মূল অংশে যান
  • এই সাইটের তথ্য কপিরাইটভুক্ত — অনুমতি ছাড়া কপি করা নিষেধ
  • আমরা কোনো টাকার লেনদেন করি না
  • টাকা নিয়ে কোনো ব্যবসার প্রচার করি না
  • ভুল পেলে জানান — যাচাই করে ঠিক করি
আরও গল্প
যা শিখেছিপ্রথম আলোর প্রতিবেদনে রাজবাড়ী সদরের একজন পাটচাষি

বিঘায় খরচ ২৯ হাজার, মণে দাম ২ হাজারও মিলছে না

রাজবাড়ীতে এক বিঘা পাট তুলতে খরচ প্রায় ২৯,০০০ টাকা, ফলন ৮–১০ মণ, সবচেয়ে ভালো পাটের দর ২,৪০০ টাকা — বিঘাপ্রতি লোকসান প্রায় ৫,০০০ টাকা।

রাজবাড়ী সদরের বক্তারপুর গ্রামের এই চাষি প্রতিবছরই পাট করেন। এবার সার, কীটনাশক আর শ্রমিকের খরচ বেড়ে এক বিঘায় (৩৩ শতক) খরচ দাঁড়ায় প্রায় ২৯,০০০ টাকা, আর দাম গেছে উল্টো দিকে — গত বছর তিনি মণ ৩,০০০ টাকায় বিক্রি করেছিলেন, এবার হাটে ৫ মণ পাট নিয়ে গিয়ে শুনেছেন, "প্রতি মণ পাট দুই হাজার টাকার বেশি কেউ বলছে না।" জাগ দেওয়ার সময় পানি না থাকায় আঁশের রং নষ্ট হয়ে মান নেমে গেছে; সবচেয়ে ভালো পাটই বিক্রি হচ্ছে ২,৪০০ টাকা মণে, ব্যবসায়ীরা কিনছেন ১,৬০০ থেকে বড়জোর ২,৪০০ টাকায়। বিঘায় ৮–১০ মণ ফলন ধরলে লোকসান দাঁড়ায় প্রায় ৫,০০০ টাকা; আরেকজন চাষি বিঘাপ্রতি লোকসান ধরেছেন ৫,০০০–৭,০০০ টাকা। তিনি ধার করে পাট লাগিয়েছিলেন, সেই ধার এখন লোকসানের বিক্রি থেকেই শোধ করতে হবে। প্রধান পাট পরিদর্শক বলছেন, জাগের পানির অভাবে সারা অঞ্চলেই মান পড়েছে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে রপ্তানি কমেছে, আর দেশের বাজারের চাহিদার চেয়ে বেশি পাট আবাদ হয়েছে। জেলায় এবার পাট হয়েছে ৪৯,০৫০ হেক্টরে, গত বছরের চেয়ে ৭৭০ হেক্টর কম।

যা শেখার আছে

  1. ১.জাগের পানি ফসলেরই অংশ — শুকনো মৌসুমে আঁশের মান নেমে যায়, আর ফলন নয়, ওই মানই দাম ভেঙে দেয়
  2. ২.পাটের দাম এক বছরে এক-তৃতীয়াংশ কমতে পারে, অথচ খরচ শুধু বাড়ে — দাম জানার আগে ধার করে ফসল লাগালে সেই ধার লোকসান থেকেই শোধ করতে হয়

যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে এবং পরিচয় গোপন রেখে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।

আলোচনা

এখনো কেউ কিছু লেখেননি। আপনিই প্রথম লিখুন।