ফলের জুস ও ড্রিংকস
ফলের রস ও ফ্রুট ড্রিংকস বানিয়ে বোতলে বিক্রি। বাজারে এক লিটারের দাম ৳৮০–৯০। বিএসটিআইয়ের সিএম লাইসেন্স ছাড়া বিক্রি করলে জরিমানা — সম্প্রতি ৳৩০,০০০ থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত।
- শেষ পর্যালোচনা: ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
- সংস্করণ ১

ফলের জুস ও ড্রিংকস — প্রতীকী ছবি, AI দিয়ে তৈরি; বাস্তব কোনো দোকান বা খামার নয়
- শুরুর পুঁজি
- ৳৫,০০,০০০ – ৳৩০,০০,০০০ সম্পাদকীয় অনুমান
- জনবল
- ৪ – ২০ জন
- প্রথম বিক্রি
- ৯০ – ১৮০ দিন সম্পাদকীয় অনুমান
- খরচ উঠতে
- ১৪ – ২৪ মাস সম্পাদকীয় অনুমান
- কাজের ধরন
- ওয়ার্কশপ · কঠিন
ব্যবসাটি সম্পর্কে
ফলের রস বা ফ্রুট ড্রিংকস বানিয়ে বোতলে বা প্যাকেটে ভরে বিক্রি। এই ব্যবসায় আসল বাধা মেশিন নয়, কাগজ। বোতলজাত পানীয় বাজারে ছাড়তে হলে বিএসটিআইয়ের সিএম লাইসেন্স লাগে, আর সেটা ছাড়া বিক্রি আইনত অপরাধ। বিএসটিআইয়ের নিজের ফি তালিকা অনুযায়ী নতুন সিএম লাইসেন্সের আবেদন ফি ৳১,০০০, নবায়নেও ৳১,০০০, আর ফল জাতীয় পণ্যের সিএম ফি বছরে কারখানা-মূল্যের ০.০৭ শতাংশ — সর্বনিম্ন ৳৩,০০০, সর্বোচ্চ ৳৩০ লাখ। সব ফির সঙ্গে ১৫ শতাংশ ভ্যাট যোগ হয়। টাকার অঙ্কটা ছোট, কিন্তু কাগজের তালিকাটা লম্বা — ট্রেড লাইসেন্স, ট্রেডমার্ক বা শিল্প-নকশার নিবন্ধন, ভ্যাট ও টিআইএন সনদ, প্রিমিসেস লাইসেন্স, কর্মচারীর স্বাস্থ্যসনদ, কারখানার লে-আউট ও প্রসেস ফ্লো-চার্ট, যন্ত্রপাতির তালিকা, আর মোড়কে রং-ফ্লেভার-প্রিজারভেটিভ-কৃত্রিম মিষ্টির নাম বা কোড পর্যন্ত লিখে দিতে হয়। ধরা পড়লে কী হয়, সেটাও বিএসটিআই নিজেই প্রকাশ করে — ৩১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে তেজগাঁওয়ের 'মিল্কি ওয়ে'কে সিএম লাইসেন্স ও মোড়ক নিবন্ধন না থাকায় ৳৩০,০০০ জরিমানা করা হয় এবং লাইসেন্স না পাওয়া পর্যন্ত তাদের ফেসবুক পেজ বন্ধ রাখতে বলা হয়। ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে আদাবরের আরেক প্রতিষ্ঠানকে সিএম লাইসেন্স না থাকায় এক লাখ টাকা জরিমানা হয়। বাজারের দর ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬: প্রাণ ফ্রুটো ম্যাংগো ২৫০ মিলি ৳২৫, ৫০০ মিলি ৳৪৫, এক লিটার ৳৮০; ফ্রুটিকা এক লিটার ৳৯০; শেজান এক লিটার ৳৮৫। এই দামের ভেতরেই ১৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক ঢোকানো আছে।
আয়-ব্যয়ের হিসাব
| খাত | পরিসর | সূত্র | সংশোধন পাঠান |
|---|---|---|---|
| মাসিক চলতি মূলধন | ৳৩,৩০,০০০ – ৳১৯,০০,০০০ | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| বিক্রয় মূল্য | ৳২৫ – ৳৯০ / একক | বাজারদর | |
| পরিবর্তনশীল খরচ | ৳১৪ – ৳৪০ / একক | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| মোট লাভের হার | ৪৪% – ৫৬% | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| প্রথম বিক্রি পর্যন্ত সময় | ৯০ – ১৮০ দিন | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| খরচ উঠে আসার সময় | ১৪ – ২৪ মাস | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| নগদ চক্র | ২০ – ৪৫ দিন | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| অপচয় ও ক্ষতির হার | ৩% – ৭% | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা | ১,০০০ – ৪,০০০ | সম্পাদকীয় অনুমান |
শুরু করতে যা লাগবে
- প্রক্রিয়াকরণের কেটল বা প্যাশ্চারাইজার, ছাঁকনি, ভরার ও সিল করার যন্ত্র, তারিখ ছাপার যন্ত্র, ওজন ও পরিমাপের যন্ত্র — এবং নিজস্ব ছোট পরীক্ষাগার, কারণ আবেদনের সঙ্গে পরীক্ষণ যন্ত্রপাতির তালিকা দিতে হয়। এসব যন্ত্রের দর এই গবেষণায় যাচাই করা যায়নি।যন্ত্রপাতি
- ফল বা ফলের পাল্প, চিনি, অনুমোদিত রং-ফ্লেভার-প্রিজারভেটিভ, আর বোতল ও লেবেল। ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে চিনির খুচরা দর ছিল ৳১১০–১১৫ কেজি।শুরুর মাল
- মোড়কজাতকরণ পণ্যের নিবন্ধন সনদ — বিএসটিআই মেট্রোলজি উইং। ভ্রাম্যমাণ আদালত সিএম লাইসেন্সের সঙ্গে এটিও যাচাই করে; না থাকলে আলাদা জরিমানা হয়।লাইসেন্স
- ট্রেড লাইসেন্স — সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভা। ফরম ৳১০, লাইসেন্স বই ৳৫০, আদর্শ কর ৳৩০, স্ট্যাম্প ৳১৫০–৩০০, লাইসেন্স ফি ৳১০০–৬০,০০০; ৩–৫ কার্যদিবস।লাইসেন্স
- বিএসটিআই সার্টিফিকেশন মার্কস (সিএম) লাইসেন্স — বোতলজাত পানীয় বাজারজাত করতে বাধ্যতামূলক। নতুন আবেদন ফি ৳১,০০০, নবায়ন আবেদন ফি ৳১,০০০। সিএম ফি: ফল জাতীয় পণ্যে বাৎসরিক উৎপাদনমূল্যের (এক্স ফ্যাক্টরি মূল্য) ০.০৭% হারে, সর্বনিম্ন ৳৩,০০০ ও সর্বোচ্চ ৳৩০,০০,০০০; অন্যান্য পণ্যে ০.১০%, সর্বনিম্ন ৳৩,৫০০ ও সর্বোচ্চ ৳৩৫,০০,০০০। সব ফির সঙ্গে ১৫% ভ্যাট প্রযোজ্য।লাইসেন্স
- বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের নিবন্ধন — নিরাপদ খাদ্য (নিবন্ধন ও লাইসেন্স প্রদান) প্রবিধানমালা, ২০২৬। জুস বার ও প্যাকেটজাত খাদ্য উৎপাদকের জন্য বাধ্যতামূলক: নিবন্ধন ৳১,০০০ নতুন, ৳৫০০ নবায়ন, মেয়াদ তিন বছর; প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স ৳১,০০০–৫,০০০।লাইসেন্স
- সিএম আবেদনের সঙ্গে জমা দেওয়ার কাগজ (খাদ্যপণ্য): হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্সের সত্যায়িত ফটোকপি; শিল্প-নকশা বা ট্রেডমার্ক রেজিস্ট্রেশনের সত্যায়িত ফটোকপি; ভ্যাট/টিআইএন সনদ; প্রিমিসেস লাইসেন্স ও কর্মচারীর স্বাস্থ্যসনদ; পরীক্ষণ যন্ত্রপাতির তালিকা; কারখানার যন্ত্রপাতির তালিকা; ফ্যাক্টরি লে-আউট ও প্রসেস ফ্লো-চার্ট; এবং বিএসটিআইয়ের শর্ত অনুযায়ী পূর্ণ লেবেল।লাইসেন্স
- বিডিএস মান ধরে রাখার মতো মান নিয়ন্ত্রণ — প্রতি ব্যাচের রেকর্ড রাখা, নমুনা রেখে দেওয়া আর পরীক্ষার ফল লিখে রাখা। পরিদর্শনে এই রেকর্ডই দেখতে চাওয়া হয়।দক্ষতা
- ফল বা পাল্পের সরবরাহকারী, বোতল ও ক্যাপের কারখানা, লেবেল ছাপার প্রেস, আর অনুমোদিত খাদ্য-উপাদানের আমদানিকারক।সরবরাহকারী
- আলাদা ভরার ঘরসহ কারখানা — কাঁচামাল, প্রক্রিয়াকরণ, ভরা, মোড়ক ও গুদাম আলাদা। ধোয়া যায় এমন মেঝে-দেয়াল, নিরাপদ পানির উৎস, আর পরিদর্শনের সময় দেখানোর মতো পরিচ্ছন্নতার রেকর্ড রাখতে হয়।কাজের জায়গা
কাজের ধাপ
- 1শুরুতেই ঠিক করুন আপনি 'ফলের রস' বানাবেন না 'ফ্রুট ড্রিংক'। দুটোর বাংলাদেশ মান আলাদা, লেবেল আলাদা, আর সিএম লাইসেন্সের আবেদনও পণ্যভেদে আলাদা ফরমে করতে হয়।
- 2ব্র্যান্ডের নাম ঠিক করে ট্রেডমার্ক বা শিল্প-নকশার নিবন্ধন শুরু করুন — সিএম লাইসেন্সের আবেদনের সঙ্গে এর সত্যায়িত ফটোকপি লাগবেই। এই কাজ সবচেয়ে বেশি সময় নেয়, তাই সবার আগে ধরুন।
- 3ট্রেড লাইসেন্স নিন, এনবিআর থেকে টিআইএন ও ভ্যাট নিবন্ধন করান, আর কারখানার প্রিমিসেস লাইসেন্স ও কর্মচারীদের স্বাস্থ্যসনদ জোগাড় করুন — সিএম আবেদনের কাগজের তালিকায় এগুলো আছে।
- 4কারখানার লে-আউট, প্রসেস ফ্লো-চার্ট, উৎপাদনের যন্ত্রপাতির তালিকা আর পরীক্ষণের যন্ত্রপাতির তালিকা তৈরি করুন। এগুলো ছাড়া আবেদন জমাই নেওয়া হয় না।
- 5মোড়ক ছাপানোর আগে বিএসটিআইয়ের লেবেল-শর্ত মিলিয়ে নিন: পণ্যের নাম ও ব্র্যান্ড, গ্রেড/টাইপ/সাইজ, ওজন বা পরিমাণ, কোড বা ব্যাচ নম্বর, উপাদান, উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ, উৎপাদকের নাম-ঠিকানা, সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য, আর সংশ্লিষ্ট বিডিএস নম্বরসহ মান চিহ্ন — সবই বাংলায়।
- 6লেবেলে রং, ফ্লেভার, প্রিজারভেটিভ ও কৃত্রিম মিষ্টির সুনির্দিষ্ট নাম বা কোড লিখতে হবে — খাদ্য ও পানীয় পণ্যের ক্ষেত্রে এটি বিএসটিআইয়ের আলাদা শর্ত।
- 7বিএসটিআই প্রধান কার্যালয় বা আপনার বিভাগীয়/আঞ্চলিক অফিসের 'ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টারে' ফরম, কাগজপত্র আর ৳১,০০০ আবেদন ফি জমা দিন।
- 8কারখানা পরিদর্শন ও নমুনা পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত থাকুন, আর পাস করার পর সিএম ফি দিন — ফল জাতীয় পণ্যে বছরে কারখানা-মূল্যের ০.০৭ শতাংশ, সর্বনিম্ন ৳৩,০০০। সব ফির সঙ্গে ১৫ শতাংশ ভ্যাট।
- 9মোড়কজাতকরণ নিবন্ধন সনদও নিন। বিএসটিআইয়ের ভ্রাম্যমাণ আদালত সিএম লাইসেন্স আর মোড়ক নিবন্ধন — দুটোই একসঙ্গে যাচাই করে।
- 10লাইসেন্স হাতে না আসা পর্যন্ত বিক্রি বা প্রচার কোনোটাই করবেন না — ফেসবুক পেজেও নয়। ৩১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে এক প্রতিষ্ঠানকে জরিমানার সঙ্গে লাইসেন্স না পাওয়া পর্যন্ত পেজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।
- 11দাম ঠিক করার সময় ফলের রস ও ফ্রুট ড্রিংকসের উপর ১৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক ধরে নিন (২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ১০ থেকে বাড়িয়ে ১৫ করা হয়েছে), আর তার উপর ভ্যাট।
- 12গরমের মাসগুলোতে (চৈত্র থেকে ভাদ্র) বিক্রি সবচেয়ে বেশি। ওই সময়ের ফল, চিনি ও বোতলের টাকা শীতেই আলাদা করে রাখুন।
মৌসুম
- জানুকম
- ফেব্রুস্বাভাবিক
- মার্চবেশি
- এপ্রিলবেশি
- মেবেশি
- জুনবেশি
- জুলাইবেশি
- আগস্টস্বাভাবিক
- সেপ্টেস্বাভাবিক
- অক্টোকম
- নভেকম
- ডিসেকম
কোন জেলায় ভালো
- খুব উপযোগীচট্টগ্রাম · বিএসটিআইয়ের বিভাগীয় অফিস আছে, বন্দর দিয়ে বোতল-ক্যাপ ও খাদ্য-উপাদান আমদানি সহজ, আর শহরের বাজারও বড়।
- খুব উপযোগীঢাকা · বিএসটিআই প্রধান কার্যালয় ও ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার এখানেই, তাই লাইসেন্স ও নমুনা পরীক্ষার কাজ সবচেয়ে দ্রুত হয়; সেই সঙ্গে দেশের সবচেয়ে বড় ভোক্তা বাজার ও পরিবেশক নেটওয়ার্ক।
- খুব উপযোগীরাজশাহী · আমের বলয়ের কেন্দ্র আর বিএসটিআইয়ের বিভাগীয় অফিস — কাঁচামাল ও লাইসেন্সের অফিস দুটোই কাছে।
- সম্ভবচাঁপাইনবাবগঞ্জ · দেশের সবচেয়ে বড় আমের এলাকা, মৌসুমে কাঁচামাল সবচেয়ে সস্তা; তবে নিকটতম বিএসটিআই অফিস রাজশাহীতে।
- সম্ভবকুমিল্লা · বিএসটিআইয়ের আঞ্চলিক কার্যালয় আছে, আর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের হোটেল ও দোকানে ঠান্ডা পানীয়ের নিয়মিত চাহিদা।
- সম্ভবদিনাজপুর · লিচুর এলাকা আর বিএসটিআইয়ের আঞ্চলিক কার্যালয় আছে, তাই নমুনা ও পরিদর্শনের কাজ স্থানীয়ভাবে করা যায়।
- সম্ভবগাজীপুর · বিএসটিআইয়ের আঞ্চলিক কার্যালয় আছে, শিল্প এলাকা হওয়ায় বোতল-লেবেলের সরবরাহকারী কাছে, আর ঢাকার বাজার এক ঘণ্টার পথ।
- সম্ভবখুলনা · বিভাগীয় বিএসটিআই অফিস আছে, আর দক্ষিণ-পশ্চিমের জেলাগুলোয় পরিবেশনের কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে।
- সম্ভবনারায়ণগঞ্জ · বিএসটিআইয়ের আঞ্চলিক কার্যালয় আছে আর ঢাকার লাগোয়া পাইকারি বাজারে সহজে মাল পৌঁছানো যায়।
- সম্ভবসিলেট · বিভাগীয় বিএসটিআই অফিস আছে, আর প্রবাসী পরিবারের ক্রয়ক্ষমতার কারণে দামি প্যাকেটজাত পানীয়ের চাহিদা তুলনামূলক বেশি।
ঝুঁকি ও সাবধানতা
- বেশিআইনি বাধ্যবাধকতা: সিএম লাইসেন্স ছাড়া বিক্রি করলে ভ্রাম্যমাণ আদালত ধরে, আর জরিমানা ছোট নয়। বিএসটিআইয়ের নিজের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ৩১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে তেজগাঁওয়ের 'মিল্কি ওয়ে'কে বোতলজাত তরল দুধের সিএম লাইসেন্স ও মোড়ক নিবন্ধন না থাকায় ৳৩০,০০০ জরিমানা করা হয়, সাত কার্যদিবসের মধ্যে আবেদন করতে বলা হয়, আর লাইসেন্স না পাওয়া পর্যন্ত তাদের ফেসবুক পেজ বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়। ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে আদাবরের একটি প্রতিষ্ঠানকে সিএম লাইসেন্স না থাকায় এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। অর্থাৎ অনলাইনে ছোট করে শুরু করলেও ছাড় নেই।
- বেশিআইনি বাধ্যবাধকতা: লাইসেন্সের টাকা কম, কিন্তু কাগজের সারি লম্বা আর একটাতেও আটকে গেলে পুরোটা থেমে থাকে। সিএম আবেদনের সঙ্গেই ট্রেডমার্ক বা শিল্প-নকশার নিবন্ধন সনদ চাই, যা নিতে মাসের পর মাস লাগে; তার আগে প্রিমিসেস লাইসেন্স, স্বাস্থ্যসনদ, ভ্যাট সনদ, লে-আউট ও প্রসেস ফ্লো-চার্ট। এই সময়টায় কারখানার ভাড়া ও কর্মচারীর বেতন চলতেই থাকে, অথচ এক বোতলও বিক্রি করা যায় না।
- মাঝারিঅন্যান্য: করের বোঝা সরাসরি দামে বসে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ফলের রস ও ফ্রুট ড্রিংকসের উপর সম্পূরক শুল্ক ১০ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়। প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান তখন বলেছিলেন, এতে ২০ টাকার জুস ২৫ টাকা হয়ে যাবে। ছোট উৎপাদকের ক্ষেত্রে এই বাড়তি দাম ক্রেতার কাছে চাপানো আরও কঠিন, কারণ দোকানে পাশেই ৳২৫-এর ব্র্যান্ডেড প্যাক থাকে।
- বেশিনির্ভরশীলতা: বাজারটা কয়েকটি বড় ব্র্যান্ডের দখলে — প্রাণ, ফ্রুটিকা (আকিজ), শেজান। এদের এক লিটারের দর ৳৮০–৯০ আর ২৫০ মিলির দর ৳২৫–৩০, আর এই দাম বড় আকারে উৎপাদনের উপর দাঁড়ানো। ছোট কারখানা একই দামে দিতে গেলে হয় মান নামাতে হয়, নয় লোকসান দিতে হয়।
- মাঝারিচাহিদা: চাহিদা গরমের কয়েক মাসে ঠাসা। শীতে বিক্রি পড়ে যায়, অথচ কারখানার ভাড়া, বিদ্যুৎ, কর্মচারীর বেতন আর সিএম লাইসেন্সের বাৎসরিক ফি বারো মাসই দিতে হয়।
সূত্র
- সংগ্রহ: ১৬ সেপ, ২০২৬
যে হিসাবের সূত্র: শুরুর পুঁজি, প্রথম বিক্রি পর্যন্ত সময় · বাংলাদেশ
- সংগ্রহ: ১৬ সেপ, ২০২৬
যে হিসাবের সূত্র: শুরুর পুঁজি · বাংলাদেশ
সিটি কর্পোরেশন থেকে ট্রেড লাইসেন্স প্রাপ্তির ধাপ সমূহ
সংগ্রহ: ১৬ সেপ, ২০২৬যে হিসাবের সূত্র: শুরুর পুঁজি · বাংলাদেশ
- সংগ্রহ: ১৫ সেপ, ২০২৬
যে হিসাবের সূত্র: শুরুর পুঁজি · ঢাকা মহানগর — সিপাহীবাগ, মিরপুর-৬, মোহাম্মদপুর টাউন হল, নিউমার্কেট, রামপুরা, মহাখালী বাজার
All food businesses now need safety registration
সংগ্রহ: ২২ জুল, ২০২৬যে হিসাবের সূত্র: শুরুর পুঁজি · বাংলাদেশ
কী বদলেছে
এখনো কোনো সংশোধন প্রকাশ হয়নি।
প্রশ্নোত্তর
এখনো কেউ প্রশ্ন করেননি। আপনিই প্রথম প্রশ্ন করুন।
একই রকম আরও ব্যবসা
খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণচা প্যাকেজিং ও ব্র্যান্ডিং
নিলাম থেকে খোলা চা কিনে মিশিয়ে নিজের নামে প্যাকেট করা। ২০২৬-২৭ নিলামবর্ষে চট্টগ্রামে গড় দর ৳২৮০.৮৮ কেজি, আর দোকানে প্যাকেট চা ৳৪২৮–৬৫০।
- পুঁজি
- ৳৫ লাখ – ৳৫০ লাখ
- জনবল
- ২ – ১৫ জন
- প্রথম আয়
- ৪৫ – ১০০ দিন
খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণচালের মিল
ধান কিনে সেদ্ধ-শুকিয়ে চাল করে বিক্রি। ২৪ হাজার কেজি ধানে চাল হয় ১৫ হাজার কেজি, আর তুষ-কুঁড়া-খুদ বেচে চালের কেজিতে আরও ৳৬.৪৫ ফেরত আসে।
- পুঁজি
- ৳৫ লাখ – ৳৫০ লাখ
- জনবল
- ৪ – ২০ জন
- প্রথম আয়
- ৩০ – ১২০ দিন
খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণবিস্কুট ও চিপস তৈরি
ময়দা, চিনি ও তেল দিয়ে বিস্কুট, টোস্ট ও চিপস তৈরি ও প্যাকেট করে বিক্রি। বিএসটিআই সনদ বাধ্যতামূলক, আর দোকানের বাকির চক্রই এই ব্যবসার আসল বাধা।
- পুঁজি
- ৳৪ লাখ – ৳৪০ লাখ
- জনবল
- ৪ – ৩০ জন
- প্রথম আয়
- ৪৫ – ১০০ দিন
খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণফ্রোজেন পরোটা ও সমুচা
কাঁচা পরোটা, সমুচা ও শিঙাড়া বানিয়ে জমিয়ে প্যাকেটে বিক্রি। খুচরায় পরোটা পিস ৳১২.৫–১৯, মিনি সমুচা ৳৮.৬–৯.৪। কারখানা থেকে দোকান পর্যন্ত ঠান্ডার শিকলই এই ব্যবসার আসল শর্ত।
- পুঁজি
- ৳৩ লাখ – ৳১৫ লাখ
- জনবল
- ৩ – ১৫ জন
- প্রথম আয়
- ৪৫ – ৯০ দিন
