কলমে লাভ ৪ টাকা, খাতায় ৫ — ১০ হাজারের বিক্রিতে হাতে থাকে ৩–৪ হাজার
২০২৩ সালের মার্চে খাতা বানানো শুরু, নভেম্বরে কাগজের কলম। এখন মাসে ৯,০০০–১০,০০০ টাকার বিক্রি, ৫০০ টাকার দোকানভাড়া ও অন্যান্য খরচ বাদে হাতে থাকে ৩,০০০–৪,০০০ টাকা।
গাইবান্ধা সদরের উত্তর ফলিয়া গ্রামের ২৯ বছর বয়সী এই উদ্যোক্তা জন্ম থেকেই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী; ব্রেইলে দশম শ্রেণি পর্যন্ত, তারপর শ্রুতিলেখক আর অডিওর সাহায্যে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত পড়েছেন। টাকার টানে পড়া বন্ধ হওয়ার মুখে ২০২৩ সালের মার্চে খাতা বানানো শুরু করেন, প্রথম দিকে মাসে আয় ছিল হাজার টাকার মতো, তাতেই নিজের পড়ার খরচ চালিয়েছেন। ওই বছরের অক্টোবরে কাগজের কলমের কথা শুনে ফেসবুকে যশোরের এক নারী উদ্যোক্তাকে খুঁজে বের করে ১০০টি কলম কিনে পদ্ধতিটা শিখে নেন, আর নভেম্বর থেকে নিজেই কলম বানাতে শুরু করেন। একটি কলম বানাতে খরচ ৬ টাকা, বিক্রি ১০ টাকা; খাতায় খরচ ১৫ টাকা, বিক্রি ২০ টাকা। দিনে তৈরি হয় প্রায় ৫০টি কলম আর ১০০টি খাতা, মাসে ৫০০ টাকা ভাড়ার দোকান থেকে স্কুল আর দোকানে পাইকারি বিক্রি হয় ৯,০০০–১০,০০০ টাকার, হাতে থাকে ৩,০০০–৪,০০০ টাকা — সংসার এখনো মূলত বাবার মুদিদোকানেই চলে। তাঁর কথায়, "মূলধনের অভাবে চাহিদা অনুযায়ী কলম ও খাতা তৈরি করতে পারছি না"।
যা শেখার আছে
- ১.পিসপ্রতি ৪–৫ টাকা লাভ ভালোই, কিন্তু সংখ্যা কম হলে সংসার চলে না — এখানে ঘাটতিটা পণ্যে নয়, মূলধনে
- ২.নতুন পণ্য শেখার সস্তা উপায় হলো যিনি আগে থেকে বানাচ্ছেন তাঁর কাছ থেকে মাল কিনে পদ্ধতিটা দেখে নেওয়া — ১০০টি কলম কিনেই কাজটা শেখা হয়েছে
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে এবং পরিচয় গোপন রেখে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। আপনিই প্রথম লিখুন।
