৮ হাজার টাকায় ১০০ ডাব দিয়ে শুরু; এখন মাসে ২৪–২৫ হাজার ডাব, বিক্রি ২৫ লাখ টাকা
ঢাকায় দুই বন্ধু ফেসবুক বিজ্ঞাপন দিয়ে কাটা ডাব ঘরে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবসা শুরু করেন। ভুল ডাব কেনা ও বৃষ্টিতে অবিক্রীত ডাবের ধাক্কা সামলে এখন তাঁদের মাসিক বিক্রি গড়ে ২৫ লাখ টাকা।
২০২২ সালের শুরুর দিকে ঢাকায় দুই বন্ধু অনলাইনে ডাব বিক্রির ব্যবসা শুরু করেন। আগে তাঁরা অনলাইনে নানা পণ্য বিক্রি করতেন। থাইল্যান্ড-ভিয়েতনামের মতো খোলের ভেতরেই পানি রেখে ডাব কেটে বিক্রি করার ভিডিও দেখে ফেসবুকে কাটা ডাবের কয়েকটি ছবি দিয়ে বিজ্ঞাপন দেন। সাড়া পেয়ে কারওয়ান বাজার থেকে ৮ হাজার টাকায় ১০০টি ডাব কিনে নিজেদের বাইকে গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেন; এটিই ছিল প্রাথমিক পুঁজি। শুরুতে দা-চাকু দিয়ে হাতে কাটতেন, তাই কিছুদিন পর প্রায় ছয় লাখ টাকায় চীন থেকে কাটিং যন্ত্র আনেন। অভিজ্ঞতার অভাবে কচি, মিষ্টি পানির বা শাঁস ধরা ডাব চিনতে ভুল হতো, অনেক ডাব নষ্ট হতো। একবার নোয়াখালী থেকে এক হাজার ডাব আনতে আনতে টানা বর্ষা শুরু হয়, প্রায় ৬০০টি অবিক্রীত থাকে। সেই ডাব থেকে তাঁরা ডাবের পুডিং বানান, যা এখন জনপ্রিয়। পাইকারি ডাবে ১০০টির ২০টিই ছোট থাকত, তাই কারওয়ান বাজারের আড়তে নিজেরা টাকা খাটান। এখন মাসে ২৪-২৫ হাজার ডাব বিক্রি হয়। ছয়টি ডাবের কার্টনের দাম মাঝারি আকারে ৮৪০ টাকা, একটু বড় হলে ৯৬০ টাকা, সঙ্গে ডেলিভারি ১০০ টাকা। ক্লাব, জিম, হাসপাতালের ক্যানটিন ও ওষুধ কোম্পানি তাঁদের গ্রাহক। প্রতিবেদন অনুযায়ী মোট বিনিয়োগ প্রায় ১০ লাখ টাকা, মাসে গড়ে ২৫ লাখ টাকার পণ্য বিক্রি হয়, কর্মী ১২ জন।
যা শেখার আছে
- ১.প্যাকেজিং ও পরিবেশনা দামি করে তোলে; হাতে কাটা ডাবের জায়গায় যন্ত্রে কাটা ডাব গ্রাহকের কাছে আলাদা মূল্য পেয়েছে।
- ২.কাঁচা পণ্যের মান চেনা শেখার আগে অনেক ক্ষতি হয়; পাইকারি লটে ছোট-বড় মেশানো থাকলে নিজের বাছাইয়ের ব্যবস্থা রাখুন।
- ৩.অবিক্রীত পণ্য থেকে নতুন পণ্য (পুডিং) বানিয়ে ক্ষতিকে আয়ে বদলানো গেছে।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
