৬০ হাজার টাকায় ১০০ কুলগাছ, মৌসুমে আয় প্রায় ৯ লাখ টাকা
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় এক প্রবাসী শখে পুকুরপাড়ে ১০০টি বলসুন্দরী কুলগাছ লাগান। প্রথম বছরের খরচ ছিল ৬০ হাজার টাকা, এখন এক মৌসুমে কুল বেচে আয় প্রায় ৯ লাখ টাকা।
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার এক প্রবাসী ২০১৮ সালের শেষ দিকে ছুটিতে দেশে এসে ইউটিউবে ভিডিও দেখে শখের বশে পারিবারিক পুকুরের পাড়ে ১০০টি বলসুন্দরী কুলগাছের চারা লাগান। এক একর পুকুরের পাড়ের পরিত্যক্ত পলিমাটিতে এই বাগান। চারা এসেছে নওগাঁ থেকে, প্রতিটির দাম ৩৫ টাকা। চারা কেনা, জমি তৈরি ও শ্রমিকের মজুরিতে প্রথম বছরে খরচ হয় ৬০ হাজার টাকা। এক বছর পর গাছে ফল আসতে শুরু করে। প্রথম দিকে উৎপাদন কম ছিল, তাই তা পরিবারের চাহিদা মেটাত ও আত্মীয়-বন্ধুদের উপহার যেত। ২০২২ সাল থেকে বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি শুরু। ডিসেম্বর-জানুয়ারি দুই মাসে প্রতিদিন গড়ে আড়াই মণ কুল বিক্রি হয়, কেজি ১৫০–১৭০ টাকা। এক মৌসুমে আয় প্রায় ৯ লাখ টাকা। গাছ পুকুরপাড়ে হওয়ায় সেচ সহজ, খরচ কম। ক্রেতারা বাগানে এসেই কুল কিনে নেন, বাজারে যেতে হয় না; পাখির হাত থেকে বাঁচাতে গাছে জাল দেওয়া আছে। ছয় ভাইয়ের কেউ না কেউ ছুটিতে থেকে বাগান দেখেন। গত বছর বাড়ির পাশে আরও ২৪০ শতক জায়গায় ৫০০টি বলসুন্দরী চারা লাগানো হয়েছে, সেখানেও ফল আসছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, এলাকায় বাজারে চাহিদা বেশি এমন জাত বেছে নেওয়া ভালো।
যা শেখার আছে
- ১.পুকুরপাড়ের পতিত জমি আর কাছের জলের উৎস সেচের খরচ কমায়; বড় জমি কেনার দরকার হয়নি।
- ২.এলাকার বাজারে যে জাতের চাহিদা বেশি সেটি বেছে নিন; এখানে মিষ্টি বলসুন্দরী কুলের কদর বেশি।
- ৩.বাগানে ক্রেতা এসে কিনলে বাজারে নেওয়ার খরচ ও ঝামেলা বাঁচে; পাখি ঠেকাতে জাল দিয়ে ফসল রক্ষা করুন।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
