একদিনে প্রায় ৪০০ হাঁস মরে লোকসান, সৌদি থেকে আবার শুরু; এখন সাড়ে ৭০০ হাঁস, দিনে ২–৩ হাজার টাকা লাভ
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জের এক যুবক ২০২০ সালে হাঁস পালন শুরু করে রোগে একদিনে প্রায় ৪০০ হাঁস হারান। সৌদি আরবে গিয়ে ইউটিউব দেখে শিখে ভিডিও কলে পরিবারকে দিয়ে আবার খামার চালু করেছেন, এখন দৈনিক লাভ ২–৩ হাজার টাকা।
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জের এক যুবক গ্রামের দরিদ্র পরিবারে জন্ম নিয়ে পঞ্চম শ্রেণির পর পড়াশোনা ছেড়ে দেন। ২০২০ সালে সংসারের জন্য হাঁস পালন শুরু করেন। প্রথম দফায় কয়েক মাস পালনের পর এলাকার খাল-বিল শুকিয়ে যাওয়ার সময় হাঁস বেশ লাভে বিক্রি করেন। সাহস করে এরপর একসঙ্গে সাত শ হাঁসের বাচ্চা কেনেন। হাঁসগুলোর ডিম দেওয়ার সময় হলে অজ্ঞাত রোগে একদিনেই প্রায় চার শ হাঁস মারা যায়; বাকি হাঁস লোকসানে বিক্রি করতে হয়। একই সময়ে বাবা অসুস্থ হয়ে পায়ের একটি আঙুল কাটাতে হয়, ঋণে ডুবে গিয়ে ২০২২ সালে তিনি সৌদি আরবে চলে যান। সেখান থেকে ইউটিউব দেখে হাঁস পালনের নিয়ম, রোগের চিকিৎসা ও খাবার ব্যবস্থাপনা শেখেন, তারপর আবার খামার শুরু করেন: পিরোজপুরের এক খামারির কাছ থেকে ১০০ হাঁস ৪০ হাজার টাকা দরে ৪৬০টি এবং পটুয়াখালীর পাখিমারা এলাকা থেকে আরও ৩০০ হাঁস কেনেন। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী এখন খামারে প্রায় সাড়ে ৭০০ হাঁস, প্রতিদিন তিন থেকে সাড়ে চার শ ডিম পাওয়া যায়, যা পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। সব খরচ বাদে দিনে দুই থেকে তিন হাজার টাকা লাভ থাকে। মা-বাবা ও স্ত্রী খামারের কাজ করেন, আর তিনি ভিডিও কলে খাবার ও ওষুধের নির্দেশ দেন। ঋণ শোধ করে কিছু টাকা জমিয়ে দেশে ফিরে বড় খামার করার ইচ্ছা তাঁর।
যা শেখার আছে
- ১.ডিম দেওয়ার বয়সে রোগে এক দিনে বড় ক্ষতি হতে পারে; রোগ চেনা ও চিকিৎসার জ্ঞান আগে শিখে নিন।
- ২.একসঙ্গে অনেক বাচ্চা না কিনে ধাপে ধাপে বাড়ানো ঝুঁকি কমায়।
- ৩.ঋণ ও চিকিৎসার চাপে ব্যবসা ধাক্কা খেতে পারে; পরিবারের হাতে কাজ ভাগ করে দূর থেকেও খামার চালানো সম্ভব হয়েছে।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
