২০০৯ সালে অভাবে সেলাই শুরু, এখন ৭০০–৮০০ নারীর কাজ ও মাসে ৪০–৪৫ হাজার টাকা আয়
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর এক নারী ঘরে বসে সুই-সুতার কাজ শুরু করে এখন শত শত নারীকে কাজ দেন। নকশিকাঁথা ও পোশাক ফেসবুকে অর্ডার নিয়ে ঢাকাসহ বড় শহরে বিক্রি করেন।
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী পৌরসভার নুনিয়াগাড়ির ৫০ বছর বয়সী এক নারী ২০০৯ সালে চরম অভাব ও স্বামীর কম আয়ের মধ্যে সেলাইয়ের কাজ শুরু করেন। বাড়িতে বসে থ্রি-পিস, ওড়না, পর্দা, পাঞ্জাবি, বেডশিট ও নকশিকাঁথায় সুই-সুতার কাজ করতেন। ২০১৮ সালে পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের প্রকল্পে দুই মাসের সেলাই প্রশিক্ষণ নেন। কাজের চাপ বাড়লে আশপাশের নারীদের যুক্ত করেন, শুরু হয় চুক্তিভিত্তিক কাজ। এখন ফেসবুক পেজে অর্ডার নেন। তাঁর উদ্যোগে ৭০০ থেকে ৮০০ নারী কাজ করেন। সব খরচ বাদে মাসিক আয় ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা। একটি নকশিকাঁথা তৈরিতে খরচ ২ থেকে ৫ হাজার টাকা, সময় প্রায় ১৫ দিন, বিক্রি হয় আড়াই হাজার থেকে সাড়ে আট হাজার টাকায়। শ্রমিকসহ থ্রি-পিসে খরচ দেড় হাজার, বিক্রি ১ হাজার ৮০০; পাঞ্জাবিতে খরচ ২ হাজার, বিক্রি আড়াই হাজার; বেডশিটে খরচ আড়াই হাজার, বিক্রি তিন হাজার; ওড়নায় খরচ ১ হাজার ২০০, বিক্রি দেড় হাজার; শাড়িতে খরচ ২ হাজার ৬০০, বিক্রি ৩ হাজার টাকা। তাঁর কাছে কাজ শেখা নারীরা মাসে ৭ থেকে ৯ হাজার টাকা পান। ছয় শতক ভিটে ছাড়া কিছু না থাকা এই নারী এখন পাকা ঘর ও কিছু জমির মালিক, এবং গত বছর জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ‘শ্রেষ্ঠ জয়িতা’ পুরস্কার পেয়েছেন।
যা শেখার আছে
- ১.প্রশিক্ষণ নিয়ে দক্ষতা বাড়ানোর পর অন্য নারীদের চুক্তিতে যুক্ত করে কাজের পরিধি বাড়ানো সম্ভব হয়েছে।
- ২.প্রতিটি পণ্যের খরচ ও বিক্রয়মূল্যের হিসাব রাখা জরুরি; শাড়িতে প্রায় ৪০০ টাকা, থ্রি-পিসে ৩০০ টাকা পার্থক্য থাকে, আর কাঁথায় সময় লাগে ১৫ দিন।
- ৩.ফেসবুক পেজে অর্ডার নিয়ে ঢাকাসহ বড় শহরে বিক্রি করলে গ্রামে বসেই বড় বাজার ধরা যায়।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
