রশ্নোত্তর
এখনো কেউ প্রশ্ন করেননি। আপনিই প্রথম প্রশ্ন করুন।
একই রকম আরও ব্যবসা
খুচরা ও পাইকারি ব্যবসামাংসের দোকান
প্রতিদিন পশু কিনে কেটে খুচরা মাংস বিক্রি। ঢাকায় গরু ৳৭৮০–৮৫০ ও খাসি ৳১২০০–১৩৫০ কেজি, আর এখন 'পরীক্ষিত' সিল ছাড়া বিক্রি করলে দোকান বন্ধ।
- পুঁজি
- ৳১.২ লাখ – ৳৫ লাখ
- জনবল
- ১ – ৪ জন
- প্রথম আয়
- ১৫ – ৪৫ দিন
খুচরা ও পাইকারি ব্যবসাআলু মজুদ ও ব্যবসা
মৌসুমে আলু কিনে হিমাগারে রেখে পরে বিক্রি। ভাড়া সরকার-নির্ধারিত কেজি ৳৬, কিন্তু ২০২৬ সালে ৬০ কেজির বস্তায় খরচ ৳১,১৫০–১,৩০০ আর বিক্রি ৳৮০০–৮৭০।
- পুঁজি
- ৳১.২ লাখ – ৳৬.৫ লাখ
- জনবল
- ১ – ৩ জন
- প্রথম আয়
- ১৫০ – ২৭০ দিন
খুচরা ও পাইকারি ব্যবসাসুপারি ব্যবসা
গৃহস্থের কাছ থেকে সুপারি কিনে হাটে বেচা, বা ভিজিয়ে-শুকিয়ে রেখে পরে বেচা। লক্ষ্মীপুরে অক্টোবর ২০২৫-এ কাউন ৳২,৫০০–২,৮০০, পোন ৳১৫০–২৫০।
- পুঁজি
- ৳১ লাখ – ৳২৫ লাখ
- জনবল
- ১ – ৮ জন
- প্রথম আয়
- ১ – ২৪০ দিন
খুচরা ও পাইকারি ব্যবসাকাপড় ও বুটিক দোকান
থান কাপড় ও বানানো পোশাকের দোকান। ঢাকায় সুতি কাপড় গজপ্রতি ৳৩০০–৭০০, আর বছরের বিক্রির বড় অংশ ওঠে রোজার শেষ দশ দিনে।
- পুঁজি
- ৳১ লাখ – ৳৮ লাখ
- জনবল
- ১ – ৫ জন
- প্রথম আয়
- ১৫ – ৪৫ দিন
