৩০ বছরে তালের ব্যবসা: ৪০ দিনে মুনাফা ৩–৪ লাখ টাকা, কোনো বছর লোকসান হয়নি
হবিগঞ্জের এক কৃষক চুক্তিতে তালগাছ কিনে ফল পেড়ে বাজারে ও পাইকারদের কাছে বিক্রি করেন। ভাদ্র মাসের প্রায় ৪০ দিনের মৌসুমেই তাঁর আয় ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা।
হবিগঞ্জের সুলতানশী গ্রামের ৫৩ বছর বয়সী এক কৃষক ৩০ বছর ধরে তাল উৎপাদন ও তালের ব্যবসা করছেন। দাদার লাগানো ছয়টি তালগাছে ফল আসতে শুরু করলে বাজারে বেচে ভালো টাকা পান, সেখান থেকেই ব্যবসার চিন্তা আসে। ভাদ্র মাসের আগেই চুনারুঘাটের পাহাড়ি এলাকা থেকে চুক্তিতে গাছ কেনেন। প্রতি বছর এক থেকে দুই শ গাছের ফল কেনেন, ফলন অনুযায়ী একেক গাছের ফলের দাম ২ থেকে ৩ হাজার টাকা। একেকটি গাছ থেকে বিক্রি হয় ৫–৬ হাজার টাকার, কোনো গাছে দুই থেকে তিন শ তাল মেলে। আকার অনুযায়ী প্রতিটি তাল ২০ থেকে ৯০ টাকা, পাইকারেরা আবার বিক্রি করেন ৩০ থেকে ১২০ টাকায়। শহরের কৃষক বাজারে একদিন পরপর দুই-তিন শ তাল আনেন, আর বানিয়াচং, নবীগঞ্জসহ নানা এলাকার পাইকার তাঁর বাড়ি থেকেও কেনেন। গাছ পাড়তে শ্রমিককে গাছপ্রতি ২০০ টাকা দিতে হয়; এ মজুরি আর গাড়িভাড়া ছাড়া খরচ তেমন নেই। ৪০ দিনেই ব্যবসা শেষ, মুনাফা ৩–৪ লাখ টাকা। কিছু তাল পচে যায়, পচা তালের বীজ প্রতিটি ১০ টাকায় বিক্রি করে বছরে আরও ৪০–৫০ হাজার টাকা আসে। এখন তেঁতুল, বেল, আম, জাম্বুরাসহ অন্য ফলও একইভাবে কিনে বেচেন।
যা শেখার আছে
- ১.গাছ চুক্তিতে কিনে নিজে ফল পেড়ে বেচলে বাগানের মালিক না হয়েও ফলের ব্যবসা করা যায়।
- ২.মৌসুম মাত্র ৪০ দিনের, তাই আগে থেকে গাছ ঠিক করা আর পাইকার ও বাজারের যোগাযোগ রাখা জরুরি।
- ৩.পচে যাওয়া ফলের বীজ বিক্রি করে লোকসান কিছুটা পুষিয়ে নেওয়া যায়, আর অন্য মৌসুমি ফল যোগ করে আয়ের পরিধি বাড়ানো যায়।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
