২ হাজার টাকায় বিদেশি পর্যটকের ট্যুর, প্রথম ট্যুরে ৮৫০ ডলার, এখন মাসে ১০–১৫ অতিথি
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী দুই হাজার টাকায় ফেসবুক পেজ ও ওয়েবসাইট খুলে বিদেশি পর্যটকদের জন্য ট্যুর শুরু করেন। বারবার বুকিং বাতিলের পর ২০১৯ সালে প্রথম অতিথি আসে; এখন মাসে ১০–১৫ জন অতিথি, চারজন খণ্ডকালীন গাইড।
২০১৮ সালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাস আর আহসান মঞ্জিলে বিদেশি পর্যটকদের সঙ্গে গাইড দেখে ঠিক করেন, তিনিও এ কাজ করবেন। বিদেশি পর্যটক নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠানে সিভি পাঠিয়ে সাড়া না পেয়ে নিজেই শুরু করেন: ঢাকার জনপ্রিয় জায়গা ঘুরে ইতিহাস পড়েন, তারপর ফেসবুক পেজ, গ্রুপ আর ওয়েবসাইট বানিয়ে দুই হাজার টাকায় একটি ট্যুর প্রতিষ্ঠান চালু করেন। অনেক দিন কোনো সাড়া আসেনি; ভারতের এক পর্যটক আর মালয়েশিয়ার দুজনের বুকিং বাতিল হয়। হতাশ হয়ে তিনি একটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানে চাকরি নেন আর ছুটির দিনে দেশি পর্যটকদের নিয়ে সাজেক, রাঙামাটি, সেন্ট মার্টিন ঘোরান। ২০১৯ সালের ৯ এপ্রিল নেপালের এক ট্যুর গাইড তাঁর প্রথম বিদেশি অতিথি হয়ে আসেন; সাত দিনে ঢাকা, সোনারগাঁ, রাজশাহী, নওগাঁ ও বগুড়া ঘুরিয়ে তিনি পান ৮৫০ ডলার। সেই অতিথির মাধ্যমেই আসে পরের অতিথি। ২০২৩ সালের লেখায় তিনি জানান, এখন প্রতি মাসে ১০–১৫ জন অতিথি পান, মৌসুমে আরও বেশি; সঙ্গে আছেন চারজন খণ্ডকালীন গাইড। চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন — গাইড হিসেবে আয় আগের বেতনের কয়েক গুণ।
যা শেখার আছে
- ১.বিদেশি অতিথির ব্যবসায় প্রথম বুকিং আসতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে; সে সময় চালানোর মতো অন্য আয় রাখুন।
- ২.সন্তুষ্ট অতিথির সুপারিশই নতুন অতিথি আনে — প্রথম কয়েকটি ট্যুরে সবচেয়ে বেশি যত্ন দিন।
- ৩.স্থায়ী কর্মী না রেখে খণ্ডকালীন গাইড দিয়ে মৌসুমের চাপ সামলানো যায়।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে এবং পরিচয় গোপন রেখে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। আপনিই প্রথম লিখুন।
